ব্লেয়ারের ছায়া এবং একজন বহিষ্কৃত করবিন

টনি ব্লেয়ার ও জেরেমি করবিন

টনি ব্লেয়ার ও জেরেমি করবিন

অ্যান্থনি চার্লস লিনটন ব্লেয়ার, ‘টনি ব্লেয়ার’ নামেই অধিক পরিচিত। আর এ পরিচিতির মূলে রয়েছে ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনে অন্যতম শরিক হিসেবে ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দেয়া। তৎকালীন এ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের দাবি আদায়ে যেকোনো কঠোর আন্দোলনের বিরুদ্ধে, সেবা খাতে ব্যয় সংকোচনের পক্ষে; তবে করপোরেট করের বিরুদ্ধে। 

ইরাকি জনগণের জীবনের মূল্য তার কাছে হয়তো খুব সামান্যই। তাই তো তার ম্যানিকিউর করা আঙুলের ইশারায় মুহূর্তে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় হাজারও ইরাকির জীবন। অথচ তিনি অহিংস, সুশীল! হত্যাযজ্ঞের পর রক্তের দাগ মুছতে তিনি হলেন মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তির দূত’। রাষ্ট্রের যেকোনো অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত হন ‘অত্যন্ত সম্মানিত’ নাগরিক হিসেবে। দেশ-বিদেশ ঘুরে নিজের বাহাদুরির বুলি আওড়ে ভাষণ দিয়ে বেড়াচ্ছেন সম্ভ্রান্তদের আমন্ত্রণে। সম্পত্তি ও ব্যবসাতেও কম যাননি- এখন ব্রিটেনের ধনীদের তালিকায় ব্লেয়ারের নামও রয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সাম্প্রতিক আগ্রাসনের ইতিহাসে তিনি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন নৃশংস, আগ্রাসী অবস্থানের কারণে।

এর বিপরীতে রয়েছেন জেরেমি বারনার্ড করবিন- যিনি তার আগ্রাসনবিরোধী, আপসহীন বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে ব্রিটিশ রাজনীতির ভিতটুকুই কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। করবিন আজীবন ব্রিটিশ ‘যুদ্ধবাজ’ পররাষ্ট্রনীতি ও আগ্রাসনের বিরোধিতা করেছেন, করছেন। খুব সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত এ নেতার নেই কোনো গাড়ি। সম্ভ্রান্তদের প্রতি নেই কোনো আগ্রহ। সাধারণের পাশে থাকার, পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে আরো খানিকটা উদার রাখার, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে রাজনীতি করেছেন, করছেন। ফলে নিজ দলের নেতৃস্থানীয়দের বিরাগভাজন হয়েছেন। শুধু সাধারণ কর্মীদের সমর্থনেই ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হন তিনি। 

পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তো আর ওই ব্যবস্থায় পরিচালিত নির্বাচনে জেতা যায় না! তিনিও পারেননি। গত বছর ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে হারের পর তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে ওই সম্ভ্রান্ত নেতারা। করবিন নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর লেবার পার্টির প্রধান হন ব্লেয়ারপন্থী কেইর স্টারমার। নেতৃত্বে আসার পরপরই তিনি করবিনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অবস্থান নেন; এরপর ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। মূলধারার মিডিয়া থেকে সমাজের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী মহল- করবিনের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ করে যাচ্ছে। কারণ তিনি তাদের পক্ষে নন, তিনি সম্ভ্রান্তদের পক্ষে নন; সাধারণের পক্ষে।

  • করবিনকে পার্টি থেকে বহিষ্কারের পর অনেকেই কেইর স্টারমারের মধ্যে ব্লেয়ারের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। ব্লেয়ার যেমন ইহুদি আর জায়নবাদকে সমার্থক হিসেবে দেখেন; স্টারমারও তেমনই মনে করেন। কার্যত ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার নীতি-নির্ধারকদের একটা বড় অংশও এই চিন্তা ধারণ করে। তাই এই রাজনীতিতে করবিনের বন্ধুর সংখ্যা খুবই নগণ্য....

ব্লেয়ার ও করবিন- দু’জনই উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা, দু’জনই লেবার পার্টির সাবেক নেতা। এ দুটি চরিত্রে ব্রিটিশ সমাজ ও রাজনীতির বাস্তবতাই সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। পার্থক্যটুকু চিন্তা-চেতনায়, মানবিকতায়, দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্নে। একজন আগ্রাসন ও গণহত্যায় অভিযুক্ত হয়েও অনুসরণীয় বলে প্রচারিত; রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি। আরেকজন যুদ্ধবিরোধী, বর্ণবাদবিরোধী, গণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের পরও বহিষ্কৃত, রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে প্রান্তিক। করবিনের বহিষ্কারাদেশ ব্রিটিশ লেবার পার্টিতে চলমান বিভক্তিকে আরো সুস্পষ্ট করেছে। সেইসাথে নতুন নেতৃত্বে ব্লেয়ারের ছায়াও সুস্পষ্ট।

আগ্রাসী নীতির বিরোধিতা

নব্বই দশকের মাঝামাঝি থেকে নির্বাচনী সাফল্যের বুলি আউড়ে ‘নিউ লেবারদের’ উত্থান ঘটে। এই নতুন নীতি অনুসারে, শ্রমজীবী ও নিম্ন মধ্যবিত্তের কাছ থেকে দলকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়। টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে পোক্ত হওয়া এসব নীতিমালার প্রভাব এখনো ভীষণরকম রয়েছে- করবিন যার বিরোধী। আর তাই এ নীতির প্রভাব থেকে দলকে বাঁচাতে দৃঢ় অবস্থান নেন তিনি। অর্থনীতি, স্বাস্থ্যনীতিই শুধু নয়; পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও ‘নিউ লেবার’ অবস্থানের তীব্র বিরোধী তিনি।

নিজের সাদাসিধে জীবনযাপন নিয়ে জেরেমি করবিন ২০১৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি বেশি টাকা-পয়সা খরচ করি না, খুব সাধারণ জীবন আমার। আমার কোনো গাড়ি নেই। সাইকেলে যাতায়াত করি। আমি উচ্চশিক্ষায় যাইনি; ফলে যাদের উচ্চশিক্ষা নেই, তাদের প্রতি নিচু চোখে তাকাইনি। আবার যাদের উঁচু ডিগ্রি রয়েছে, তাদের প্রতি আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকিনি। আমাদের রাস্তাগুলো যারা ঝাড়ু দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই এই সমাজের অত্যন্ত মেধাবী লোকজন।’

করবিন মনে করেন, কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক মন্দার জেরে নিম্নআয়ের মানুষজনের জীবন-মান খারাপ হয়ে যাওয়ার পেছনে রাষ্ট্রের দায় রয়েছে। ২০০৮ সালের দিকে মন্দার শুরু থেকেই যাবতীয় সমস্যার জন্য বৈধ-অবৈধ অভিবাসীদের দায়ী করার প্রবণতা চলছে ইউরোপজুড়ে। ভোটের জন্য এ অবস্থান বেশ লাভজনক। কিন্তু জীবন বাঁচাতে ইউরোপের প্রবেশদ্বারে পড়ে থাকা শরণার্থীদের ব্যাপারে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পাশ কাটানো অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন করবিন। 

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের পক্ষে তিনি; ব্রেক্সিট, বর্ণবাদ, ইসলামোফোবিয়ার তীব্র বিরোধী। যে কারণে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরোধী, বর্ণবাদবিরোধী মানুষের সমর্থন তিনি পেয়েছেন। কিন্তু নিজ দেশে ডানপন্থার উত্থানের সাথে সাথে গজিয়ে ওঠা সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদের বিস্তারে তার বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগ তোলা হয়। কার্যত এ অভিযোগের মূলে রয়েছে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা; কর্মী, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইহুদি-বিদ্বেষ নিয়ে ব্রিটেনের ইক্যুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কমিশন প্রকাশিত এক প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্যের অজুহাত দেখিয়ে করবিনকে লেবার পার্টি থেকে বরখাস্ত করা হয়। কমিশনের ওই প্রতিবেদনে করবিনের সাড়ে চার বছরের নেতৃত্বের সময় লেবার পার্টিকে বেআইনি হয়রানি ও বৈষম্যের জন্য দায়ী করা হয়। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, তিনটি ক্ষেত্রে লেবার পার্টি আইন ভঙ্গ করেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়- ১. ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হয়েছে; ২. এ ধরনের অভিযোগের বিষয়টি যারা দেখভাল করেন, তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি এবং ৩. হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, করবিনের নেতৃত্বে ইহুদি-বিদ্বেষ রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়নি ও করবিন এই বিদ্বেষ দূর করতে ব্যর্থ হয়েছেন। 

করবিন সাথে সাথেই ‘এ প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ও তিনি ইহুদি-বিদ্বেষের ক্যান্সার নির্মূল করার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন। 

করবিন বলেন, ‘লেবার পার্টির ভেতরে ইহুদি-বিদ্বেষের মাত্রা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেখিয়েছে বিরোধীরা। সব ধরনের বর্ণবাদ নিশ্চিহ্ন করতে আমি সব সময় দৃঢ় সংকল্প।’ 

এর বিপরীতে লেবার পার্টি করবিনকে বহিষ্কার করে এক বিবিৃতিতে বলেছে, ‘আজ করবিন যেসব মন্তব্য করেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে ও তা প্রত্যাহার না করায় লেবার পার্টি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।’

 দলটির এক মুখপাত্র জানান, করবিনের ওই মন্তব্যের তদন্ত চলাকালে এই বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে। এটিকে ‘রাজনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে করবিন এর বিরুদ্ধে দৃঢ় লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইসরায়েলি লবি ও ব্লেয়ারের ছায়া

কেইর স্টারমার লেবার পার্টির নেতা হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি নেতাদের সাথে যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছেন। ২৬ জুন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১৫ সদস্য, যার বেশিরভাগই ফিলিস্তিনি, ব্রিটেনের সব দলের প্রতি ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য লিখিত আহ্বান জানান। 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী জেমস ক্লেভারলির মাধ্যমে এর জবাব দেন। ক্লেভারলি ওই আহ্বানের জবাবে লিখেন, ‘আমরা ইসরায়েলের প্রতি এমন পদক্ষেপ না নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বহুবার যুক্তরাজ্যের অবস্থান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে ব্যক্ত করেছেন।’ তবে স্টারমার ওই আহ্বানের কোনো জবাব দেননি। 

১৬ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ফিলিস্তিনিদের একটি গ্রুপ, যাদের অনেকেই লেবার পার্টির সদস্য, একটি খোলা চিঠি দেন। সেখানে লেবার পার্টির জায়নবাদ ও ইহুদি-বিদ্বেষকে সমার্থক করে দেখার বিরোধিতা করা হয়। তারা স্টারমারের সাথে আলোচনা করার জন্য একটি বৈঠকের অনুরোধ করেন; কিন্তু তাদের বলা হয়, স্টারমার ব্যস্ত আছেন, দেখা করতে পারবেন না। স্টারমারের ছায়া মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিসা নন্দীও ওই প্রতিনিধি দলের সাথে দেখা করতে রাজি হননি। 

২০১৭ সালে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, ইসরায়েলি লবি ব্রিটেনের সরকার ও বিরোধী দলে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সদয় থাকা, অথবা জায়নবাদের সমালোচক মন্ত্রী-এমপিদের পতন ঘটাতে তৎপর রয়েছে। আর এ কাজটি পরিচালিত হচ্ছে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে, যার মূল লক্ষ্য লন্ডনের ফিলিস্তিনি লবির মুখ বন্ধ করে দেয়া।

২০১০ সালের নভেম্বরে করবিন ফিলিস্তিন সফর করেন। সেখানে তিন হামাস নেতার সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সম্পর্কে ইসরায়েল ভালো মতোই অবগত ছিল। একই সময়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল আরেক পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) অ্যান্ডি স্লটারও ফিলিস্তিন সফর করেন। ২০১৮ সালে ইসরায়েলি মিডিয়া এ সফর নিয়ে প্রতিবেদন করে ‘করবিনের গোপন সফর’ শিরোনামে। অথচ অপর এমপি সম্পর্কে কোনো কথাই বলা হয়নি। পুরো সফরে নজরদারি চালায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত। সফর শেষ হওয়া মাত্রই তার সফরের সমন্বয়কারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। 

শিন বেত জানায়, ফিলিস্তিনের প্রতি সদয় হলেও সমস্যা নেই; কিন্তু পার্লামেন্টে গিয়ে তা এ নিয়ে কথা বলা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী।

সমালোচকদের মতে, করবিন যেহেতু পশ্চিমা আগ্রাসী নীতির সাথে সমঝোতা করছেন না, সেহেতু তিনি নেতৃত্ব দেয়ার জন্য উপযুক্ত নন আর এজন্য তারা করবিনকে পশ্চিমা-বিদ্বেষী, ইহুদি-বিদ্বেষী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। করবিন নাকি ফিলিস্তিনিদের পক্ষাবলম্বন করে ইহুদি-বিদ্বেষী অবস্থান নিয়েছেন! কনজারভেটিভ পার্টিই শুধু নয়; নিজ দলের উগ্র-ডানপন্থীরাও করবিন ও তার নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সম্পর্কে এই মূল্যায়ন হাজির করে। গত বছর সাধারণ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্যের অন্যতম ইহুদি নেতা এফ্রাহিম মিরভিসও লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগ আনেন। 

তবে করবিন বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা ইহুদি-বিদ্বেষের জন্য ক্ষমা চাইবেন না তিনি। কারণ তিনি ইহুদিদের বিরুদ্ধে বলেননি, বলেছেন জায়নবাদের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলি আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে। 

করবিনকে পার্টি থেকে বহিষ্কারের পর অনেকেই স্টারমারের মধ্যে ব্লেয়ারের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। ব্লেয়ার যেমন ইহুদি আর জায়নবাদকে সমার্থক হিসেবে দেখেন; স্টারমারও তেমনই মনে করেন। কার্যত ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার নীতি-নির্ধারকদের একটা বড় অংশও এই চিন্তা ধারণ করে। তাই এই রাজনীতিতে করবিনের বন্ধুর সংখ্যা খুবই নগণ্য। সমাজে গণমুখী রাজনীতির যে আকাক্ষা রয়েছে, যেখানে আপস করে চলতে হবে না- সেখানেই সমর্থন অর্জন করেছেন করবিন। 

ব্রিটেনের জনগণ মূলধারার রাজনীতিকদের ওপর যখন আস্থা হারিয়েছেন, তখনই আগমন করবিনের। তবে স্রোতের বিপরীতে চলার এ অসম রাজনৈতিক সংগ্রাম কীভাবে চালিয়ে যাবেন করবিন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh