সম্পদের হিসাব

সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে দোটানায় সরকার

‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা’ অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বারবার সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তারা প্রতিবছর এনবিআরকে ইনকাম ট্যাক্স দিচ্ছেন। সেখানে সম্পদের হিসাব দেওয়া হচ্ছে।

এখন মন্ত্রণালয়েও হিসাব দিতে হবে। এক হিসাব সরকারের দুই দপ্তরে দেওয়া নিয়ে দোটানায় রয়েছেন তারা। এছাড়া অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার কোনো চিঠিই পাননি।

বিষয়টি মিটমাট করতে যে আচরণবিধিমালায় পাঁচ বছর পর পর সম্পদের হিসাব দেওয়ার কথা রয়েছে, সেই ধারা বাতিল বা সংশোধনের চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। ধারাটি সংশোধন করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।   

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম গতকাল মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘সম্পদের হিসাব দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় তার অধীন কর্মকর্তাদের হিসাব সংগ্রহ করে পাঠাবে। এখানে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে আমাদের চিঠি পাঠানোর কথা নয়। ’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ধারা যদি সংশোধন করা হয় তখন সেটা দেখা হবে। যতক্ষণ সংশোধন না হচ্ছে, ততক্ষণ সম্পদের হিসাব দিতে হবে। আমরা বলছি যে এনবিআরে যে হিসাব দিচ্ছে তার পাঁচ বছরের কপি দিলেই হয়। এনবিআর নিচ্ছে প্রতিবছর, আর আমরা নিচ্ছি পাঁচ বছরে একবার। ’

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত বছর জুলাই মাসে ‘সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিমালা’ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাঁচ বছর পর পর সম্পদের বিবরণী (হ্রাস-বৃদ্ধি) জমা দেওয়ার নিয়ম মানতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত বিভাগ থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭৯ সালের আচরণবিধিমালা অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধির বিবরণী তাঁর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয়। কিন্তু দেখা যায়, অনেকে এ চর্চা ঠিকমতো করেন না। ওই চিঠি দেওয়ার পরও সম্পদের হিসাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সাড়া মেলেনি।

এরপর চলতি মাসের শুরুতে আবারও সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব দিতে নতুন করে নির্দেশনা দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবদের কাছে এসংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //