যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের মর্যাদা হারাল রাশিয়া

ইউক্রেনে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (মোস্ট ফেভার্ড নেশন) মর্যাদা হারাতে যাচ্ছে রাশিয়া। এই হামলায় রুশ সহযোগী দেশ হিসেবে বেলারুশের পারমানেন্ট ট্রেড রিলেশন স্ট্যাটাসও (পিএনটিআর) বাতিল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ সিনেটের ভোটাভুটিতে বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

১০০ আসনের উচ্চকক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে রাশিয়াকে স্থায়ীভাবে এই তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব পাস হয়েছে। গত ১৭ মার্চ দেশটির নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও এটি ৪২০-৩ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়।

এই ইস্যুর পাশাপাশি রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধে সিনেটে ভোট হয়েছে। সেই প্রস্তাবও সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে সিনেটে।

প্রস্তাব দুটি অনুমোদন পেতে এখন দরকার শুধু প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সই।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি জানান, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই দুটি প্রস্তাব সমর্থন করেন তাই তিনি প্রস্তাব দুটিতে শিগগিরই সই করবেন। এরপর সে দুটি বিল আইনে পরিণত হবে।

এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে রুশ এবং বেলারুশের রপ্তানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত হবে অনেক বেশি হারে শুল্ক।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালা অনুসারে, পিএনটিআর মর্যাদাসম্পন্ন কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে নীতিগত বৈষম্যের শিকার হতে হয় না।

এই সুবিধা বাতিল হলে পণ্য রপ্তানিতে এখন দেয়া শতকরা ২ শতাংশ শুল্ক হয়ে যাবে ২০ শতাংশের বেশি।

‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ বলতে বোঝায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ। এই তালিকায় নাম থাকার মানে হচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য দুটি দেশ একে অপরের সাথে সবচেয়ে সহজ ও অনেকটা বিনা শুল্কে ব্যবসা করতে পারবে। কানাডা এরই মধ্যে ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ তালিকা থেকে রাশিয়ার নাম বাদ দিয়েছে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোও রাশিয়া ও বেলারুশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী দেশ হিসেবে রাশিয়া যেসব বাণিজ্যিক সুযোগ পেত সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে। তাছাড়া, রুশ এবং বেলারুশের পণ্যের ওপর আরোপিত হবে বাড়তি শুল্ক।

আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ওপর চলমান বিধিনিষেধের পরও জো বাইডেন বলেন রাশিয়া থেকে অ্যালকোহল, হীরা ও সামুদ্রিক খাবার আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেবে ওয়াশিংটন।

জো বাইডেনের মতে, গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসনের জন্য আরও বেশি দায়বদ্ধ করবে।’

এ ছাড়া বাইডেন জানিয়েছেন, রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে কংগ্রেস দ্রুত নতুন আইন প্রয়োগ করবে।

ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসের তথ্য মতে, ২০১৯ সালের হিসাবে রাশিয়া যুক্তরাষ্টের ২৬তম ব্যবসায়িক অংশীদার। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার, যার অধিকাংশই ছিল জ্বালানি পণ্য।

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে রুশ তেল-গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

বাইডেন বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার তেল-গ্যাস এবং জ্বালানিসহ সব ধরনের আমদানি নিষিদ্ধ করছি। তার মানে আমেরিকার বন্দরে রাশিয়ান তেল আর গ্রহণযোগ্য হবে না। যুদ্ধবাজ পুতিনের বিরুদ্ধে আমেরিকার পক্ষ থেকে এটি বড় ধাক্কা।’

পশ্চিমারা বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ মেটায় রাশিয়া। তারা আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাবে, দাম হবে আকাশচুম্বী।

অবশ্য জ্বালানি প্রশ্নে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা নির্ভরশীল না। আমেরিকান ফুয়েল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স (এএফপিএম) ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, ২০২১ সালে দিনে গড়ে ২ লাখ ৯ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র; যা দেশটির মোট জ্বালানি আমদানির ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে জ্বালানি আমদানিতে রাশিয়ার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল ইউরোপের দেশগুলো। তাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩৫ শতাংশ আমদানি হয় রাশিয়া থেকে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকেই পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ অভিযান।

ইউক্রেনকে ‘অসামরিকায়ন’ ও ‘নাৎসিমুক্তকরণ’ এবং দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয় সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //