মেসি-রোনালদো ক্লাবের সৌভাগ্যবান ১৪ সদস্য!

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বিশ্বসেরা এই দুই ফুটবলারের সাথে একই দলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাটা স্বপ্নের মতো। দুইজনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে সে সময় এই স্বপ্ন পূরণ করেছেন অনেক ফুটবলার।

তবে তাদের মধ্যে এমন ১৪ জন সৌভাগ্যবান আছেন, যারা মেসি-রোনালদো, দুইজনের সাথেই কাঁধ মিলিয়ে একই দলে খেলছেন!

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকাল পর্যন্তও এই মেসি-রোনালদো ক্লাবের সদস্যসংখ্যা ছিল ১২। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতেই সংখ্যাটা ১২ থেকে ১৪-তে উন্নতি হয়েছে। মানে ২৭ সেপ্টেম্বরেই দুইজন ভাগ্যবান এই ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। তারা হলেন- ব্রাজিলিয়ান তরুণ আর্থার মেলো ও বসনিয়ান তারকা মিরালেম পিয়ানিচ।

সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে আর্থার মেলো ছিলেন বার্সেলোনায় মেসির সতীর্থ। আর পিয়ানিচ ছিলেন জুভেন্টাসে, কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন রোনালদোর সাথেও। কিন্তু ভাগ্যের কারণে এবার দুইজনেরই ঠিকানা অদল-বদল হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান আর্থার মেলো বার্সেলোনা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন জুভেন্টাসে। মেসির সঙ্গ ছেড়ে হয়ে গেছেন রোনালদোর সতীর্থ। একইভাবে মিরালেম পিয়ানিচ জুভেন্টাস ছেড়ে নাম লিখিয়েছেন বার্সেলোনায়। রোনালদোর সতীর্থ থেকে বনে গেছেন মেসির সতীর্থ। নতুন ক্লাবের সঙ্গে দুইজনেই চুক্তি করেছেন গত ২৯ জুন। আলাদাভাবে দামদর ঠিক করে ক্লাব পাল্টালেও দুইজনের চুক্তিই অনেকটা বিনিময় চুক্তির মতো যেন।

চুক্তি যেমন একই দিনে হয়েছে, তেমনি নতুন ঠিকানায় দুজনের অফিসিলিয়াল ম্যাচে অভিষেকও হয়েছে একই দিনে- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রি.। তবে জুভেন্টাসের হয়ে আর্থার মেলো মেসি-রোনালদোর ক্লাবে প্রবেশ করেছেন আগে, ১৩তম সদস্য হিসেবে। কারণ ইতালিয়ান সিরি আ’তে সেদিন এএস রোমার সঙ্গে জুভেন্টাসের ম্যাচটা ছিল সন্ধ্যা রাতে। স্প্যানিশ লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচটা ছিল মধ্যরাতে। ফলে একই দিনে অভিষেক হলেও পিয়ানিচ ১৪তম সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছেন মর্যাদার মেসি-রোনালদো ক্লাবে। কাকতালীয়ভাবে দুজনেই এই ক্লাবে ঢুকেছেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে।

বিস্ময়কর হলো, এই সৌভাগ্যবান ১৪ জনের সাতজনই আর্জেন্টাইন! মানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির সাথে খেলা সাতজন ফুটবলার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে রোনালদোর সতীর্থ হিসেবে খেলেছেন। তারা হলেন- গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ, এজেকুয়েল গ্যারাই, ফার্নান্দো গ্যাগো, কার্লোস তেভেজ, গঞ্জালো হিগুয়েইন, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া ও পাওলো দিবালা। এদের মধ্যে পাওলো দিবালা বর্তমানে জুভেন্টাসে রোনালদোর সতীর্থ হিসেবেই খেলছেন।

অন্যদিকে পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর সাথে খেলা তিনজন ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন মেসির সাথে। তারা হলেন- ডেকো, আন্দ্রে গোমেজ ও নেলসন সেমেদো। অন্য চারজন হলেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে, সুইডেনের সাবেক তারকা হেনরিখ লারসন ও সদ্য যোগ দেওয়া ব্রাজিলের আর্থার মেলো ও বসনিয়ার পিয়ানিচ।

মর্যাদার মেসি-রোনালদো ক্লাবে প্রথম সদস্য হিসেবে নাম লেখান সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ, ২০০৫ সালে। হেইঞ্জ ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে রোনালদোর সতীর্থ হয়ে খেলেছেন। এরপর ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেকের পর কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন মেসির সাথে। মানে মেসির স্বদেশি হেইঞ্জ আগে ছিলেন রোনালদোর সতীর্থ, মেসির সতীর্থ হয়েছেন পরে।

রোনালদোর তিন স্বদেশি ডেকো, আন্দ্রে গোমেজ ও নেলসন সেমেদো-তিনজনেই বার্সেলোনায় মেসির সাথে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন। পাশাপাশি তারা পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন রোনালদোর সাথে।

মেসি-রোনালদো ক্লাবের একমাত্র স্প্যানিশ সদস্য হয়ে আছেন জেরার্ড পিকে। বর্তমানে বার্সেলোনায় মেসির সাথে খেলা পিকে তার আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেছেন রোনালদোর সতীর্থ হিসেবে। এছাড়া সুইডেনের সাবেক তারকা হেনরিখ লারসন মেসির সাথে বার্সেলোনায় খেলেছেন। ২০০৬ সালে তারা বার্সার হয়ে জিতেছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাও।

এরপর ২০০৭ সালে তিনি রোনালদোর সতীর্থ হিসেবে খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তিনি বর্তমানে আবার মেসির কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ। মানে লারসন বর্তমানে বার্সেলোনার সহকারী কোচ।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh