বিশ্বসুন্দরী: নিটোল প্রেমের আবেগতাড়িত গল্প

পৌষের হালকা শীতের সন্ধ্যায় বিজয় দিবসে হাজির হয়েছিলাম রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সের এসকেএস টাওয়ার শাখায়। উদ্দেশ্য নন্দিত নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম চলচ্চিত্র ‘বিশ্বসুন্দরী’ দেখা।

গত ১১ ডিসেম্বর ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। রুম্মান রশীদ খানের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপে নির্মিত ছবিটি নিয়ে মহরতের দিন থেকেই দর্শকের আগ্রহ। 

বিশেষ প্রদর্শনীতে একে একে শোবিজ তারকাদের হাজির হতে দেখা যায়। হাজির হন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, ছবির দুই প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পী সিয়াম আহমেদ ও পরীমনি। নির্ধারিত সময়ের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ছবিটি শুরু হয়।

মনোরম পরিবেশের ডুপ্লেক্স বাড়ির দৃশ্য দেখিয়ে শুরু হয় ‘বিশ্বসুন্দরী’। নানা দৃশ্যে আস্তে আস্তে হাজির হতে শুরু করেন চরিত্ররা। বোঝা যায় মা-ছেলের চরিত্রে উপস্থিত চম্পা ও সিয়াম আহমেদ। তাদের খুনসুটির এক ফাঁকে হাজির হন আলমগীর। সিয়ামের বাবার চরিত্রে স্বল্প সময় দেখা যায় তাকে। দর্শক অপেক্ষায় ছিলেন কখন আসবেন পরীমনি। তিনি এলেন। বড়পর্দায় তার মতো সুন্দরীকে দেখে আরাম লাগে। মিষ্টি করে সংলাপ প্রক্ষেপণে পরীর জুড়ি মেলা ভার।


চয়নিকা চৌধুরী তার ট্রেন্ড ধরে রাখলেন এখানেও। এলো প্রেম। এলো গান। এলো মান-অভিমান। সিয়াম-পরীর প্রেমে মজলেন দর্শক। প্রেম জমাতে চয়নিকা সময় নিলেন। তবে তা বিরক্তিকর হয়নি। ছবির শেষ আধঘন্টায় পটভূমি বদলে যেতে শুরু করলো। কাহিনীতে এলো নতুন বাঁক। উন্মোচিত হলো ছবির নাম ও গল্পের সেতুবন্ধনের কারণ। উপস্থিত দর্শককে আবেগপ্রবণ করলেন কাহিনীকার রুম্মান রশীদ খান। চয়নিকার নির্মাণে মুগ্ধ হওয়া দর্শক তার প্রথম ছবি দেখে ‘হতাশ’ নয় ‘তৃপ্ত’ হবেন একথা নিশ্চিত করলেন নির্মাতা নিজেই। ‘বিশ্বসুন্দরী’ কে তা জানার জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করানোর কৃতিত্ব তাদের দুজনার।

ছবির অন্যতম শক্তিশালী দিক এর গল্প। সাথে যোগ হয়েছে অনন্য সব লোকেশন। ফরিদপুর, নরসিংদী, বান্দরবনের নীলগিরি, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপের মনোরম পরিবেশে শুটিং করেছেন নির্মাতা চয়নিকা। ছবির গানগুলো ছিলো শ্রুতিমধুর। ইমরান ও কনার গাওয়া কবির বকুলের লেখা ‘তুই কি আমার হবি রে’ অন্তর্জালে ছুঁয়েছে কোটি দর্শকের মন। গানটি বড়পর্দায় দেখে ভালো লাগতে বাধ্য। সিয়াম-পরীর রোমান্সে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। তাদের রোমান্টিক সংলাপ তো দর্শকের ঠোঁটে- ‘তোমার কাছে প্রেম মানে কী?’, ‘বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার সময় একটুখানি ফিরে তাকানো!’ 

ছবিতে ফজলুর রহমান বাবু অভিনয় করেছেন তার মান বজায় রেখে। কিঞ্চিৎ নেতিবাচক চরিত্রে তিনি বেশ সফল। পরীর বাবা হয়ে তার ‘আম্মু’ ডাক আনন্দ দিয়েছে উপস্থিত দর্শকদের। স্বল্প উপস্থিতিতে রুখসানা আলী হীরা ছবির আবেদন বাড়িয়ে দেন হুট করেই। নেতিবাচক চরিত্রে খালেদ হোসেন সুজন ছিলেন বেশ মানানসই। তাকে দেখে মনে হচ্ছে তাকে চাইলে নির্মাতারা এমন চরিত্রে ভাবতেই পারেন নিয়মিত। আনন্দ খালেদ ‘মামা’ চরিত্রে ছিলেন ঠিকঠাক। মনিরা মিঠুও তার অভিনয় করে গেছেন প্রয়োজন অনুযায়ী। চম্পা ছড়িয়েছেন মুগ্ধতা। তার মতো অভিনেত্রীর দেয়ার আছে অনেককিছু। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থেই তা আদায় করে নিতে হবে। 

ফুলে যেমন কাঁটা থাকে তেমনি চাইলে প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রেই ভুল বের করা যায়। ‘বিশ্বসুন্দরী’ও তার বাইরে নয়। ছবিতে কী ভুল আছে তা বের করার দায়িত্ব দর্শকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো। সামান্য কিছু অসঙ্গতির জন্য সুন্দর গল্পের চমৎকার একটি ছবি না দেখে বসে থাকা ঠিক নয়।

ছবির শেষ কয়েক মিনিট মন ছুঁয়ে যাবার মতো। 

মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য যারা সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সকলে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে সান মিউজিক অ্যাণ্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত ‘বিশ্বসুন্দরী’ শেষ করে চয়নিকাও যেন শ্রদ্ধা জানালেন দেশের বীরদের। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //