রবার্ট ফিস্ক: যুদ্ধবিরোধী নির্ভীক যোদ্ধা

রবার্ট ফিস্ক

রবার্ট ফিস্ক

‘আজ যত যুদ্ধবাজ দেয় হানা হামলাবাজ/আমাদের শান্তি সুখ করতে চায় লুটতরাজ।/ ...জোট বাঁধো তৈরি হও যুদ্ধ নয় তোলো আওয়াজ...’- প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সলীল চৌধুরীর এই গানটি হয়তো কখনোই শোনেননি প্রথিতযশা ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক। 

তবে চিন্তা-চেতনা, মন ও মননে গানের ওই দর্শনকেই তিনি লালন করতেন। নির্যাতিত ও বিবেকবান মানুষের কণ্ঠস্বর ফিস্ক বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ ও সাহসিকতার জন্য সমধিক খ্যাত। সংবাদের উৎসে পৌঁছতে কখনোই পিছপা হননি। সত্যকে তুলে ধরতে হাতের মুঠোয় জীবন নিয়ে ছুটেছেন যুদ্ধক্ষেত্রেও। তাই তার যেকোনো প্রতিবেদন বিশ্বব্যাপী সাগ্রহে পঠিত এবং আলোচিত হয়। 

ফিস্ক প্রায়ই বলতেন, ‘কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে কিংবা কোনো দূতাবাস ঘুরে এসে আমি রিপোর্ট করি না। কারণ এ জন্য তো মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার দরকার নেই, তা লন্ডনে বসেই করা সম্ভব।’ 

তিনি সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিমালা আর জায়নবাদী স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন খবর সংবাদমাধ্যমগুলো এড়িয়ে চলে।’

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে বছর ছয়েক আগে রবার্ট ফিস্ক এক নিবন্ধে লিখেছিলেন, ‘এক সময় যে বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতাম, তার ওপর হওয়া খবরের কাগজের কাটিং জমিয়ে রাখতাম। মাঝে মাঝে সে বিষয়ে বইও পড়তাম। এখন আমাদের অধিকাংশ প্রতিবেদন পড়লেই মনে হয়- ইতিহাস বুঝি গতকাল শুরু হয়েছে, কিংবা বড়জোর গত সপ্তাহে। বছরের পর বছর সমানে একই হানাদারি চললেও, ইতিহাস কিন্তু গত সপ্তাহে শুরু হয়নি। পুরনো কথা মনে রাখা দরকার। অবশ্য বিভিন্ন সেনা এবং বিভিন্ন সরকার চায় যে, আমরা বিশ্বাস করি বা ভুলে যাই- তারা কী করেছে। তাই এই স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ বা স্মৃতি মুছে দেয়ার খেলা।’

দেখিয়েছেন মুদ্রার উল্টো পিঠ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইংল্যান্ডের কেন্টে ১৯৪৬ সালের ১২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন রবার্ট ফিস্ক। বাবা বিল ফিস্ক ছিলেন মেইডস্টোন নগর কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ। খুব অল্প বয়সেই যোদ্ধা বাবা তাকে বেশ কয়টি যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যান। সেখান থেকেই বোধ হয় যুদ্ধের প্রতি এক অজানা আকর্ষণ অনুভব করেন ফিস্ক, যা পরবর্তী জীবনে তার যুদ্ধ-সাংবাদিক হতে প্রলুব্ধ করেছে। 

এক সময় তিনি আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজধানী ডাবলিনের উপকণ্ঠে বসবাস শুরু করেন। সেখানে থেকে ব্রিটিশ বিভিন্ন মিডিয়ার জন্য কাজ করেছেন। কভার করেছেন বলকান, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি, সমাজসহ মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ছিল তার অগাধ জ্ঞান। ইরাক, সিরিয়াসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে তার মাধ্যমে বিশ্ব যা জানতে পেরেছে তা যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ; অনেকেরই তা ছিল অজানা।

এক সাক্ষাৎকারে প্রথিতযশা এই সাংবাদিক জানান, তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন ছাত্রজীবন থেকেই। মাত্র ১২ বছর বয়সেই রিপোর্টার হওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেন। প্রথমে সানডে এক্সপ্রেসের ডায়েরি কলামে লেখালেখি করতেন। সেখানে সম্পাদকের সাথে বনিবনা না হলে সানডে এক্সপ্রেস ছেড়ে যোগ দেন দ্য টাইমসে। ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত টাইমসের বেলফাস্ট প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এরপর পর্তুগালের কারনেশন (সাদা বা গোলাপি) বিপ্লব কভার করতে চলে যান। 

সেখান থেকে তাকে মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন ফিস্ক। ছিলেন নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতা, বিশেষ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কঠোর সমালোচক। তাই পত্রিকাটির মালিক রুপার্ট মারডকের সাথে মতানৈক্যের কারণে ১৯৮৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেন। তার ঠিকানা হয় দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায়, মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি হিসেবেই।

লেবাননের সংঘাত নিয়ে খবর তৈরি করতে গিয়ে বৈরুতের প্রেমে পড়ে যান রবার্ট ফিস্ক। ১৯৭৬ সাল থেকে দীর্ঘ ৩০টি বছর সেখানেই অবস্থান করেন। সাংবাদিকদের মধ্যে তিনিই প্রথম সাবরা ও শাতিলা গণহত্যা এবং সিরিয়ার হ্যামা গণহত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর পর লেবাননের সংঘর্ষ নিয়ে লেখেন ‘পিটি দ্য ন্যাশন’ বইটি। এছাড়া আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, কসোভো যুদ্ধ, আলজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ ও ইরান-ইরাক যুদ্ধ নিয়েও তিনি অসংখ্য প্রতিবেদন তৈরি করেন, যা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় ছাপা হয়। 

যুদ্ধ আর দাঙ্গার মাঝে নিঃসঙ্গতাও বোধ করেছেন ফিস্ক। একবার সাংবাদিক র‌্যাচেল কুককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, চাইলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাজার মতো জীবনযাপন করতে পারতেন। তবে কখনোই কোনো লোভের কাছে মাথা নত করেননি। তাইতো টাইমসের লোভনীয় প্রস্তাব, প্যারিসে গাড়ি-বাড়িসহ বহু অফার নির্দ্বিধায় ফিরিয়ে দিয়েছেন।

স্রোতের বিপরীত

‘ইমবেডেড জার্নালিজম’ শব্দযুগল সাংবাদিকতায় নতুন সংযোজন হয়ে আলোচনায় আসে মার্কিন নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর ইরাক অভিযানের সময়। যাকে বলা চলে, পরাশ্রয়ের সাংবাদিকরা আশ্রয়দাতার মনোরঞ্জনের জন্য সত্যকে গোপন করে মিথ্যাকে বিচিত্র করে রচনা করা। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংবাদ সরাসরি প্রচারের জন্য সামরিক ইউনিটের সাথে সাংবাদিকদের যুক্ত করে এই অভিনব পদ্ধতি চালু হয়। ইরাক যুদ্ধের সময়ে ইমবেডেড জার্নালিজমের মাধ্যমে পাওয়া খবরে খুশি ছিল না বাংলাদেশসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে যেন সবাই উদগ্রীব। 

ওই সময়ে আলোড়ন তুলেছিলেন রবার্ট ফিস্ক। তিনি সংবাদ ও ভাষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা নীতির কড়া সমালোচনা করেন। এ কারণে অবশ্য ওই শক্তির কাছে বিতর্কিত ছিলেন ফিস্ক। বাংলাদেশের পাঠক তার বিশ্লেষণ ছাড়া আর কাউকেই যেন বিশ্বাস করত না। তাই এখানকার পত্রিকাগুলোতে তখন তার লেখার অনুবাদ ছিল চাহিদার তুঙ্গে।

অন্যদিকে, ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করায় সানডে ইন্ডিপেন্ডেন্ট কলামিস্ট ইয়োঘান হ্যারিস ও দ্য গার্ডিয়ানের কলামিস্ট সিমন হগার্ট তার বিরুদ্ধে ব্যাপক লেখালেখি করেন। যুদ্ধ-পরবর্তী ইরাকে সাম্প্রদায়িক ও গোষ্ঠীগত সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন ফিস্ক। আর ইসরায়েলকে তিনি সরাসরি বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 

তার ভাষায়, ‘ইসরায়েল যুগ যুগ ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করছে। তাদের এই দুষ্কর্ম সম্পর্কে যেসব সাংবাদিক সত্য সংবাদ পরিবেশন করেন না, তারা ভীতু।’ 

তাকে দমিয়ে দেয়ারও কম চেষ্টা হয়নি। ২০০৯ সালে গাজা আক্রমণ করলে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে ফিস্ক বহু তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এসব কারণে তার সমালোচকরা তাকে সন্ত্রাসবাদী, মার্কিনবিরোধী, পক্ষপাতমূলক, ইহুদি-বিদ্বেষীসহ নানা উপাধিতে আখ্যায়িত করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিন্দা জ্ঞাপন করলেও এ বিষয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন বাম ধারার এই সাংবাদিক। ২০০৬ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভাষণে বলেন, ‘আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রেই এ হামলার বিষয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। কারণ হোয়াইট হাউস হামলার বিষয়ে সবকিছু লুকিয়ে রেখেছে, যার অনেক কিছুই আমরা জানি না। সম্ভবত বিমানটিতে আগেই মিসাইল আঘাত হেনেছিল, যা আমরা জানি না। আবার আমরা অনেক কিছুই বলতে পারি না...।’

লাদেন ‘স্বীকৃত’ সৎ মানুষ

ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে নিরপেক্ষভাবে তা পরিবেশনই ছিল রবার্ট ফিস্কের সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য। তিন তিনবার নিয়েছিলেন বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার। ১৯৯৬ সালের ১০ জুলাইয়ে আফগানিস্তানের নানগহরের গোপন সাক্ষাৎকার ছাড়াও তিনি আরো দুইবার লাদেনের মুখোমুখি হন- একবার ১৯৯৩ সালের ৬ ডিসেম্বর, আরেকবার ১৯৯৭ সালের ২২ মার্চ। সাক্ষাৎকার দুটিতে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আল-কায়েদার যুদ্ধ সম্পর্কে নানা অজানা বিষয় উঠে আসে। সেগুলো দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে ছাপা হয়। 

তবে নানগহরের সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ফিস্ককে উদ্দেশ্য করে বিন লাদেন বলেন, ‘আপনি যেহেতু আত্মিক দিক থেকে একজন সৎ মানুষ, তাই আপনি একজন মুসলিম।’ উত্তরে রবার্ট ফিস্ক বলেন, ‘আমি মুসলিম নই। আমি কেবল একজন সাংবাদিক, সত্যটুকু তুলে ধরতে চাই।’ 

এছাড়া সাদ্দাম হোসেন ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির সাক্ষাৎকার নেওয়ারও সুযোগ পান ফিস্ক।

জীবন যখন হাতের মুঠোয়

যুদ্ধের সংবাদ কভার করতে গিয়ে বহুবার হুমকির মুখে পড়েছেন ফিস্ক, আহতও হয়েছেন। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় আর্টিলারির আঘাতে আহত হলে তার শ্রবণশক্তি অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। যার ঘানি টেনেছেন জীবনের শেষ পর্যন্ত। এছাড়া বিদেশি গুপ্তচর সন্দেহে দু’বার অপহরণ চেষ্টার হাত থেকে বেঁচে যান তিনি। আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে অবস্থানকালে আফগান শরণার্থীদের হাতেও বেশ মার খেতে হয়েছিল তাকে। 

ওই হামলা সম্পর্কে তার উপলব্ধি- “আফগানদের হিংস্রতা আমাদেরই সৃষ্টি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরাই তাদের অস্ত্র দিয়েছি। তাদের গৃহযুদ্ধের সময় আমরা তামাশা করেছি, তাদের বেদনাকে উপেক্ষা করেছি। তারপর আবার তাদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়েছি ‘ওয়ার ফর সিভিলাইজেশনস’র জন্য। সবশেষে তাদের ঘরবাড়িতে বোমা মেরেছি, ধ্বংস করেছি তাদের পরিবার।”

যুদ্ধের আত্মকথা

কলমের মাধ্যমে রবার্ট ফিস্ক তুলে ধরেছেন বহু যুদ্ধের অন্তরালের কাহিনি। এজন্য তাকে ‘ওয়ার জাংকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘দ্য গ্রেট ওয়ার ফর সিভিলাইজেশন : দ্য কনকুয়েস্ট অব দ্য মিডল ইস্ট’, এটি তার লেখা অন্যতম সেরা বই। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন এবং তাদের মিত্র ইসরায়েলের নীতি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এর সমালোচনাও করেছেন।

২০০০ সালে প্রকাশিত ‘ইরাক আন্ডার সিজ : ‘দ্য ডেডলি ইমপ্যাক্ট অব স্যাঙ্কশন অ্যান্ড ওয়ার’-এ ইরাকে পুষ্টিহীনতা, রোগশোক ও উচ্চমাত্রায় শিশুমৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বেশ কয়েকটি নিবন্ধ লেখেন। 

এছাড়া ‘দ্য পয়েন্ট অব নো রিটার্ন : দ্য স্ট্রাইক হুইচ ব্রোক দ্য ব্রিটিশ ইন আলস্টার’ (১৯৭৫), ‘ইন টাইম অব ওয়ার : আয়ারল্যান্ড, আলস্টার অ্যান্ড দ্য প্রাইস অব নিউট্রালিটি, ১৯৩৯-১৯৪৫’ (২০০১), ‘পিটি দ্য ন্যাশন : লেবানন অ্যাট ওয়ার’ (১৯৯০), ‘দ্য এজ অব দ্য ওয়ারিওর : সিলেক্টেড রাইটিংস’ (২০০৮)। 

যুদ্ধ সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদান রাখায় পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। ‘পুলিৎজার’ পুরস্কার পেয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৮ সালে দিয়েছে ‘ওভার অল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’। সাতবার তাকে দেয়া হয়েছে ‘ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিস্ট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ এবং দু’বার ‘রিপোর্টার অব দ্য ইয়ার’। ১৯৮৬ সালে ‘জাতিসংঘ প্রেস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। 

থেমে যাওয়া কলম

রবার্ট ফিস্কের কলম আজ স্তব্ধ, আর কখনোই কথা বলবে না মার্কিন আগ্রাসন কিংবা ইসরায়েলের বর্বরতার বিরুদ্ধে। খবরের কাগজে হয়তো আর উঠে আসবে না তার বিশ্লেষণে মানুষের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের বিদেশনীতির নীল নকশা।

মধ্যপ্রাচ্যের এনসাইক্লোপিডিয়া খ্যাত রবার্ট ফিস্ক গত ৩০ অক্টোবর যুদ্ধ-বিগ্রহ ও হিংসা-হানাহানির এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। আইরিশ টাইমসের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ৭৪ বছরের ফিস্ক ভর্তি হয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের সেন্ট ভিনসেন্টস হাসপাতালে। এর খানিক পরই তার মৃত্যু হয়। 

তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আইরিশ প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিগিনস টুইটারে লিখেন, ‘রবার্ট ফিস্কের মৃত্যুতে সাংবাদিকতার জগৎ মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অন্যতম একজন সেরা ভাষ্যকারকে হারালো।’


মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh