বায়ুদূষণ রোধে ৭০০ ইটভাটা উচ্ছেদ করবে পরিবেশ অধিদফতর

পরিবেশ অধিদফতর (ডিওই) বায়ুদূষণ রোধে সারাদেশে প্রায় সাতশ অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করবে। ইটভাটা দেশের বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস।

পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেছেন, যেহেতু এই শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ বেড়ে গেছে, তাই আমরা বায়ুদূষণ রোধে দেশজুড়ে আমাদের অভিযান আরো জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের আশেপাশে অবস্থিত ৩০টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। শহরটির চারপাশ থেকে অবৈধ ৪০০ ইটভাটা অপসারণ করা হবে। আমরা দেশব্যাপী অবৈধ ইটভাটা ভাঙার জন্য আগামী দুই বা তিনমাস ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে যাব ও চলমান অভিযানে প্রায় ৭০০ ইটভাটা ভেঙে ফেলতে পারবো বলে আশা করছি।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, সারাদেশে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ইটভাটা রয়েছে ও এর মধ্যে অনেকগুলোই অবৈধভাবে চলছে এবং বায়ু ও পরিবেশকে দূষিত করেছে।

অধিদফতরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ শাখার এক উপ-পরিচালক বলেন, গত বছর প্রায় ৫০০টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলা হয়েছিল ও পরিবেশ অধিদফতর এ বছর এখরো পর্যন্ত প্রায় ২০০ অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলছে। দেশের বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদফতর অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করছে।

করোনাভাইরাস মহামারিজনিত কারণে লকডাউন চলাকালে দেশে বায়ুর গুণগত মানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। তবে শুকনো মৌসুম শুরুর সাথে সাথে দেশের প্রধান শহরগুলোর বায়ুর মান আবার খারাপ হতে শুরু করে। দেশের আটটি বড় শহরে স্থাপিত বিভিন্ন ধারাবাহিক বায়ু পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (সিএএমএস) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- শুকনো মৌসুমে এই শহরগুলোতে বায়ু অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর থাকে।

পরিবেশ অধিদফতরের গত ৭ জানয়ারির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পিএম ২.৫ ঘনত্বের ২৪ ঘন্টার হার রাজশাহীতে ছিল ৩৩৮ মাক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটার, ঢাকায় ৩৭৬ মাক্রোগ্রাম, গাজীপুরে ৩৫৩ মাক্রোগ্রাম, নারায়ণগঞ্জে ৩৮০ মাক্রোগ্রাম, সিলেটে ১৮৯ মাক্রোগ্রাম, চট্রগ্রামে ১৭৩ মাক্রোগ্রাম, বরিশালে ৩১৭ মাক্রোগ্রাম, খুলনায় ৩২৬ মাক্রোগ্রাম, ময়মনসিংহে ৩২৪ মাক্রোগ্রাম ও রংপুরে ৩৭৫ মাক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুমান নির্দেশনা অনুসারে, পিএম ২.৫ এর গ্রহণযোগ্য স্তরটি হচ্চে বার্ষিক ১০ মাক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটার ও একদিনের (২৪ ঘন্টা) ২৫ মাক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটার। পিএম ২.৫ হল বায়ুর অতি সূক্ষ কণা যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের বিশ্ব বায়ুমান প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বাতাসের গুণগত মান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল। তবে বিভন্ন দেশের রাজধানীগুলোর মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক বলেন, অনিয়ন্ত্রিত বায়ুদূষণের পরিণতি বিবেচনা করে সরকার বায়ুদূষণ রোধে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করে এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের কাছে একটি ২২ দফা নির্দেশনা প্রেরণ করা হয়েছে। সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে ও বায়ুদূষণ কমাতে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বায়ুদূষণ রোধে সরকার ১৯৯৭ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা সংশোধন করেছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রকল্পে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। নির্মাণ খাত বায়ুদূষণের আরেকটি অন্যতম উৎস। দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হবে এবং আমরা আশা করি তখন দেশে বায়ু মানের উন্নতি হবে। -বাসস

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh