সব কিছু চলে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ!

সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন। ফাইল ছবি

সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন। ফাইল ছবি

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ডও বটে। একটা জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য শিক্ষা অপরিহার্য। আজ এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর কারনে।

আগে অভিভাবকরা বলতেন, স্কুল-কলেজে পোলাপাইন পড়ে না। এখন বলেন তার উল্টোটা। এখন বলছেন বাচ্ছারা স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার কারনে পড়ালেখায় গোল্লায়, কোনটা সঠিক? আসলে সূর্য ডুবে গেলে দিনের আলোর কদর কতটা তা বুঝা সহজ। শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালি। তারা বাগানে ফুল ফুটানোর মাধ্যমে সুবাস ছড়ান, আর ছাত্রছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাণ। আজ প্রাণহীন ও নির্জীব হয়ে পড়েছে প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সবার একই জিজ্ঞাসা- কখন খুলবে তাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনলাইন ক্লাসের বেশ তোড়জোড় দেখা গিয়েছিল শুরুতে, বর্তমানে তা জিমিয়ে পড়েছে। যেসব ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল, ফেসবুক ও ইন্টারনেট এসব চালাতে দেখলে কঠোর হতাম আজ তা নির্ভয়ে ছেড়ে দিয়েছি। তাদের হাতে এখন দামি মোবাইল, অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী এখন পাবজি ফ্রি ফায়ার গেমসে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এটি ফেন্সিডিল আর ইয়াবা আসক্তির চাইতেও ভয়াবহ আকার ধারন করবে।

যে পোলাপাইনদের হাতে এন্ড্রয়েড ফোন তুলে দিয়েছি পরবর্তীতে তাদের কিভাবে বুঝাবো মোবাইল ফোন ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে? করোনা মহামারিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ভাতা ঠিকই চলছে। তবে যারা প্রাইভেট, কেজি স্কুল ছিল তাদের পকেটে লাল বতি জ্বলছে। এখনও কেজি স্কুলের অনেক শিক্ষককে দেখছি ভিন্ন পেশায় যোগ দিতে যেমন কেউ রাজ মিস্ত্রির জোগালী আবার কেউ গার্মেন্টস কিংবা দোকানে বা গাড়ির হেলপারি করতে, কেজি স্কুলের অনেক শিক্ষক কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় এর পড়ুয়া স্বল্প বেতনে কেজি স্কুলে চাকরি নিয়ে ২/১ একটা টিউশানি করে সংসার চালাতো আজ তারা পথের ভিখারি। সরকার চাইলে তাদের জন্য প্রণোদনা দিতে পারে। 

খোঁজ নিয়ে দেখলাম- পাঁচ লাখেরও বেশি কেজি স্কুলের শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অছে যাদের অনেক ননএমপিও শিক্ষক রয়েছেন যারা ডিগ্রি অনার্স পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করে থাকেন। যাদের বেতন ছাত্রছাত্রীদের বেতন হতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দেয়া হয়। আজ তারাও কোন বেতন পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠান হতে। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ এখন না নিলে বড্ড ভুল হবে। যুক্তি হলো দেশের রফতানি বাজার ঠিক রাখতে গার্মেন্টস খুলে দিয়া হয়েছে; কিন্ত কোন দুঃখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ এভাবে ঢেউ আজীবন আসতে থাকুক আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিফটের মাধ্যমে খুলে দিলে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি কঠোর হলে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্ভব। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শতভাগ সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া।

-সহকারী অধ্যাপক
গণিত বিভাগ, 
বাকলিয়া শহিদ এন এম এম জে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh