সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটার ব্যাখ্যা দিলো মন্ত্রণালয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়া সংবাদগুলো মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বুধবার (৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হচ্ছে।

এতে বলা হয়, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও ঘটনাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার উদ্দেশে মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতোমধ্যে শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রভৃতি নির্মাণ করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিকমানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ‘ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

মন্ত্রণালয় বলছে, এ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজ যেমন, পাকিস্তানি শাসনবিরোধী ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংবলিত ভাস্কর্য স্থাপন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেইন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ির কার পার্কিং ও শিশুপার্ক নির্মাণসহ ‍বিভিন্ন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গৃহীত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যানের কিছু গাছ কর্তন করা হলেও প্রায় এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে খণ্ডিত তথ্য প্রচারিত হওয়ায় অনেকের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

বলা হয়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে দেশপ্রেমিক-সচেতন নাগরিকগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh