বিস্কুট নাকি বিষ!

একটু খিদে পেলেই আমরা ছোট্ট বিস্কুটের প্যাকেট নিমিষেই খেয়ে ফেলি; কিন্তু তাতে ক্রিম লাগানো গোলাকার বা লম্বা খাবারটি নিমিষে ক্ষুধার তা-বকে কমিয়ে দেয়; কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই খাবারটি কি আদৌ শরীরের জন্য কোনো উপকারিতা বয়ে আনে? 

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিস্কুট শরীরের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। উল্টো মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেক ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, ধীরে ধীরে দেহের ভেতরে নানাবিধ ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। অনেকে মনে করেন, দামি কোম্পানির বিস্কুট খেলে শরীরের উপকার হয়, এমনটা বাস্তবে আদৌ কতটা হয়, তা নিয়ে কিন্তু সন্দেহ থেকেই যায়। কীভাবে বিস্কুট আমাদের শরীরে ক্ষতি করে থাকে, সাধারণত যে যে উপাদান দিয়ে বিস্কুট বানানো হয়, সেগুলো একেবারেই শরীরবান্ধব নয়। 

নিচে তা তুলে ধরা হলো :

ময়দা

বাজারে অধিকাংশ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বিস্কুট তৈরিতে ময়দার বিকল্প নেই। রিফাইন্ড ময়দা কিন্তু শরীরের জন্য একেবারেই উপকারী নয়। কারণ ময়দা বানানোর সময় গমের ভেতরে থাকা পুষ্টিকর উপাদানগুলো ঝরে পড়ে যায়। ফলে ময়দা খেলে শরীরে উপকারে তো আনে না, উল্টো পেটের নানা ধরনের সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেই সাথে বদহজম ও গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, রিফাইন্ড ময়দা হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে আগামী সময়ে গিয়ে ডায়াবেটিকসের মতো মরণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই তো চিকিৎসকরা ময়দা দিয়ে বানানো যে  কোনো খাবারকেই বিষের সাথে তুলনা করে থাকেন। এবার তাহলে আপনিই সিদ্ধান্ত নিন, বিস্কুট নামক বিষটা খাবেন, কি খাবেন না!

হাইড্রোজেনেটেড অয়েল

এই উপাদানটির শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। সেই সাথে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও দেখা দেয়।

চিনি

মিষ্টি জাতীয় বিস্কুট বানানোর সময় প্রচুর পরিমাণ চিনির ব্যবহার করা হয়। আর ক্রিম বিস্কুটের কথা তো ছেড়েই দিলাম। এই পরিমাণ শর্করা রক্তে মিশলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে সুগার লেভেল বাড়তে শুরু করে। আর এমনটা দীর্ঘ সময় ধরে হতে থাকলে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই তো যাদের পরিবারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত মিষ্টি বিস্কুট খেতে মানা করেন চিকিৎসকরা।

ফাইবারের ঘাটতি মেটে না

যে সব বিস্কুটকে ফাইবার সমৃদ্ধ বলে বাজারে বিক্রি করা হয়, তার বেশিরভাগেই যে পরিমাণ ফাইবার থাকে, তা আমাদের দিনের চাহিদার সিকিভাগও পূরণ করে না। বিস্কুট খেলে দেহে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, এমনটা ভেবে নেওয়ার ভুল কাজটা করবেন না।

ক্রিম বিস্কুট নিয়েও প্রশ্ন আছে

বাচ্চারা বিস্কুট খেতে সাধারণত খুব ভালোবাসে। তাই ক্রিম বিস্কুট আদৌ শরীরের জন্য উপকারি কিনা, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়াটা জরুরি। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এমন ধরনের বিস্কুটে প্রচুর মাত্রায় চিনি থাকে। সেই সাথে আর্টিফিশিয়াল রঙের ব্যবহার করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই শরীরের জন্য ভালো হয় না। তাই সাবধান থাকাটা জরুরি।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //