স্বপ্ন দেখাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

ওভার দ্য টপ-সংক্ষেপে ‘ওটিটি’। করোনাকালে বিনোদনের এ মাধ্যম যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা। মুঠোফোনে নিজের সুবিধামতো সময়ে পছন্দের সিরিজ কিংবা সিনেমা দেখার সুযোগ নিয়ে এসেছে ওটিটি। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, হইচই প্রভৃতি আলোচিত ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে উঠে আসছে চরকি, বিঞ্জ, বায়োস্কোপের নাম। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা মাধ্যমটি নিয়ে ফেলতে চান স্বস্তির নিঃশ্বাস।

সময়ের আলোচিত নির্মাতা সঞ্জয় সমাদ্দার। ওয়েব প্ল্যাটফর্মে হইচই ফেলে দেন অপূর্বকে নিয়ে ‘ট্রল’ ওয়েব ফিল্ম নির্মাণ করে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘মরণোত্তম’। নির্মাণ করেছেন ওয়েব সিরিজ ‘শিকল’।

বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে সময়ের দাবি বলে মনে করেন এ আলোচিত নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘ওটিটি নতুন ট্রেন্ড। সময়ের চাহিদা মেটাচ্ছে। যারা ওয়েব ফিকশনে লগ্নি করছেন তারা ব্যবসার জায়গা ঠিক রেখে কাজ করতে পারলে, এ মাধ্যমের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। এ প্ল্যাটফর্মে কাজ করে বড় ক্যানভাসে গল্প বলা যায়। বাজেট ভালো থাকে। তাই গল্প ও বাস্তবতাকে এক সুতায় গাঁথা সহজ হয়। বলতে গেলে, ওয়েব প্ল্যাটফর্মে কাজের ব্যাপকতা বেশি।’

ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে স্বাগত জানালেও সিনেমার আবেদন ভুলছেন না সঞ্জয়। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বাংলা সিনেমা বর্তমান অবস্থা কাটিয়ে উঠবে। ভালোভাবে ফিরে আসবে। সিনেমার আবেদন অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। ওটিটি থাকবে, টেলিভিশন নাটক থাকবে, পাশাপাশি থাকবে সিনেমা।’

তরুণ নির্মাতা সাজ্জাদ খানের প্রথম সিনেমা ‘সাহস’। তিনি ওয়েব প্ল্যাটফর্মে এ সিনেমা মুক্তি দিচ্ছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ প্ল্যাটফর্ম দর্শকের জন্য আশীর্বাদ। যে কোনো বয়সের দর্শক তাদের পছন্দমতো কনটেন্ট দেখার সুযোগ পাচ্ছে। নির্মাতারাও গল্প বলার স্বাধীনতা পায়। যারা বাস্তবধর্মী গল্প বলতে চায় তাদের জন্য ভালো। সুখের কথা হলো, এ প্ল্যাটফর্মের উত্থানের ফলে টেলিভিশন নাটকের সিন্ডিকেট ভাঙছে। ওটিটি সবার জন্য উন্মুক্ত। যে চরিত্রে যাকে মানায়, তাকে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। পরিচালক ও শিল্পীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা দেখছি।’

সাজ্জাদ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “ওটিটিতে সারা বিশ্বের কনটেন্টের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের সিনেমা হলে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী দেখার সুযোগ পায়। সেন্সর বোর্ডের নানারকম বিধি-নিষেধের মুখে পড়তে হয়। ‘সাহস’ নিয়ে আমার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। তা ছাড়া একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, মানুষের মনে আনন্দ থাকলেই সিনেমাহলে যায়। জীবন যাপনের ব্যয় যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেভাবে সিনেমাহলে যাওয়া যায় না। তাই ওটিটিতে বিনোদনের সুযোগ লুফে নিচ্ছেন তারা। অল্প টাকায় অনেকগুলো কনটেন্ট দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে সিনেমার এ অবস্থা সাময়িক। আবার ভালো অবস্থানে সিনেমা চলে আসবে।” 

অভিনেত্রী এলিনা শাম্মীও মনে করেন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রায়হান রাফির ‘জানোয়ার’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন এ অভিনেত্রী। শিগগির তাকে দেখা যাবে শিহাব শাহিনের ‘সিন্ডিকেট’ ওয়েব সিরিজে।

শাম্মী তার মতামত তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা ছিল দুর্দান্ত। কয়েকটি ভালো কনটেন্ট দর্শকের প্রশংসা যেমন কুড়িয়েছে, কিছু কনটেন্ট সমালোচিতও হয়েছে। তবে আস্তে আস্তে আমরা মানসম্পন্ন কাজের সংখ্যা বাড়াচ্ছি। দর্শকও বিনোদনের জন্য ওটিটিতে আসছে। আমার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ‘জানোয়ার’ ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে। অনন্য মামুনের ‘কসাই’ শুরুতে ওটিটিতেই প্রচার হয় ঈদে। আমার ক্যারিয়ারে তাই এ মাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। ভুললে চলবে না, করোনাকালে দর্শক ওটিটির মাধ্যমে বিনোদন খুঁজে নিয়েছে। ভালো বাজেটে বড় পরিসরে কাজ করার ফলে কাজের মান থাকছে। গল্পের বৈচিত্র্য এসেছে বিভিন্ন ফিকশনে। অভিনয় শিল্পীদের কাজের সুযোগ বেড়েছে। ওটিটিতে কাজ করে আরাম পাওয়া যায়। চরিত্রের জন্য প্রস্তুতির যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়। তবে এ কথা ভোলা যাবে না ওটিটি কখনো সিনেমার বিকল্প হবে না। সিনেমা তার জায়গায়ই থাকবে।”

ওয়েব প্ল্যাটফর্ম কখনোই সিনেমার বিকল্প হতে পারে না। আবার ব্যস্ততার ঘোরটোপে বন্দি জীবনে ওটিটিকে অগ্রাহ্য করার উপায় নেই। বাংলাদেশে তুলনামূলক নতুন এ বিনোদন মাধ্যম জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে নিঃসন্দেহে। তবে কত দিন এ জনপ্রিয়তা বজায় থাকবে তা সময়ই বলে দেবে। সংশ্লিষ্টদের উচিত দর্শকের রুচি, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মাথায় রেখে মানসম্পন্ন কনটেন্ট নির্মাণ করা। তাতে করে দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশের নাম। তৈরি হবে বাংলাদেশের ওয়েব কনটেন্টের নিজস্ব ভাষা।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //