ICT Division

ব্রাজিলের হেক্সা মিশন শুরু আজ

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে আজ মাঠে নামছে টপ ফেবারিট ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ তুলনামূলক খর্বশক্তির দেশ সার্বিয়া। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) রাত একটায় দুইদল মাঠে নামবে, ভেন্যু লুসাইল স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচ দিয়েই কাতার বিশ্বকাপে ‘হেক্সা’ (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের অভিযাত্রা শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। 

তিতের আক্রমণভাগ নিয়ে এবার দুশ্চিন্তা করতে হবে প্রতিপক্ষ দলগুলোর। এবার ইউরোপিয়ান ক্লাব মৌসুম শুরুর পর থেকে বিশ্বকাপের আগপর্যন্ত ব্রাজিলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরাই সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন।

এমনকি এ সময় সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড়টিও আবার ব্রাজিলের। আক্রমণভাগে ৯ ফরোয়ার্ড রেখে বিশ্বকাপ স্কোয়াড গড়েছেন ব্রাজিল কোচ তিতে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, এই ৯ ফরোয়ার্ড মিলে ক্লাব ফুটবলে মোট ৭২ গোল করেছেন, যা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাকি দেশগুলোর খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনায় সর্বোচ্চ। 

বিশ্বকাপের আগে এই মৌসুমে ব্রাজিলের যে পাঁচ খেলোয়াড় সর্বোচ্চ গোল করেছেন, তাঁদের গোলগুলো যোগ করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৫৮। ফ্রান্স এই তালিকায় ৫৫ গোল নিয়ে দুইয়ে। ৪৪ গোল নিয়ে তিনে নেদারল্যান্ডস এবং ৪১ গোল নিয়ে চারে আর্জেন্টিনা। তবে এই মৌসুমে পোল্যান্ডের পাঁচ খেলোয়াড় মিলেও ক্লাব ফুটবলে ৪১ গোল করেছেন।

ফ্লামেঙ্গোর ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার পেদ্রো করেছেন ২১ গোল। ১৫ গোল নিয়ে দুইয়ে নেইমার, ১০ গোল নিয়ে তিনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ৭ গোল নিয়ে চারে রদ্রিগো। ব্রাজিলের শীর্ষ পাঁচ গোলদাতার এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আন্তোনি, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও গ্যাব্রিয়েল জেসুসের মধ্যে যেকোনো একজনকে রাখতে হবে। তিনজনই সমান ৫টি করে গোল করেছেন। এই হিসেবে ব্রাজিলের গোলসংখ্যা ৫৮। 

তবে ফ্লামেঙ্গো স্ট্রাইকার পেদ্রোর গোলসংখ্যা হিসাব করা হয়েছে জুলাই থেকে। ব্রাজিলের এক ক্যালেন্ডার মৌসুম ধরলে সেটি ২৯ হবে। ফ্রান্সের ৫৫ গোলে অবদান যে শীর্ষ পাঁচ ফরোয়ার্ডের, কিলিয়ান এমবাপ্পে, মার্কাস থুরাম, অলিভিয়ের জিরু, কোলো মুয়ানি ও আঁতোয়ান গ্রিজমানের। তাঁদের মধ্যে ১৯ গোল নিয়ে শীর্ষে পিএসজি তারকা এমবাপ্পে। ব্যক্তিগত গোলের তালিকায় পেদ্রোর পরের অবস্থান এমবাপ্পের। ১৮ গোল নিয়ে ব্যক্তিগত এই তালিকার তিনে পোলিশ তারকা রবার্ট লেভানডফস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের হেসুন ফেরেইরার গোলসংখ্যাও ১৮।

অন্যদিকে ক্যামেরুনের এনসামে ১৬ গোল নিয়ে পাঁচে। অর্থাৎ ক্লাব ফুটবলে গোলের মহড়া দিয়ে এবার কাতার বিশ্বকাপে গোলের পর গোল করতে প্রস্তুত ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। উইঙ্গার রাফিনিয়া জানিয়েছেন, গোলের পর উদযাপন কেমন হবে, সেসবও ঠিক করে রাখা আছে, ‘সত্যি বলতে, আমরা প্রতি ম্যাচের জন্য অন্তত ১০টি করে নাচ ঠিক করে রেখেছি। প্রথম গোলে এই নাচ, পরেরটায় ওটা, তার পরেরটায় আরেকটি নাচ, এভাবে ১০টি গোল হওয়া পর্যন্ত নাচ ঠিক করা আছে। ১০টির বেশি হয়ে গেলে নতুন কিছু ভাবতে হবে।’ প্রতিপক্ষ সাবধান, ব্রাজিল আসছে! 

এদিকে যাঁদের নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল, সেই কথাও বলা হচ্ছে। একজন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে পার করছেন দারুণ সময়, আরেকজনও সিরি ‘এ’তে মাঠ মাতাচ্ছেন। ফুলহ্যামের হয়ে লক্ষ্যভেদে নিজেকে চিনিয়েই বিশ্বকাপে এসেছেন আলেক্সান্দার মিত্রোভিচ। ১২ ম্যাচেই করে ফেলেছেন ৯ গোল। জুভেন্টাসের হয়ে ১০ ম্যাচে ৬ গোল করা দুসান ভ্লাহোভিচও নিজ সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে বিশ্বকাপে। দুই দেশের ভিন্ন দুই ক্লাব দলের প্রতিনিধি এবার জাতীয় দলের হয়ে জুটি বেঁধে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতেও প্রস্তুত। এই দুই সার্বিয়ান স্ট্রাইকারকে নিয়ে তাই বাড়তি সতর্কতা আছে ব্রাজিলেরও।

মধ্য ইউরোপের এই দেশের বিপক্ষে লড়াই দিয়েই পাঁচবারের বিশ্বজয়ীদের ‘হেক্সা মিশন’। নিশ্চিত ফেভারিট হয়েই নামতে যাচ্ছেন নেইমাররা। তবে মিত্রোভিচ-ভ্লাহোভিচ জুটির সক্ষমতাকেও কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বরং ব্রাজিলের জন্য তাঁরা মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠবেন বলেও আছে জোর আলোচনা। সেটি সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে ভক্তদের মাঝেও। অবশ্য ওই দুই সার্বিয়ান স্ট্রাইকারকে নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা আড়াল করেননি এদের মিলিতাও। 

রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার বলছিলেন, ‘ওই দুজনকে নিয়ে ভীষণ সতর্ক থাকতে হবে আমাদের। কারণ বিশ্বকাপের মতো আসরে যে দল যত কম ভুল করে, জেতে তারাই।’ 

মিত্রোভিচ-ভ্লাহোভিচকে নিয়ে ব্রাজিল শিবিরের চলতি গবেষণাও উঠে এসেছে মিলিতাওয়ের কথায়, ‘ওদের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই আমাদের। শক্তপোক্ত শারীরিক কাঠামোর ওই দুজন গুণে-মানেও বেশ ভালো। অবশ্যই প্রতিপক্ষকে নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা আমরা করছি, প্রস্তুত হচ্ছি সব কিছুর জন্যই।’ এঁদের মধ্যে মিত্রোভিচের ঝলক সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন রবার্তো ফিরমিনোকে টপকে তিতের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি। গত আগস্টে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের ক্লাব দল আর্সেনালের বিপক্ষে গোল করে ফুলহ্যামকে এগিয়ে নিয়েছিলেন মিত্রোভিচ। পিছিয়ে পড়া ‘গানার’রা অবশ্য পরে ঘুরে দাঁড়ায়। শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিয়েও মাঠ ছাড়ে।

তবে সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে মার্তিনেলিও মিত্রোভিচকে নিয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ অনুভব করছেন। সেই সঙ্গে পুরো সার্বিয়া দলকে নিয়েই সতর্কতা অবলম্বনের দাবি আছে তাঁর, ‘মিত্রোভিচ দীর্ঘদেহী এবং মানসম্পন্ন একজন খেলোয়াড়। কাজেই ওর দিকে নজর আমাদের রাখতেই হবে। তবে ওকে নিয়েই শুধু নয়, ভাবতে হবে পুরো সার্বিয়া দলকে নিয়েও। কারণ সব কিছু মিলিয়ে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল ওদের।’ 

আর্সেনালের হয়ে এই মৌসুমে দারুণ খেলে আসায় মার্তিনেলি নিজেও ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে সাফল্যের ফুল ফোটানোর লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী। ১৪ ম্যাচে ৫ গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। 

সেই ফর্মই বিশ্বকাপে টেনে আনতে চান মার্তিনেলি বলেন, ‘মৌসুমটি আমারও বেশ ভালো যাচ্ছে। আর্সেনাল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে আছে এখন। আমরা ভালো করছি এবং আমিও।’ 

আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা ব্রাজিল তাই জয়েই চোখ রাখছে। ইতালির তুরিন থেকে গতকাল দোহায় পা রেখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিকালে দোহায় পা রেখে রাতেই অনুশীলনে নেমেছে সেলেকাওরা। ফুটবল মহাযজ্ঞের মিশনে নামার আগেই নিজেদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভাবতে শুরু করেছেন নেইমার। তুরিন থেকে দোহায় পা রাখার পর ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেছেন।

সেখানে শর্টসে পাঁচ তারকার জায়গায় ছয় তারকা খোদাই করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ নিয়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) সতীর্থ লিওনেল মেসিকে জানিয়েছেন, ব্রাজিল এবার বিশ্বকাপ জিতবে। 

ব্রিটিশ জনপ্রিয় পত্রিকা টেলিগ্রাফের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে মেসির সঙ্গে কমই কথা হয়েছে আমার। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল বা ফাইনাল হবে কি না, কখনো কখনো আমরা এ নিয়ে আলোচনা করি। আমি তাকে বলেছি, আমরা চ্যাম্পিয়ন হব এবং আমি তাকে হারাব। এটা বলার পর আবার আমরা দুজনই হাসি।’ 

১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলেছিল। ২০১৮ সালে বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। তিতে গত বিশ্বকাপেরও কোচ ছিলেন। এবারও তিনি কোচ। ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলবে ‘জি’ গ্রুপে। সেলেসাওদের ২৮ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ এবং ২ ডিসেম্বর ক্যামেরুনের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচ। 

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //