
চিত্রপ্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন এক দর্শনার্থী
প্রাণ-প্রকৃতি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা নিজেদের মতো করে রংতুলিতে তুলে আনতে ২০১৯ সালে ‘আদ্যপান্ত’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন একদল চিত্রশিল্পী। আদ্যপান্তর শিল্পীরা এ বছরের ৩ থেকে ৫ এপ্রিল ‘সুন্দরবন’ শিরোনামে একটি আর্টক্যাম্পে অংশ নেন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলির আঁচড়ে শৈল্পিকদৃষ্টিতে চিত্রে তুলে আনাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে কনক আদিত্য, মামুন হোসাইন, মো. রবিউল ইসলাম, মো. জাহিদ হোসাইন, মনজুর রশীদ, মোরসেনা রহমান রূপা, নারগিস আক্তার পুনম, শক্তি নোমান, উপমা দাস তৃণা ও জেমরিনা হক গিয়েছিলেন সুন্দরবন। অদম্য এই শিল্পীরা সুন্দরবনে ঘুরেছেন। বাঘের দেখা না পেলেও দেখেছেন বানর আর হরিণের মিতালি, নানা রকম বুনো ফুল, কেওড়া বন, হরেক রকম পাখি আর নাম না জানা অসংখ্য সুবিশাল প্রাচীন গাছ। প্রাণ-প্রকৃতির সেই অনাবিল সৌন্দর্য তারা অবলোকন করেছেন গভীর ভাবে। কারো ছবিতে উঠে এসেছে বনের সূর্যাস্ত, কারো ছবিতে এসেছে পরিত্যক্ত জেলে নৌকা, জালের মতো ছড়িয়ে থাকা বনের খালে ছুটতে থাকা জেলের ডিঙ্গি নৌকাও এসেছে কারো ছবিতে, আর কেউ এঁকেছেন সেই বুনো ফুলের ছবি। বাঘের দেখা না পেলেও একজন তুলে এনেছেন বাঘের নদী পেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য।
সুন্দরবন আর্টক্যাম্পের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ওয়াইল্ডটিম কনজারভেশন বায়োলজিক্যাল সেন্টারের সিইও আনোয়ারুল ইসলাম ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। আর্টক্যাম্পে অংশ নেওয়া চিত্রশিল্পী জেমরিনা হক বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মানুষ প্রাণ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসি। আমরা একজন মানুষের ছায়ায় থাকতে পছন্দ করি।’ তিনি হলেন, ইনাম আল হক। ইনাম ভাই আমাদের পাখির কথা বোঝান, গাছের পাতার রং দেখান। এই বিষয়গুলো আমাদের গভীরভাবে ভাবায়। সুন্দরবন ক্যাম্পে এই বিষয়গুলো ভীষণ আলোড়িত করেছে আমাদের। যার প্রভাব ছবিতেও আছে।
ক্যাম্পে অংশ নেওয়া চিত্রশিল্পী নারগিস আক্তার পুনম বলেন, ‘সুন্দরবনে একটি ক্যাকটাস দেখেছিলাম। সেই ক্যাকটাসে একটি সুন্দর ফুল ফুটে ছিল। পুরো গাছটিতে কাঁটা, কিন্তু সেই ফুলটিতে কোনো কাঁটা নেই। ক্যাকটাসের গায়ে ছড়ানো কাঁটা আর ফুটে থাকা ফুলের অপূর্ব স্নিগ্ধতা আমায় মুগ্ধ করে। ভয় আর বিস্ময়ের সমন্বয়ে ক্যাকটাসের দৃশ্যটি তুলে আনি রংতুলিতে।’
‘সুন্দরবন’ আর্টক্যাম্পে আঁকা ছবি নিয়ে গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর লালমাটিয়ার ভূমি গ্যালারির আয়োজনে আদ্যপান্তর ‘অরণ্যরেখা’ শীর্ষক দলীয় চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অরণ্যরেখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। ২০ আগস্ট ‘অরণ্যরেখা’ চিত্রপ্রদর্শনীর সমাপ্তি ঘটে। এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছিল ৬৫টি চিত্রকর্ম। যেখানে প্রত্যেক শিল্পী তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, মাধ্যম ও বিষয় নিয়ে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে এনছেন ক্যানভাসে।
আদ্যপান্তর প্রথম আর্টক্যাম্প হয় ২০২১ সালে শেরপুরের পাহাড়ের ছায়ায় নকশী গ্রামে। সেই ছবি নিয়ে ২০২২ সালে সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে সংগঠনটি তাদের প্রথম চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল।