‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে’

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

গতকাল শনিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিনোদন সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত বাবিসাস অ্যাওয়ার্ড ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ বিনোদন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, নাগরিক ঢাকার সভাপতি এম নাঈম হোসেন, বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তাশিক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক দুলাল খান। 

আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদকে

মন্ত্রী বলেন, যে জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে না, কৃষ্টি থাকে না, যে জাতি ইতিহাস, ঐতিহ্য ধারণ করে না সে জাতি অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। এজন্য আমাদের বাঙালিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হবে। বাঙালির অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে। যদিও তথাকথিত আকাশ সংস্কৃতি আমাদের অনেক জায়গা বিপন্ন করে দিচ্ছে। সে জায়গা আমাদের শিল্পীদের অভিনয়, গানসহ অন্যান্য নৈপুণ্য দিয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুণীজনদের সম্মানিত করা, সমৃদ্ধ করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, যিনি বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে আকৃষ্ট থাকেন না তার স্বকীয়তা বিপন্ন হয়। বাংলাদেশি নাটক-চলচ্চিত্র অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বিশ্ব পরিমণ্ডলে। তবে একথাও সত্য হঠাৎ করে ব্যবসায়ের নামে, দ্রুততার সাথে জনপ্রিয়তার নামে কিছু অনাকাঙ্খিত শিষ্টাচারবর্জিত সৃষ্টিও দেখা যায়। যদিও এগুলোর আয়ুষ্কাল স্বল্পসময়ের। 

সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়

রেজাউল করিম বলেন, বাঙালিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিশেষ করে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বাংলাদেশ টিকিয়ে রাখতে গেলে সংস্কৃতি বিকাশের, সংস্কৃতির বিপ্লবের কোনও বিকল্প নেই। যখনই সংস্কৃতি মুখ থুবড়ে পড়ে তখনই উগ্রতা, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাই দৃশ্যমান শক্তি প্রয়োগ না করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্রসহ সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছেন। যতদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন শেখ হাসিনা দেশে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন সংস্কৃতি চর্চার জন্য রাষ্ট্রের সকল পৃষ্ঠপোষকতা থাকবে।

অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও কাহিনীকার ছটকু আহমেদ এবং নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদকে। এছাড়া সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //