মত প্রকাশে অদৃশ্য খড়গ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডিলানো রুজভেল্ট বলেছিলেন, ‘যদি কখনো সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে খর্ব করা হয়, তখন মত প্রকাশ ও শিক্ষার স্বাধীনতা, জনসমাবেশের মতো মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়বে।’ 

আবার অষ্টাদশ শতকের প্রভাবশালী ফরাসি সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক ফ্রাঙ্কো ম্যারিক অ্যারোয়েট ভলতেয়ারের অন্যতম উক্তি, ‘সরকার যখন অন্যায় করছে, তখন ন্যায়ের কথা বলা বিপজ্জনক।’ 

আইরিশ বংশোদ্ভূত উইলিয়াম ডুয়ানে নামে খ্যাতিমান এক মার্কিন সাংবাদিক ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতায় ছিলেন একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে। সরকারবিরোধী ভূমিকার কারণে তাকে এক সময় অপহরণ করা হয়। মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে দীর্ঘকাল তার ওপর চলে নানা মানসিক নির্যাতন। শেষ পর্যন্ত ভারত থেকেই তাকে নির্বাসিত হতে হয়। 

বর্তমান বিশ্বেও মত প্রকাশের ওপর নেমে এসেছে এক ধরনের খড়গ। নানামুখী হস্তক্ষেপের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই চলতে হয় সমঝোতা করে। আবার সংবাদপত্রের ওপর দফায় দফায় সেন্সরশিপ আরোপ থেকে শুরু করে তা বন্ধের ইতিহাসও কম নয়।

বাংলাদেশে আশির দশকে স্বৈরাচার সরকার সামরিক আইন তুলে নেয়ার পরও সংবাদমাধ্যমের ওপর খবরদারি চালিয়ে যায়। তারা মূলত বিশেষ ক্ষমতা আইনের আলোকেই এমনটা করতে পারত। তথ্য অধিদফতর থেকে টাইপ করা নির্দেশনামা রাতে পত্রিকাগুলোতে আসত। বলা হতো- কোন ছবি কত কলাম হবে, কোন সংবাদ কোন পৃষ্ঠায় কত কলামে যাবে এবং কোন কোন সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না। নির্দেশনামার নিচে একজন উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তার স্বাক্ষরবিহীন নাম থাকত সেই সময়। সুবোধ বালকের মতোই সেসব নির্দেশ পালন করতে হয় প্রতিটি পত্রিকাকে। তাই ওই সময়ের সংবাদপত্র পাঠকের বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। বেড়ে যায় গুজব ছড়ানোর প্রবণতা। আর সঠিক সংবাদ জানতে মানুষ অপেক্ষা করতো বিদেশি রেডিওর বাংলা সংবাদ শোনার জন্য। দেশ সে পথেই হাঁটছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে গত ২৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অহেতুক সমালোচনার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সেই হলুদ সাংবাদিকতাটা যেন না থাকে। নীতিহীন সাংবাদিকতাটাও যেন না হয়। আর অনলাইনে সমাজভিত্তিক, মানবিক, মানুষের কল্যাণ, উন্নয়নের দিকে যেন মানুষের দৃষ্টি থাকে। সে ধরনের সাংবাদিকতাই যেন হয়।’ 

একইভাবে ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট সম্প্রচার নীতিমালার পক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘যে ডালে বসে আছেন সেই ডাল কাটবেন না। তাহলে নিচে পড়ে যাবেন।’ এই ইঙ্গিত যে কোনো বুদ্ধিমানের জন্যই যথেষ্ট। সাংবাদিকরা যেখানে কলম ধরেছেন, সেখানে হয় সাম্রাজ্য ধসে পড়েছে না হয় উত্থান হয়েছে নতুন সাম্রাজ্যের; কিন্তু মতপ্রকাশের প্রচলিত পথগুলো যখন রুদ্ধ বা সংকুচিত হচ্ছে তখনই সেই স্থান দখল করে নিচ্ছে বিকল্প-মাধ্যম। বিজ্ঞাপনদাতারাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন মূলধারার সংবাদমাধ্যম থেকে। এ কারণে বেশ অর্থ সংকটেই পড়েছে দেশের মিডিয়াগুলো। চলছে কর্মী ছাঁটাই। 

অন্যদিকে সারাবিশ্বেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির এই যুগে যা প্রভাব ফেলে খুব দ্রুতই। যে কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ-আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও এটি এখন সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। একটি রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান থেকে শুরু করে একজন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত মতবিনিময়ের সুযোগ মিলছে। এক কথায় অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক হওয়ায় ক্রমেই সামাজিক মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে সবাই। এর সুবিধা নিচ্ছে মূল ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোও। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে নিজেদের খবরকেও দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারছে বৃহৎ এই প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে। যদিও সরকার মনে করছে, অনিয়ন্ত্রিত এসব মাধ্যমে অনেক অপপ্রচারও ছড়ানো হচ্ছে, যা কঠোর হাতে দমন করা জরুরি।  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। মূলত নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্যই অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন চলছে। এতে দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা, জনমনে উদ্বেগ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার অবকাশ রয়েছে। তাই সরকার ধৈর্যের সাথে সমস্ত অপপ্রচারকারী ও তাদের সহযোগীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এ সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছে যে, দেশের স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে এসব অপকর্ম সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। 

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশ ও বিদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সরকারের এই নির্দেশ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তারা মনে করেন, মতামত প্রকাশের অধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ এটি জনগণকে তথ্য ও ধারণার অবাধ প্রবাহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে সক্ষম করে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যক্তিগত বিকাশের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এটি আমাদের মতবিরোধ ও শোনার অধিকার দেয়। বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা ও মতামত প্রকাশের মাধ্যমে আমরা মৌলিক বিশ্বাস সম্পর্কে নিজস্ব পছন্দ পোষণ করতে পারি। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য হিসেবে স্বীকৃত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘সাধারণ মানুষ নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখবে তা বলে দেয়ার উপায় সরকারের নেই। আমরা তাদের সমালোচনা করতেই পারি, কারণ এটি আমাদের অধিকার। সমালোচনা করার বিরুদ্ধে কোনো আইনও নেই। সুতরাং এই বিজ্ঞপ্তিকে অবৈধ বলা যেতে পারে।’

জনসাধারণের ওপর এই চাপটি নার্স, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সরকারি কর্মকর্তা এবং কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিষয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞারই ধারাবাহিকতা। করোনাকালের শুরুতেই স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতির অভাব নিয়ে খবর প্রকাশিত হয় সংবাদমাধ্যমে। এতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন নার্সরা। এর পরই খড়গ নেমে আসে তাদের কথা বলায়। 

গত ১৫ এপ্রিল নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর একটি নোটিস জারি করে জানিয়ে দেয়, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের এখন থেকে মিডিয়ার সাথে কথা বলতে মানা। এ বিষয়ে নার্সদেরই অনেকে অবশ্য বলছেন, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কোনো চিত্র যেন তাদের মাধ্যমে বাইরে প্রকাশ না পায় সে জন্যই এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের এক নার্স প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের খাদ্যসংকট নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেয়ার পর সেটি ভাইরাল হয়, প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসে।

সরকারি কর্মকর্তারাও বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে পারবেন না। মতামত দিতে পারবেন না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। টেলিভিশন টকশো বা আলোচনায়ও অংশ নিতে পারবেন না অনুমতি ছাড়া। গত ১৮ আগস্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদেরও প্রচারমাধ্যমে কথা বলার আগে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে ২১ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অবশ্য গত ২৩ এপ্রিলই এ বিষয়ে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন। ৩ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের শিক্ষক, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর একইরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত ও মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বেশ অন্তরায়। বিশেষ করে যারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ করেন, তারা আরো বেশি সমস্যায় পড়ছেন। কারণ প্রতিবেদনের জন্য এখন তথ্য বা কোনো বক্তব্য চাইলে সরকারি কর্মকর্তারা সেই প্রজ্ঞাপনটি দেখিয়ে দায় এড়ান। ওপরের অনুমতি নেয়ার ঝামেলায় যেতে চান না কেউই। 

সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘টেলিভিশন ও অনলাইনের খবর এখন তাৎক্ষণিক। এখন সাংবাদিকরা তথ্য চাইবেন আর কর্মকর্তারা অনুমতির জন্য অপেক্ষা করবেন। তাহলে তো তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবেই। এটি নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি করবে। অথচ তথ্য অধিকার আইনের ভূমিকার মধ্যেই বলা আছে যে, এখন অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগ। কাজেই সরকার ও প্রশাসন কোনো তথ্য আর নিয়ন্ত্রণ করবে না। তখন আরো বলা হয়েছিল- তথ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে অন্য আইনে যা-ই বলা হোক না কেন, তথ্য অধিকার আইন সব আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাবে; কিন্তু ওই আইনকে পাশ কাটিয়ে আবার এ ধরনের নির্দেশনা জারিকে আমি মনে করি, তথ্য নিয়ন্ত্রণে আগের সেই চেতনায় ফিরে যাওয়া।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আগের আইন ও বিধিগুলো ঔপনিবেশিক আমলের। তথ্যের গতি রোধ করার জন্যই জনবিচ্ছিন্ন আমলাদের দিয়ে এগুলো করা হয়েছিল।’

কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী কী করতে পারবেন, সেই বিধিনিষেধও আরোপ করা হয় ৯ অক্টোবর থেকে। এক নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) জানায়, সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, মন্তব্য, লাইক ও শেয়ার করা যাবে না। আরো কিছু বিষয়ে বিধিনিষেধ দিয়ে বলা হয়- জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস বা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে; এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, মন্তব্য, লাইক, শেয়ার থেকেও বিরত থাকতে হবে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এমন সব নিষেধাজ্ঞায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। 

তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ন্ত্রণ হয় হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রীদের দিয়ে। আধুনিক ও একবিংশ শতাব্দীতে এরকম চিন্তাভাবনা করাটাই মূর্খতার লক্ষণ। একটা দেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যার জন্ম হয়েছে, মানুষের স্বাধীনতার জন্য জন্ম হয়েছে, যেখানে মানুষ থাকবে স্বাধীনভাবে মর্যাদাসহকারে। মর্যাদার অন্যতম অংশ হলো- আমি আমার মতামত প্রকাশ করতে পারব। সরকার ভুল করছে নাকি ঠিক করছে, তাদের কোন পথে যাওয়া দরকার- জনগণ যদি এ কথা বলতে না পারে তাহলে সরকার ঠিকমতো চলবে কী করে? আসলে এই চিন্তাগুলো কাদের মাথা থেকে আসে, কোন আমলার মাথা থেকে বের হয় আমি জানি না। আমলারাই দেশটাকে শেষ করে দিচ্ছে। তাদের এসব চিন্তা-ভাবনা থেকে যদি সরকার মুক্ত হতে না পারে, তাহলে একে মানুষের সরকার বলে কী লাভ?’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘এখানে ফ্রিডম অব স্পিচ জড়িত, যাকে বলে বাক স্বাধীনতা; কিন্তু অপরদিকে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টিও জড়িত। তবে দেশ দিন দিন রাজা-বাদশাহর যুগে ফিরে যাচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে। তাই দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে বাক স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে। এই অধিকার না থাকলে জীবনটা পশুর জীবন হয়ে যায়।’

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh