বিলুপ্তির পথে মহল্লাভিত্তিক ফুটবল ঐতিহ্য

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে মহল্লাভিত্তিক ফুটবলের ঐতিহ্য। একসময়ে বাংলাদেশের বহু ফুটবল তারকা উঠে আসতো মহল্লা ফুটবল চর্চা করেই।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ঢাকা আবাহনী, ঢাকা মোহামেডান, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, রহমতগঞ্জ, ওয়ারী ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স, দিলকুশা ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব (বর্তমান নাম ধানমন্ডি শেখ জামাল), ভিক্টোরিয়া ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, ফরাশগঞ্জ ক্লাব, বাড্ডা জাগরণী, পুলিশ এসি এসব ফুটবল দলগুলো এক একটি মহল্লার ক্রীড়া বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হতো।

দেশ স্বাধীনের পর আবাহনী এই মহল্লাভিত্তিক সংস্কৃতির প্রথম ক্লাব হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করে। ধানমন্ডির তরুণ-কিশোরদের ক্রীড়া-চর্চার আখড়ায় পরিণত হয় আবাহনী মাঠ। স্কুলছাত্র মহসিন দেশসেরা গোলরক্ষক হন আবাহনীতে অনুশীলন করেই। আবাহনী মাঠে খেলা দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত দেশসেরা ডিফেন্ডার হন দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল। গোপীবাগের ক্লাব ব্রাদার্স উঠে আসে পাকিস্তানি নাগরিক গফুর বালুচের হাত ধরে। ব্রাদার্স থেকে ওই এলাকার ওয়াসিম ইকবাল, মহসিন ও বাবলু মিডফিল্ডার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। আসলাম তারকা খ্যাতি পান ভিক্টোরিয়া থেকে। ভিক্টোরিয়ার সবচেয়ে খ্যাতিমান কোচ ছিলেন আব্দুর রহিম। তার কোচিংয়ে একাধিক খেলোয়াড় তৈরি হয়েছিল। 

মোহামেডানের মনু উঠে এসেছেন মহল্লার চর্চা থেকে। ওয়ান্ডারার্স ও সাধারণ বীমার কোচ হিসেবে অনেক খ্যাতি লাভ করেন সদ্য ইন্তেকাল করা সৈয়দ মোহাম্মাদ আলমগীর। ‘আলমগীর ওস্তাদ’ নামে পরিচিত এই কোচের হাতে খেলোয়াড় হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন অনেকেই। রাজধানীর গুলবাগের মরহুম শাহ আলম সাহেব ছিলেন আরেক ফুটবল খেলোয়াড় তৈরির কারিগর। জাতীয় দল ও মোহামেডানের কৃতী ডিফেন্ডার মুন্না, ভিক্টোরিয়ার তুহিন, ফরাশগঞ্জের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার খোকার মতো ঢাকা লীগের মাঠ মাতানো অনেক খেলোয়াড়ই তার হাতে গড়া।

ব্রাদার্সের সাবেক খেলোয়াড় ও বর্তমান কর্মকর্তা আমের খান বলেন, ‘আসলে আগে মূল ফুটবল লীগ শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়রা হাতে ৬/৭ মাস সময় পেতেন। তখন তারা এলাকার ক্লাবে অনুশীলন করতে গেলে অনেক তরুণ-কিশোরদেরও পাশে পেতেন। আর তাদের মধ্য থেকে উঠে আসতো নতুন নতুন খেলোয়াড়। এখন, খেলোয়াড়রা মহল্লার ক্লাবে অনুশীলন করার মতো ওই ধরনের সময় পান না। ফলে মহল্লাভিত্তিক ফুটবলের চর্চা কমে গেছে।’

এখন এসবের মধ্যে অনেকগুলো ক্লাবই মহল্লায় অবস্থিত হলেও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারেনি। এমনকি রাজধানীর বাইরেও মহল্লাভিত্তিক ছিল বেশ কিছু ক্লাব। মূলত, মহল্লার বিত্তশালী লোকজনের আর্থিক সহায়তায় ক্লাবগুলোর পরিচালিত হতো। এখন প্রায় প্রতিটি ক্লাবই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহায়তায় চলছে। ফলে মহল্লার কিশোর-যুবকদের বাড়তি ভালোবাসা এখানে নেই।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh