পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার মেটাফোরিক্যাল সিনেমা প্যারাসাইট

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিভাবান চিত্রনির্মাতা বং জুন হো পরিচালিত ‘প্যারাসাইট’ ছবিটিকে এক কথায় যদি বলতে হয়, তাহলে বলা যেতে পারে- প্যারাসাইট হলো বাস্তবতার বিনোদনমূলক ছবি, পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার অধীনে বিরাজমান ধনী-গরিবের মাঝে, মোটা দাগে শ্রেণি সচেতনতার রুপকশোভিত বা মেটাফোরিক্যাল ছবি।

ছবির সব থেকে বড় বৈশিষ্ট্য- ধনী এবং গরিবের মাঝে বিস্তর ব্যবধান থাকলেও, গল্পে কোথাও এই দুই শ্রেণির মধ্যে আমরা কোনো সংঘর্ষ দেখতে পাই না। তথাকথিত কোনো শ্রেণি সংঘর্ষ বা শ্রেণি-সংগ্রাম অন্তত ছবির উপরিতলে দেখা যায় না। বরং এই দুটি শ্রেণি যেন একে-অপরের নির্ভরশীলতার মধ্যে দিয়ে গল্পের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

কমেডি এবং ট্র্যাজেডির এক অসাধারণ মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে পরিচালক তার ছবিকে বুনে গেছেন। প্রথম থেকে ছবিটি দেখতে দেখতে দর্শক যেমন হাসিতে গড়িয়ে পড়ে, ছবি শেষে তেমনি আকস্মিক ট্র্যাজেডির আঘাতে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতে হয়। অথচ গল্পের কোথাও কোনো ছেদ বা বাধা পড়ে না। মনে হয়, ঘটনাগুলো যেন এভাবেই ঘটার কথা ছিল।

এখানে কোনো তথাকথিত ভিলেন নেই। নেই কোনো বীরত্বব্যঞ্জক হলিউডি নায়ক। ঠিক যতগুলো চরিত্রের সমাবেশ ঘটানোর কথা ছিল, ঠিক সেই পরিমাণ চরিত্রের সমাবেশই দেখা যায় এবং প্রতিটা চরিত্র, সেই চরিত্র যত ছোটই হোক না কেন, ছবি শেষ হলেও দর্শক তার কথা মনে রাখে। শুধু চরিত্র বা গল্পের কথাই দর্শক মনে রাখে না- ছবি শেষে এটি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। কারণ পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় গোলকায়নের এই যুগে, পৃথিবীর সব দেশে ধনী এবং গরিবের মধ্যে যে বিস্তর ব্যবধান আমরা দেখতে পাই, তা থেকে কোনো দেশই এখনো মুক্ত হতে পারেনি। আর তাই বং জুনের ছবিটি শুধু কোরিয়ান না থেকে, হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ৭২তম কান ফেস্টিভ্যালে ‘প্যারাসাইট’ পাম দোর পেলেও, এই লেখাটা যখন লিখছি (২০ জানুয়ারি ২০২০), এই সময়েই নির্দ্বিধায় বলা যায়, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ৯২তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিদেশি ভাষার ক্যাটাগরিতে ‘প্যারাসাইট’ অস্কার সম্মানে ভূষিত হবে। শুধু অস্কারের কারণে নয়, এ রকম ছবি বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে খুব একটা দেখা যায় না। 

প্যারাসাইটের গল্প দুটি পরিবারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। গরিব কিম পরিবার এবং ধনী পার্ক পরিবার। এক ছেলে কি উ ও এক মেয়ে কি জুং, দুইজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্ত্রী চুং সুককে নিয়ে পরিবারের প্রধান কিম কি তাক কোরিয়ার কোনো এক শহরে একটা সেমি বেজমেন্টে বসবাস করেন। একই শহরে পার্ক পরিবার বিশাল প্রাসাদের মতো বাড়িতে বাস করে। সেখানে থাকেন পরিবারের প্রধান পার্ক দং ইক, তার মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী দা হাই, ছোট ছেলে স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র দা সং এবং স্ত্রী চোই ইয়োন গিয়ন। কোনো এক সুন্দর সন্ধ্যায় কি উর বন্ধু মিন হাইউক কির জন্য দুটো উপহার নিয়ে আসে- ১. একটু বড় কিন্তু হাতে ধরা যায় এমন স্কলারস স্টোনস (যে পাথরের প্রসঙ্গে আমরা পরে আসবো) এবং ২. পার্ক পরিবারের মেয়ে দা হাইকে ইংরেজি পড়ানোর জন্য কি উকে গৃহ শিক্ষকের চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই দুটি উপহার কিম পরিবারের ভাগ্যের দরজা এবং আমাদের সিনেমার গল্পের দরজা একই সঙ্গে খুলে দেয়। আমরা একের পর এক দেখতে থাকি কিভাবে কিম পরিবারের সব সদস্য একের পর এক পার্ক পরিবারে চাকরির নিয়োগ পান। নিয়োগের পরেই কি উর নাম বদলে কেভিন হয়, এখন থেকে কি উ কে কেভিন নামে অভিহিত করা হবে। কেভিনের বোন কি জুং নিয়োজিত হন পার্কের ছোট ছেলে দা সংয়ের জন্য আর্ট থ্যারাপির শিক্ষক হিসেবে, কেভিনের বাবা নিয়োজিত হন পার্ক সাহেবের গাড়িচালক হিসেবে এবং সব শেষে কেভিনের মা চুং সুক নিয়োজিত হন সেই বাড়ির আয়া হিসেবে। কিন্তু এই নিয়োগগুলো যে খুব সহজ রাস্তায় হয়, তা নয়। নানান ফন্দিফিকির করে তারা সবাই এই প্রাসাদে স্থান পায়।

প্রথমেই কেভিনের কথা ধরা যাক। তিনি কলেজ পাস না করলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট বানিয়ে, সেই নকল সার্টিফিকেট দেখিয়ে নিয়োগ পান। কেভিন মিসেস পার্ককে ফুসলিয়ে, মিসেস পার্কের দুর্দান্ত দুষ্ট ছেলে দা সংয়ের জন্য তার বোনকে জেসিকা নাম দিয়ে, শিকাগোর ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা একজন আর্ট থ্যারাপিস্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করে। পার্ক সাহেবের ড্রাইভার ইউনের ওপর চারিত্রিক কলঙ্ক লেপনের মাধ্যমে, জেসিকা (এখন থেকে কি জুংকে আমরা জেসিকা নামে বলব) তার বাবা কিম তাককে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। সব শেষে বাড়ির অনেক দিনের পুরনো আয়া মুন ওয়াংকে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত দেখিয়ে, কিম তার স্ত্রী চুং সুককে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। এভাবে পার্ক পরিবারে নিম্ন পদস্থ সব পদের দখল নিয়ে নেয় পুরো কিম পরিবার। কিন্তু কোনো মিথ্যা কখনোই সত্যকে আড়াল করতে পারে না। একদিনের এক রাতের ঘটনা সবকিছুকে উন্মোচিত করে দেয় এবং ছবির চূড়ান্ত ক্লাইমেক্সে মি. এবং মিসেস পার্কের হত্যার মধ্যে দিয়ে ছবির সমাপ্তি ঘটে। এই হলো গল্পের সংক্ষিপ্তসার।

এখন আমরা ছবির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় দিক ছবির মেটাফোরগুলো, যা পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য সৃষ্ট ধনী এবং গরিবের ব্যবধান ক্রমেই বাড়ায়, যা ছবিতে মেটাফোর আকারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়, সেই দিকগুলো নিয়ে আলোচনার মধ্যে দিয়ে ছবির আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করব। এই মেটাফোর ছবির বিভিন্ন দৃশ্য ও শট থেকে শুরু করে সংলাপ, অ্যাকশন, বস্তু ইত্যাদির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমরা তার থেকে কিছু কুড়িয়ে নিয়ে এখানে তুলে ধরছি।

১. ছবির প্রথম দৃশ্যের প্রথম শট শুরু হয় সেমি বেজমেন্টে কাপড় ঝোলানোর র‌্যাকে ঝুলিয়ে রাখা কিছু ধোয়া মোছা দিয়ে এবং তারপরেই ক্যামেরা টিল্ট ডাউন হয়ে কেভিনকে ধরে। এই টিল্ট ডাউনের মধ্যে দিয়ে, পরিচালক একদিকে যেমন তাদের সেমি বেজমেন্টে থাকার দিকে ইঙ্গিত করেন, (আমরা দেখতে পাই, জানালা থেকে কিছুটা উপরে বাইরের রাস্তা চলে গেছে) আবার তাদের দরিদ্র অবস্থার কারণে ক্যামেরা ওপর থেকে নিচে নামে। দরিদ্ররা সবসময় সমাজের নিচের তলাতে বসবাস করে, প্রতীকী ভাষায় ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়ার্ল্ড’ বলা যায়। অন্যদিকে, মি. বা মিসেস পার্ককে প্রায়ই দেখা যায়, তারা তাদের বিশাল বাড়ির প্রশস্ত সিঁড়ি দিয়ে উঠে যান। ক্যামেরা স্থির রেখে তাদের এই ওপরে ওঠার দৃশ্য, ছবির অনেক জায়গায় অনেকটা ইচ্ছে করেই যেন পরিচালক আমাদের দেখিয়ে দেন! এই ওপরে ওঠার অধিকার যেন একমাত্র ধনীদের জন্যই বরাদ্দ। গরিবের সেখানে প্রবেশ নিষেধ। 

২. ছবির স্পেস বা স্থান, ধনী এবং গরিবের মধ্যে মোটা দাগে বিভেদ সৃষ্টি করে। কিম পরিবারের থাকার জন্য ছোট বেজমেন্ট, আলাদা টয়লেটের জন্য সামান্য জায়গাও যেখানে নেই, চিকন গলি দিয়ে সেই বেজমেন্ট থেকে যাতায়াত করা ইত্যাদি মিলিয়ে স্থানের এই ক্ষুদ্রত্ব এবং মি. পার্কের বিশাল প্রশস্ত লন এবং সুইমিংপুল দিয়ে বিন্যস্ত প্রাসাদের মতো বাড়ির বাইরে এবং ভেতরের স্থানের বিশালত্ব গরিব এবং ধনীর পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়। দেখে মনে হয়, গরিবের থাকার জন্য খুব বেশি স্পেস বা জায়গার দরকার নেই। থাকার জন্য বড় স্পেস শুধু ধনীদের দরকার। এভাবেই সমাজে বড় বড় জায়গা দখলের মধ্যে দিয়ে গরিবদের থাকার জায়গা আরও ছোট করে দেওয়া হয়। 

৩. পানি এই ছবির অন্যতম একটা মেটাফোর হিসেবে কাজ করে। বৃষ্টির সময় সব পানি, এমনকি শহরের নোংরা পানি পর্যন্ত কিমের বেজমেন্ট সহ, সেই রকম জায়গায় যারা বাস করে সেদিকে যেয়ে গড়িয়ে পড়ে। এত পানি যে কিম এবং তার ছেলে-মেয়ে যখন এক তুমুল বৃষ্টির রাতে তাদের সেই ঘরে যায়, দেখা যায় সেখানে গলা পরিমাণ পানিতে ভরে গেছে তাদের ঘর, যেখানে সামান্য দাঁড়ানোরও জায়গা পাওয়া যায় না। বলাই বাহুল্য এখানে সুয়্যারেজের নোংরা পানিও আছে। উল্টো দিকে পার্কের বাড়িতে বৃষ্টির সময়টা যেন স্বর্গ হয়ে উঠে। সেখানে পানি গড়িয়ে যাওয়া দূরে থাক, বাড়ির বিশাল লনে তাঁবু খাঁটিয়ে পার্কের ছেলে দা সং একা একা ক্যাম্পিং করে। বাড়ির বিশাল জানালা, বৃষ্টিভেজা রাতকে করে তোলে আরও রোমান্টিক। পানির এই মেটাফোর আমাদের বুঝিয়ে দেয়, পানির স্রোত যেমন উঁচু থেকে নিচের দিকে গড়ায়, জীবনের সমস্ত দুঃখ, দুর্দশা আর দুর্যোগগুলোও তেমনি ধনী থেকে গরিবের ওপর আছড়ে পড়ে।

৪. আলো আর অন্ধকারে চমৎকার মেটাফোর ধনী-গরিবের বৈষম্যকে দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক বং জুন। ছবির প্রথম কয়েকটা দৃশ্যের পর, কেভিন যখন প্রথম পার্কের বিশাল বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়, বাড়ির বাইরে একটু উঁচুতে সিঁড়ি দিয়ে যখন লনের দিকে উঠে যায়, সকালের রৌদ্রজ্জল সূর্যের আলোকিত রশ্মি ঝলকে উঠে কেভিনের মাথা আর কাঁধের ওপর। সারা ছবিতে দিনের বেলায় বিশাল সুদৃশ্য এই লন ঝকঝক করে। লনের এই ঝলমলে রোদ যেন প্রশান্তি এনে দেয়। বাড়ির পুরনো আয়া মুনকে কিম পরিবার জোর করে তাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে, বাড়ির ছোট ছেলে দা সং যখন মন খারাপ করে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, সূর্যের টলোমলো আলো তার মুখে খেলা করে, যা সিনেম্যাটোগ্রাফির অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়। রাতের অন্ধকারেও বাড়িটা আলোয় ঝলমল করে। যেন এই ধনী পরিবারে কখনো অন্ধকার নেমে আসে না। এই অন্ধকার সি ত থাকে শুধু গরিবদের জন্য। বিশেষ করে পার্কের বাড়ির রান্নাঘরের নিচে বেজমেন্টে যাওয়ার দরজাটা কয়েকটা সময় ছাড়া প্রায়ই অন্ধকার দেখা যায়। যে অন্ধকার দিকে বাড়ির পুরনো আয়া, চুং সুক, কিম প্রভৃতি চরিত্র যাতায়াত করে। সেই অন্ধকার এমনই অন্ধকার যে, দরজার ওপারে গেলে তাদের আর দেখা যায় না। সমাজের গরিব শ্রেণি এভাবেই অন্ধকারে দিনযাপন করে আর ধনীরা থাকে উজ্জ্বল সূর্যালোকের নিচে। 

৫. গন্ধ- বিশেষ করে শরীরের গন্ধকে অসাধারণ দক্ষতায় মেটাফোর হিসেবে ছবিতে ব্যবহার করা হয়। এই গন্ধ প্রথম যার নাকে আসে, তিনি হলেন বাড়ির ছোট ছেলে দা সং। যাকে জেসিকা সিজোফ্রেনিয়ার রোগী বলে ধোঁকা দেয়। সে-ই প্রথম ধরতে পারে- কিম এবং তার পরিবারের একই রকম গন্ধের বিষয়টা। শুধু সেখানেই শেষ হয়ে যায় না। গাড়িতে কিমের গায়ের গন্ধ পার্ক এবং তার বউয়ের নাকে এসে বিরক্ত করে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই এই গন্ধ নিয়ে কথা বলে, যে গন্ধের সঙ্গে সাবওয়ের গন্ধ মিলে যায়। যে সাবওয়ে দিয়ে অধিকাংশ গরিবদের চলাচল করতে হয়। পার্ক এবং তার বউয়ের মধ্যে গন্ধের এই অস্বস্তির বিষয়টা কিম কিন্তু ঠিকই ধরতে পারেন। কিন্তু গরিব বলে তার করার কিছুই থাকে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সুন্দর সুগন্ধী মাখার মধ্য দিয়ে ধনীরা নিজেদের যেভাবে সুগন্ধ করে রাখে, গরিবদের সেই আর্থিক সামর্থ্য না থাকার কারণে তারা সারাজীবন ধরে শরীরে দুর্গন্ধ বয়ে বেড়ায়। গন্ধের এই ব্যবধান কতটা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে সেটা পরে দেখব। 

৬. প্ল্যানিং বা পরিকল্পনাও ছবির অন্যতম একটা রূপক আকারে এসে হাজির হয়। প্ল্যানিং মানে নানা ধরনের ফন্দিফিকির। ছবির শুরু থেকে কিম পরিবার বিভিন্ন ধরনের প্ল্যানিং অর্থাৎ ফন্দিফিকির করে এগিয়ে যায় এবং বেশ সফলও হয়। কিন্তু দুর্যোগের সেই বৃষ্টিভেজা রাতে, রাত কাটানোর জন্য যখন কিম আর তার ছেলে বাড়ির সেমি বেজমেন্টে মাথা উঁচু পানির কারণে একটা জিমে ঘুমানোর জন্য আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, শুয়ে শুয়ে কেভিন তার বাবাকে প্রশ্ন করে-

কেভিন : তোমার এখন পরিকল্পনা কী?
কিম : তুমি কি জানো, কোন ধরনের পরিকল্পনা কখনো ব্যর্থ হয় না? (একটু থেমে) কোনো পরিকল্পনাই না করা। কেন জানো? আসলে পরিকল্পনা অনুযায়ী জীবন চলে না। এই যে জিমে এত মানুষ শুয়ে আছে বৃষ্টির জন্য, তারা কি ভেবেছিল আজ রাতে এখানে, এই সময়ে, তাদের আশ্রয় নিতে হবে? অথচ দেখ, সবাই কেমন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। তাই কারোর কোনো প্ল্যান করা ঠিক না। পরিকল্পনা নেই, ভুলও নেই। যদি ভুল হয়ও, তাতে কারোর দায় থাকে না। 

কথাটা কিম খুব যে ভুল বলেছে, তেমনটা বলা যাবে না। ব্যক্তি পর্যায়ে যেমন প্ল্যানিংয়ের নামে ফন্দিফিকির করে বেশি দূর যাওয়া যায় না, রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও তেমনি ফন্দিফিকিরের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। কথাটা অপ্রিয় সত্য হলেও, বাস্তবতা সেটাই প্রমাণ করে। 

৭. ছবির কিছু টেকনিকাল বিষয় থাকে। যে বিষয়গুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ছবির মেটাফোরকে আরও স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তোলা যায়। যেমন- কাট টু কাট শটের দৃশ্য। পরিচালক বং জুন এর যথাযথ ব্যবহার করেছেন। তুমুল বৃষ্টির দুর্যোগের সেই রাতে, একদিকে পার্কের বাড়ির ভেতরে শান্ত-সুখী পরিবেশ, অন্যদিকে কিম ও তার পরিবারের প্রচণ্ড সংগ্রাম, কাট টু কাট শটের মধ্যে দিয়ে তুলনামূলক বৈসাদৃশ্যগুলো অসাধারণ দক্ষতায় তুলে ধরা হয়েছে। ধনী এবং গরিবের পার্থক্য রচনায় কাট টু কাট দৃশ্যগুলো মেটাফোর আকারে ছবিতে হাজির হয়ে এই দুই শ্রেণির ব্যবধানকে আরও স্পষ্টতা দেয়। 

৮. ছবির সংলাপকে পর্যন্ত মেটাফোরক্যিাল করতে পরিচালক বাদ রাখেননি। কিম এবং চুং সুকের কয়েকটা সংলাপ আমরা লক্ষ্য করি-
কিম : এই পরিবারটা খুব সরল।
চুং সুক : বিশেষ করে মেয়ের মা।
কিম : খুবই সরল আর সুন্দর। তিনি ধনী, কিন্তু সুন্দর।
চুং সুক : ...তুমি কি জানো শুধু ধনী হওয়ার জন্যই তিনি সুন্দর? আমার যদি এ রকম টাকা থাকত, তাহলে আমিও এমন সুন্দর হতাম।
কিম : সত্যিই তাই। তোমাদের মা ঠিক বলেছেন। ধনী মানুষেরা সরল হয়। কোনো বিরক্তি নেই। কোনো দাগ নেই।
চুং সুক : সব দাগ ইস্ত্রি মুছে দেয়। টাকা হলো ইস্ত্রির মতো। সব দাগ মুছে মসৃণ করে দেয়। 

চুং সুকের শেষের সংলাপটা লক্ষ্য করার মতো। অর্থাৎ, অভাব জীবনকে সুন্দর হতে দেয় না, কুৎসিত করে রাখে। অন্যদিকে টাকাই শক্তি, টাকাই সব। টাকা মানুষের সব কলঙ্ক, কদর্য মুছে দিয়ে জীবনকে মসৃণ করে তোলে। মসৃণ জীবন, জীবনের ওপর কোনো দাগ ফেলতে দেয় না।

৯. সব শেষে ব্যতিক্রম হিসেবে, ধনী এবং গরিবের বৈষম্য সব ক্ষেত্রে দেখা গেলেও, এই দুই শ্রেণির মধ্যে একটা জায়গায় ভীষণ মিল দেখা যায় এবং সেটা হলো- কুসংস্কার। কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস, মেটাফোর আকারে হাজির হয় ছবিতে। যেমন ছবির প্রথম দিকে, কেভিনের বন্ধু মিন হাইউক যখন সেই পাথরটা উপহার হিসেবে নিয়ে আসে, সেই ‘স্কলারস স্টোনস’ কেভিন সারা ছবিতে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে নিজের কাছে রাখে। এমনকি সেই বৃষ্টির দুর্যোগের রাতেও যখন বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরে যায়, পানিতে সারা বেজমেন্ট ভেসে যায় এবং নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্য জায়গায় যেতে হয়, তখনো কেভিন সেই পাথরটা যত্নের সঙ্গে তুলে নিয়ে যায় নিজের সঙ্গে রাখার জন্য। স্কলারস স্টোনসের ওপর বিশ্বাস রাখার বিষয়টি কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথাগতভাবে প্রচলিত আছে। সেটা হলো- স্কলারস স্টোনস নামটা চীন দেশে প্রচলিত থাকলেও, কোরিয়ায় এটি ‘সুসিয়ক’ নামে পরিচিত। প্রায় তিন হাজার বছর আগে ভোটিভ আর্ট থেকে এর উৎপত্তি ঘটলেও, ক্রমে এসব পাথর ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিণত হয়। এই বিশ্বাস অ্যানিমিজম বা সর্বপ্রাণবাদ থেকে এসেছে। কোরিয়াসহ চীন, জাপানেও এসব বিশ্বাস প্রচলিত আছে। এই বিশ্বাস অনুযায়ী মনে করা হয়, পৃথিবীর সকল বস্তু, স্থান এবং প্রাণীর মধ্যে আধ্যাত্মিক সত্তা আছে।

সর্বপ্রাণবাদ মতে, যা কিছু দৃশ্যমান, যেমন পশু-পাখি, গাছপালা, পাথর, নদী, আবহাওয়া ইত্যাদি সকলের ভেতর আত্মা বিদ্যমান, কাজেই এসব পূজনীয়। ফলে নানান আকারের সুসিয়ক পাথর প্রাচীন কোরিয়ার বাড়িতে বাড়িতে রাখা হতো। আধুনিক কোরিয়ায় এর প্রচলন কমে গেলেও, বিশ্বাসটা থেকে গেছে। আর তাই কেভিন এই বিশ্বাস থেকেই পাথরটা তার সঙ্গে সঙ্গে রাখে। আরেকটা কুসংস্কারের জায়গা হলো ভূতে বিশ্বাস করা। পার্কের স্ত্রী চোই ইয়োন গিয়ন সেই ভূতের গল্প করে চুং সুকের সঙ্গে। কোনো এক জন্মদিনের রাতে তার ছেলে দা সং যখন কেক খাওয়ার জন্য রান্নাঘরে একা একা এসে ফ্রিজ থেকে কেক নিয়ে খাচ্ছিল, তখন বেজমেন্ট থেকে উঠে আসা সেই অন্ধকার দরজার কাছে সে ভূত দেখে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। এই ভূতের প্রসঙ্গে আমরা একটু পরে আসব। তাহলে দেখা যাচ্ছে, এই দুই পরিবারের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান থাকলেও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

এসব ছাড়াও, মোর্স কোড, মোবাইলের সেন্ড বাটন, ১৫৯২ সালে অনুষ্ঠিত জাপানের সঙ্গে কোরিয়ার হানসান দ্বীপের যুদ্ধের কথা, দুর্যোগের দীর্ঘ রাত, তেলাপোকা ইত্যাদির মতো আরও অনেক মেটাফোর ছবির নানান জায়গায় ছড়িয়ে আছে। ছবির অন্যতম চরিত্র কেভিনের মুখে ‘মেটাফোর’ শব্দটা আমরা তিনবার শুনি। এক. যখন তার বন্ধু স্কলারস স্টোনসটা দেন; দুই. দা সংয়ের হাতে আঁকা চিত্রটা দেখে সে ‘মেটাফোরিক্যাল’ বলে ওঠেন এবং তিন. বোনের কাছে যখন শোনে, তাদের বাবা পার্ক পরিবারে গাড়িচালক হিসেবে নিয়োজিত হচ্ছেন, তখন তিনি বলে ওঠেন, ‘দিস ইজ মেটাফোরিক্যাল’। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মেটাফোর এই ছবিতে একটা চরিত্র আকারে হাজির হয়, যে চরিত্র ছবিটাকে আরও স্পষ্ট এবং প্রাঞ্জল করে ফুটিয়ে তোলে। বিনোদন এবং বোঝাবুঝি হাত ধরাধরি করে চলে।

ছবির শেষ অংশটা সব থেকে আকর্ষণীয় এবং গভীরতম। ছবির এই অংশে গল্পের মোড় এক রাতের ঘটনার মধ্যে সবকিছু ওলোটপালট করে দেয়। গরিবের স্বপ্ন এবং স্বপ্ন ভঙ্গ, পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার দিকগুলো উন্মোচিত হয় এই অংশে। এটা সেই রাত, যে রাতে কিম পরিবারের মিথ্যাগুলো ধরা পড়ে যায় পুরনো আয়া মুন ওয়াংয়ের কাছে এবং মুন ওয়াংয়েরও গোপন একটা ঘটনা উন্মোচিত হয় কিম পরিবারের কাছে। দা সংয়ের জন্মদিনের আগের দিন, পার্ক পরিবার চুং সুককে বাড়ির দায়িত্বে রেখে ক্যাম্পিংয়ের জন্য বেড়িয়ে পড়ে কয়েক দিনের জন্য। সেই রাতে গোটা পরিবার কয়েক রাতের ধনী হওয়ার আনন্দে ইচ্ছামতো আনন্দ-ফুর্তি, খাওয়া-দাওয়া করে এবং মদে বিভোর হয়ে যায়। ঠিক সেই সময়ে মুন এসে হাজির হয় এবং কিম পরিবার জানতে পারে সেই বাড়ির বেজমেন্টে মুন তার স্বামী গিওন সায়েকে গত চার বছর ধরে লুকিয়ে রেখেছেন। কোনো এক দুর্ঘটনার কারণে গিওন সায়ের কফি শপ ভেঙে পড়লে তিনি ঋণের জর্জরিত হয়ে পড়েন এবং পালিয়ে থাকার কোনো জায়গা না পেয়ে পার্কের বাড়ির বেজমেন্টে জায়গা করে নেন। এই দুই গরিব পরিবার পরস্পরের কাছে ধরা পড়লে, টিকে থাকার সংগ্রামে শুরু হয় পারস্পরিক শত্রুতা। মুন তাদের সবার ছবি ভিডিও করে, পার্ক পরিবারকে প্রকাশ করার ব্ল্যাকমেইল শুরু করে, অন্যদিকে কোনো এক অসতর্ক মুহূর্তে সেই মোবাইল ছিনিয়ে নেয় কিম ও তার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে মিলে। মোবাইল কাড়াকাড়ির দৃশ্যটা দরিদ্রতার কুৎসিত দিকটি প্রকট আকারে উন্মোচিত করে। ছবির ক্লাইমেক্স এভাবে এগিয়ে চলে। 

পরের দিন, দা সাংয়ের জন্মদিনেই ঘটে সব থেকে বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘ চার বছর ধরে বেজমেন্টের অন্ধকারে, স্বাভাবিক জীবন থেকে বি ত গিওন সায়ে ব নার ভার আর বহন করতে পারেন না। হঠাৎ সেই অন্ধকার বাঙ্কার থেকে উঠে আসেন, জন্মদিনের আনন্দঘন হাস্যজ্জ্বল লনে এবং খুব দ্রুত কি জিওকে ছুরিকাঘাতে খুন করে। পার্ক যখন খুনের ঘটনায় হতভম্ব হয়ে মৃত্যু পথযাত্রী (ইতিমধ্যে গিওন সায়েকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়) গিওন সায়ের দিকে দৌঁড়ে যেয়ে তার পরিচয় জানতে চায়, গিওন তখন তীর্যক ভাষায় একটা মাত্র শব্দ ছুড়ে দেয়- ‘রেসপেক্ট’। এই রেসপেক্ট শব্দটা পার্কের দিকে ছুড়ে না দিয়ে, তিনি যেন গোটা পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে ছুড়ে দেন। কারণ পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় কোনো শোষণ নেই, যেটা আছে সেটা হলো- পরাধীনতা। পুঁজির কাছে পরাধীন থাকা। পুঁজি মূলত একটা সামাজিক সম্পর্ক। পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুঁজির অধীনে থাকা উৎপাদনের মধ্য দিয়ে সমাজে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তুলে। শ্রম বিক্রি করা ছাড়া কেউ এই ব্যবস্থায় টিকে থাকতে পারে না। আর এই ব্যবস্থার মধ্যে থেকে গিওন সায়ে দেখেছেন, তার তিল তিল করে গড়ে তোলা কফি শপ ধ্বংস হয়ে ভেঙে পড়তে, কেউ তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। উল্টো ঋণভারে জর্জরিত গিওন ঋণদাতাদের ভয়ে বাধ্য হয়ে অন্ধকারের অস্বাভাবিক জীবন বেছে নেন। মার্কস যেমন বলেছেন, পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা তার নিজের জটিলতার কারণেই একদিন ধ্বংস হবে, যেমন হয়েছে অতীতে সামন্ততান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা। পার্ক পরিবারের ধ্বংসটা যেন তার একটা ছোট্ট নমুনা হিসেবে হাজির হয়। এমনকি ছবির অনেক জায়াগায় পার্ক যখন বলেন, তিনি সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না, আসলে এই সীমা তার নিজের অজান্তে নিজের দ্বারাই পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই লঙ্ঘন প্রকাশিত হয় কিমের মাধ্যমে। ছুরিকাঘাতে বিধ্বস্ত স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পার্ক যখন কিমের কাছে গাড়ির চাবিটা চায় এবং কিম সেই চাবি ছুড়ে দেয়, কিন্তু পার্ক কিমের শরীরের সেই গরিবী গন্ধের কারণে নাক চাপা দিয়ে চাবিটা নিয়ে রওনা দেয়, পেছন থেকে যেয়ে তখন কিম পার্ককে অতর্কিত আক্রমণ করে খুন করে। কিমের ভেতর জমে থাকা গরিব হয়ে থাকার হতাশাÑ যে গরিব হওয়ার কারণে, তাকে এই দুর্গন্ধ বয়ে বেড়াতে হয়, সেই হতাশা এবং যে গন্ধের কারণে পার্ক পরিবারের কাছে বার বার অপদস্ত হতে হয় সেসব হতাশার মিশ্রণই ওই মুহূর্তে তার কাছে এসে ভর করে এবং তিনি পার্ককে খুন করেন। অথচ পার্কের প্রতি তার কোনো বিদ্বেষ ছিল না। লক্ষ্য রাখতে হবে, এখানে কেউ কিন্তু ভিলেন নন। কেউ সীমা লঙ্ঘন করছেন না। যদি ভিলেন বলে কেউ থাকে, সীমা লঙ্ঘন যদি করা হয়, সেটা পুঁজিতন্ত্রের অধীনে থাকা উৎপাদন ব্যবস্থা। আর এটি এমনই এক ব্যবস্থা, এতোগুলো খুনাখুনির পরও গরিবকে রেহাই দেয় না। গরিব গরিবই থাকে আর ধনী ধনীই থাকে।

ছবির একদম শেষে কিমের স্থান হয় পার্কের বাড়ির সেই বেজমেন্টে, যেখানে এক সময় গিওন সায়ে থাকতেন। তিনিও গিওন সায়ের মতোই বিচার, ফাঁসি ইত্যাদির ভয়ে অন্ধকারে আশ্রয় নেন। গিওন সায়ের মতো কিমও মোর্স কোডের ব্যবহার করেন, যে মোর্স কোডের মাধ্যমে ছেলেকে চিঠি লিখেন। এই আশায় যে তার চিঠি হয়তো কোনদিন ছেলের কাছে পৌঁছাবে। অথবা যে কোড দিয়ে অন্তত এসওএস (সেভ আওয়ার সোলস) লেখা যায়- কিন্তু গরিবের আত্মা বাঁচানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। কেভিনও তার বাবার উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেন, ‘আমার একটা পরিকল্পনা আছে। খুব মৌলিক পরিকল্পনা। আমাকে অনেক টাকা উপার্জন করতে হবে। অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়, কেরিয়ার, বিয়ে সব ঠিকঠাক আছে। কিন্তু সবার আগে আমাকে উপার্জন করতে হবে। আমার যখন অনেক টাকা হবে, তখন ওই বাড়িটা আমি কিনব। যেদিন মাকে নিয়ে প্রথম ওই বাড়িতে আসব, আমরা লনে ঘুরে বেড়াব, কারণ এখানে সূর্যের আলো চমৎকার খেলা করে। তখন তোমাকে যেটা করতে হবে, সেটা হলো, তুমি এই বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে আসবে। ততদিন পর্যন্ত ভালো থেকো। যদিও সেটা অনেক দিন।’ 

ছবির শুরু এবং শেষ দৃশ্য একইভাবে সেমি বেজমেন্টের সেই টিল্ট ডাউন শট দিয়ে শেষ হয়। পার্থক্য শুধু দিন আর রাতের। প্রথম দৃশ্যে দিন এবং শেষ দৃশ্যে রাত। যে রাত পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার জালে আটকা পড়ে থাকে। অথবা আটকে রাখা হয়। তাই এই রাত হয় আরও দীর্ঘ। এই রাত কেভিনের চিঠির কথাগুলোকে সত্য হতে দেয় না। গরিবকে কখনো ধনী হতে দেয় না।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //