পি কে হালদারের বিরুদ্ধে দুদকের ৫ মামলা

ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ২৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আর্থিক খাতের অর্থ লোপাট মামলার আসামি পলাতক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (১৪ নভেম্বর) দুদকের তিন কর্মকর্তা বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাগুলো করেন।

রবিবার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের ৩২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক এমডি পি কে হালদারসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে সাতটি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রবিবার পাঁচটি মামলা হয়েছে। সোমবার বাকি দুটি মামলা করা হবে।

রবিবার দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পাঁচ মামলার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এ সময় সচিব জানান, পি কে হালদারকে শনাক্ত করতে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইন্টারপোলে পাঠানো হয়েছে।

দুদক জানায়, আসামিরা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বোর্ডের সদস্য। তারা এ প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করেন। পরে তা সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ঋণের আবেদন করেন। ভুয়া কাগজপত্র যাচাই না করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ অস্তিত্বহীন সাতটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৬০ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করে। এরপর কাগুজে সাত প্রতিষ্ঠানের মালিক ওই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। পরে বিভিন্ন পর্যায়ের লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ওই টাকা বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করে পাচার করা হয়।

পাঁচ মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ হাশেম, সাবেক এমডি মো. রাশেদুল হক এবং ৯ জন পর্ষদ সদস্য। পি কে হালদারের আত্মীয়স্বজন, সহযোগীসহ মোট ২৬ জন এসব মামলার আসামি।

পাঁচ মামলার মধ্যে দুদক উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে দুটি, উপসহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান বাদী হয়ে দুটি ও উপসহকারী পরিচালক মোছা. আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

দুদক সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে কাগুজে প্রতিষ্ঠান জি অ্যান্ড জি এন্টারপ্রাইজের নামে ৩০ কোটি টাকা, তামিম অ্যান্ড তালহা ব্রাদার্সের নামে ৩০ কোটি টাকা, গ্রীন লাইন ডেভেলমেন্ট লিমিটেডের নামে ৬০ কোটি টাকা, এমটিবি মেরিনের নামে ৬০ কোটি টাকা ও পি অ্যান্ড এল ইন্টারন্যাশনালের নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এ মামলাগুলোতে।

পাঁচ মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি-১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ৪ (২), (৩) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দুদক জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এক হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩৭ জনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে।

পাঁচ মামলার অন্য আসামিরা হলেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ হাশেম, সাবেক পরিচালক মো. নওশেরুল ইসলাম, বাসুদেব ব্যানার্জী, নাসিম আনোয়ার, সাবেক এমডি রাশেদুল হক, সাবেক ভিপি ও পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নাহিদা রুনাই, সিনিয়র ম্যানেজার রাফসান রিয়াদ চৌধুরী, গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান তামিম অ্যান্ড তালহা ব্রাদার্সের এমডি মো. মুনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া অস্তিত্বহীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নামও রয়েছে আসামির তালিকায়।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //