Logo
×

Follow Us

প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

২০৩৩ সালের আগে চালু হচ্ছে না নতুন মেট্রোরেল

Icon

নিশাত বিজয়

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:১৭

২০৩৩ সালের আগে চালু হচ্ছে না নতুন মেট্রোরেল

রাজধানীর যানজট নিরসন ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া মেট্রোরেল মহাপরিকল্পনা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও সেই সময়সীমা আর সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, নতুন কোনো মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। আগামী বছর কাজ শুরু হলেও অন্তত সাত বছর সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে ২০৩৩ সালের আগে নতুন কোনো রুট চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

প্রকল্পে ধীরগতি ও ব্যয়বৃদ্ধি

সরকারের ছয় রুটের মেট্রোরেল পরিকল্পনার মধ্যে এখন পর্যন্ত চালু হয়েছে কেবল উত্তরা-মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬। পাতাল মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালে। কিন্তু এখনো এর অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ।

প্রকল্প পরিচালক আবুল কাসেম ভূঁঞা বলেন, ‘বর্তমানে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ। প্রাথমিক পরিকল্পনার তুলনায় প্রকল্প শেষ করতে আরো অন্তত ৫ বছর লাগবে।’

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পাতাল অংশ এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়াল অংশে খনন ও ইউটিলিটি স্থানান্তর কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ডিএমপি, ওয়াসা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংস্থার সমন্বয় জটিলতা, জমি অধিগ্রহণ বিলম্ব এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবেই প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছে।

অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতে গেলে সময় লাগবে

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ দেশকাল নিউজকে বলেন, ‘একটি মেট্রো প্রজেক্ট শুরু হলে অপারেশনে আসতে সাধারণত সাত বছর সময় লাগে। আগামী বছর যদি নতুন কাজ শুরু হয়, তাহলে সেখান থেকে কমপক্ষে সাত বছর সময় ধরতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনি যদি খরচ বাঁচাতে চান, তাহলে সময় লাগবেই। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনি তাড়াহুড়ো করে ব্যয় বাড়াবেন, নাকি সাশ্রয় করে ধীরে এগোবেন। খরচ কমাতে গিয়ে দেরি হচ্ছে, তবে এটি দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ভালো।’

এমডির মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে পূর্ণ বাস্তবায়ন বাস্তবে সম্ভব নয়। এখন লক্ষ্য হলো, বিকল্প অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর কাজ পুনরায় সচল করা।

বিকল্প অর্থায়নের খোঁজে ডিএমটিসিএল

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এখন আর কেবল জাইকার ওপর নির্ভর করছে না। যারা কম ব্যয়ে মানসম্পন্ন কাজ করতে পারবে-যেমন এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে তাদের। 

আগে জাপানের সহায়তায় প্রকল্পগুলো এগোলেও রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তায় তাদের বিনিয়োগ আগ্রহ কমে গেছে। ফলে সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে। 

পাতাল রেল প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা

ঢাকার পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪৯ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায়।

ডিএমটিসিএলের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে মুদ্রার অবমূল্যায়ন, উপকরণ পরিবহন খরচ এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্বের কারণে।

প্রতি কিলোমিটারে ঢাকার পাতাল রেলের খরচ দাঁড়াচ্ছে ১৯৯ মিলিয়ন ডলার, যা সিঙ্গাপুর (৪৩০ মিলিয়ন) বা সিডনির (৬৭৭ মিলিয়ন) তুলনায় কম হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তা এখনো একটি বড় বোঝা।

নগরবাসীর হতাশা

প্রকল্পে দেরির কারণে কুড়িল-বাড্ডা-রামপুরা অংশে যানজট এখন প্রায় সারা দিনের চিত্র।

নদ্দা এলাকার চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম দেশকাল নিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন অফিসে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লেগে যায়, যা আগে ছিল ২৫ মিনিট। প্রগতি সরণির মাঝখানে কাজ বন্ধ থাকায় যানজট আরো বেড়েছে।’

অন্য যাত্রী রাকিবুল হক বলেন, ‘মেট্রোরেল ছিল শহরের স্বপ্ন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সেই স্বপ্ন আরো ১০ বছর দূরে।’


২০৩৩ পর্যন্ত যে রুটগুলো ঝুলে আছে

এমআরটি লাইন-১ : বিমানবন্দর-কমলাপুর (পাতাল) এবং নতুন বাজার-পূর্বাচল (উড়াল), অগ্রগতি ৬%

এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) : গাবতলী-পান্থপথ-হাতিরঝিল-বাতেনবাড়ি, টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত

এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) : কামরাঙ্গীরচর-আদমজী, প্রাক-সমীক্ষা পর্যায়ে

এমআরটি লাইন-২ : গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ, সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে

এমআরটি লাইন-৪ : কামালপুর-মোহাম্মদপুর, প্রস্তাব পর্যায়ে

মেট্রোরেল-৬ ঢাকাবাসীর কাছে এরই মধ্যে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু নতুন রুট না বাড়লে সেই সুফল সীমিত থাকবে। 

২০৩৩ সালের আগে আর কোনো রুট চালু না হলে যানজট ও বায়ুদূষণের শহর ঢাকায় নগরবাসীর স্বপ্ন আরো দীর্ঘ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ফেয়ার দিয়া ১১/৮/ই, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট (লেভেল-৮), বক্স কালভার্ট রোড, পান্থপথ, ঢাকা ১২০৫