করোনা ভাল হওয়ার পরে কতোদিনে স্বাভাবিক হবে জীবন

করোনাভাইরাস যে হয়েছে বা সেরেছে, বা কবে হয়েছে ও কবে সারলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আজকাল। অতএব কতোদিনে স্বাভাবিক জীবন প্রশ্ন তা নিয়েও।

চিন্তায় সাধারণ মানুষ, কোন রিপোর্ট ধরে এগোবেন, কতদিন বিশ্রাম নিয়ে তবে কাজে যাবেন বা লিপ্ত হবেন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে?

এ বিষয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, ব্যতিক্রম ছাড়া, যখন পরীক্ষা হয়েছে সেই মুহূর্তে শরীরে কতটা ভাইরাস আছে তার উপর রিপোর্টের পজিটিভিটি বা নেগেটিভিটি নির্ভর করে। অন্য কারণও থাকতে পারে। তবে সাধারণভাবে, চিকিৎসকের পরামর্শমতো পরীক্ষা করলে ও তার নির্দেশমতো চললে রোগ নির্ণয় নিয়ে খুব অসুবিধা হয় না। প্রশ্ন জাগে না স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়েও।

কতোদিনে স্বাভাবিক জীবন

সুবর্ণ বলেন, রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার বা উপসর্গ দেখা দেয়ার তিন সপ্তাহ বাদে শরীরে ভাইরাল লোড খুব কমে যায়। ফলে তখন আর মানুষটি রোগ ছড়াতে পারেন না। আরো সাবধানতা হিসেবে আমরা ২৮ দিন বলি। কারণ এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড হল সর্বাধিক ১৪ দিন, অর্থাৎ উপসর্গ হওয়ার আগে ১৪ দিন পর্যন্ত সে শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। এর দ্বিগুণ সময়, অর্থাৎ ২৮ দিন পরেও যদি রিপোর্ট পজিটিভ আসে, মানুষটি কিন্তু নিরাপদ। তার থেকে আর রোগ ছড়ায় না।

ক্রিটিকাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ সৌতিক পাণ্ডা বলছেন, হাসপাতালে ভর্তি কভিড-১৯ রোগীর জ্বর বা শ্বাসকষ্ট জাতীয় উপসর্গ তিনদিন না থাকলে তবে তাকে ছুটি দেয়া হয়। বলা হয়, বাড়ি গিয়ে আরো সাতদিন সবার থেকে আলাদা থাকতে। অনেকের তারপরেও ক্লান্তি থাকে। তাদের আরো কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হয়। কারও কাশি থাকে, কারও অ্যালার্জি হয়। কষ্ট কমাতে কিছু ওষুধপত্র দেয়া হয়। তবে যা-ই থাক না কেন, তাদের আর রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা থাকে না। তখন শরীরে কুলোলে মাস্ক পরে অফিস যেতে পারেন।

ভালো হয়ে গেলে মাস্ক কেন?

যিনি ভালো হয়ে গিয়েছেন, তার শরীরে আছে ভাইরাস মারার অস্ত্র অ্যান্টিবডি। কাজেই তিনি আর সংক্রামিত হবেন না। তার থেকে অন্য কারও সংক্রমণের আশঙ্কা নেই। কাজেই মাস্ক তথা অন্যান্য সুরক্ষাবিধির প্রয়োজন না থাকারই তো কথা! কিন্তু তা হয় না। 

চিকিৎসক সুবর্ণ বলেন, এখনো পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে তা থেকে বলা যায়- রোগ সেরে যাওয়ার পর অ্যান্টিবডি কার্যকর থাকে ১৫দিন থেকে তিন মাস। যেদিন রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বা উপসর্গ হয়েছে, সেই দিনটিকে ধরে। কার ক্ষেত্রে ১৫দিন সুরক্ষা থাকবে আর কার ক্ষেত্রে তিন মাস, তা যেহেতু নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে মেলামেশা করা ঠিক নয়।

চিকিৎসক পাণ্ডার মতে,  দ্বিতীয়বার রোগ হলে তার মাত্রা কীরকম হবে তা জানা নেই বলে সাবধানে থাকাই ভাল। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে যেমন দ্বিতীয়বার রোগের জটিলতা বেশি থাকে, এক্ষেত্রেও যদি তা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপদ আরো বাড়বে। 

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কী হবে?

যেদিন থেকে সিমেনে করোনার হদিস পাওয়া গেছে, বেড়েছে চিন্তা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শরীর ভাইরাসমুক্ত হওয়ার পরও সিমেনে থেকে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে যদি সে ছড়িয়ে পড়ে। 

সুবর্ণ গোস্বামী বলেছেন, সিমেনে ভাইরাসের হদিস পাওয়া গেলেও তা থেকে সংক্রমণ ছড়ায় কি না তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা নেই। না ছড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। অতিরিক্ত সাবধানতা হিসেবে গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতে পারেন। -আনন্দবাজার পত্রিকা

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh