
প্রতীকী ছবি
অনেক মা-বাবার প্রশ্ন, সন্তানকে কীভাবে দায়িত্ববোধ শেখানো যায়? সহজ উত্তর হলো, দায়িত্ববোধ শেখাতে হলে তাকে দায়িত্ব দিতে হবে। সন্তানকে পরিবারের ছোট ছোট কাজে অন্তর্ভুক্ত করুন। এসব কাজের সফলতা তাকে এমন আরো কাজে অংশ নেওয়ার উৎসাহ জোগাবে। তবে অবশ্যই শিশুর উপযোগী কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। আন্তরিকতার সঙ্গে যদি শিশুদের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে। পরিবারে অবদান রাখার জন্য শিশুদের যদি সুযোগ দেওয়া হয় এবং এ জন্য ছোট ছোট উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করা যায়, তাহলে শিশুরা উৎসাহ পায় পরের বার কাজটি করার। এতে দায়িত্বশীলতাও বাড়ে।
উপযুক্ত সময় : সন্তানকে অল্প বয়স থেকেই পরিবারে ছোট ছোট অবদান রাখার প্রশিক্ষণ দিন। মনে রাখবেন, সব শিশু একই বয়সে সমান শেখে না। তাই শিশুকে স্কুলে পাঠানোর উপযুক্ত হওয়ার আগেই নিজের ছোট ছোট কাজ করতে শেখান। একটি কাজ শেষ হলে নতুন একটি কাজের দায়িত্ব দিন। এভাবে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন বিষয়ে তাকে দক্ষ করে তুলুন।
অবাক করা কাজ : শিশুকে এমন দায়িত্ব দিন, যা করার পর সে অবাক হয়ে যায়। পরিবারে এমন কিছু কাজ থাকে, যা সাধারণত বড়রা করে থাকে। শিশুদের চোখে এই কাজগুলো বড়দের। এগুলোর মধ্যে কিছু হালকা কাজ যদি ছোটদের করতে দেওয়া হয়, তবে তারা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয় এবং নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করে। যেমন-খাওয়ার পর নিজের প্লেট ধুয়ে ফেলা; ছোট ভাই বা বোনকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করা; নিজের জামা-জুতা-খেলনা গুছিয়ে রাখা।
বাস্তবসম্মত কাজ : শিশুকে দেওয়া দায়িত্ব যেন বাস্তবসম্মত হয়। দায়িত্বশীলতা শেখাতে হলে তাকে কোনোভাবেই মিথ্যা কাজ দেওয়া উচিত হবে না। পড়ার টেবিল গুছিয়ে রাখা, শোবার ঘর প্রস্তুত করা, ঘর পরিষ্কার রাখা-এসব কাজ নিজে করে সন্তানকে তা আবার করতে বলবেন না, অর্থাৎ সত্যিই তাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
শিশুর কাজ শিশুকে করতে দিন : শিশুরা তার জন্য নির্ধারিত কাজ করতে ভুলে যায় বা করতে চায় না। অভিভাবকরা তার হয়ে কাজটা করে রাখেন। এতে শিশুর দায়িত্বশীলতায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালেন আপনি নিজেই। শিশুর জন্য নির্ধারিত কাজ যদি তাকে দিয়েই করান। যেমন-স্কুলের ব্যাগ গুছিয়ে রাখা এবং সেটা সব সময় তাকে দিয়েই করান। প্রয়োজনে সহযোগিতা করুন। কিন্তু কাজটি করার প্রধান দায়িত্ব তাকেই পালন করতে দিন।
কর্মতালিকা : বাড়িতে শিশুদের দেওয়া কাজগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্মতালিকা ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে সুবিধাজনক জায়গায় শিশুদের দৈনন্দিন কাজ লিখে রাখতে পারেন। প্রতিটি কাজ শেষ করে তার পাশে টিকচিহ্ন দেবে। এই পদ্ধতি শিশুর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি থেকেও মুক্তি দেবে। আবার শিশুকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।