ব্যাচ ২০০৩ : ভালো লাগার ছবি

‘ব্যাচ ২০০৩’ ওয়েব ফিল্মের পোস্টার

‘ব্যাচ ২০০৩’ ওয়েব ফিল্মের পোস্টার

অনেক দিন ধরে একটি সুন্দর গল্পের খড়ায় ভুগছিল বাংলা সিনেমার দর্শক। সেই খড় কাটাতে সক্ষম হয়েছে নতুন ছবি ‘ব্যাচ ২০০৩’। 

ছবির রিভিউ লেখার আগে একটি কথা না বললেই নয় বাংলা চলচ্চিত্রের খলনায়কের বড় সংকট ছিল। বড় পর্দা কাঁপানো শক্তিমান অভিনেতা রাজীব, আহমেদ শরীফ এবং হুমায়ূন ফরিদীর পর আমাদের সিনেমায় খলনায়কের বড্ড সংকট। সেই সংকট কেটে যাবে নিশ্চয়ই। 

সেই সংকট উত্তরনে আশার আলো জাগিয়েছে এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সজল। তার নতুন ছবি ‘ব্যাচ : ২০০৩’ এ সজলের অভিনয় সেই কথাই বলছে। নতুন আরেক হুমায়ূন ফরীদির আগমন ঘটেছে। সেই হুমায়ূন ফরীদি হচ্ছেন আমাদের সবার প্রিয় রোমান্টিক অভিনেতা সজল।

সিনেমার একটি দৃশ্যে সজল ও তাসনুভা তিশা

‘ব্যাচ ২০০৩’ দেখার পর সজলের সঙ্গে কথা হলে কৌতূহলবশে জানতে চাওয়া, নায়ক থেকে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় কেন? হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি একজন অভিনেতা। আমার কাছে চরিত্রই প্রধান। চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। তাই চ্যালেঞ্জটি নিলাম। দর্শকদের প্রশংসা পাচ্ছি। আমি মনে করি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে পারাটাই একজন অভিনেতার প্রধান কাজ। 

ছবির গল্পে আসার আগে পরিচালককে একটি ধন্যবাদ দিতেই হয়। তিনি সজলের মতো একজন রোমান্টিক অভিনেতাকে দিয়ে এ ধরনের একটি চরিত্রের কথা ভেবেছেন। সজলও চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পরিচালকের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। 

‘ব্যাচ : ২০০৩’ একটি ওয়েব ফিল্ম। নাটক সিনেমায় সস্তা প্রেমের গল্পের বাইরে খুব কম ভাবেন আমাদের নির্মাতারা, সেখানে এমন একটি কাজের জন্য সাধুবাদ পাবার যোগ্য পার্থ সরকার। স্কুল-কলেজের সাইবার বুলিং কতটা ভয়াবহ হতে পারে তাই এই সিনেমার মূল গল্প। 

সিনেমার একটি দৃশ্যে সজল ও তাসনুভা তিশা

পাঁচ বন্ধুর এসএসসি ব্যাচ ২০০৩ কে ঘিরে এই সিনেমার গল্প শুরু। মারিয়া, মারজান, এষা, জোসেফ ও সুমন। করোনার দুর্বিসহ অবস্থা থেকে কিছুটা সময় নিজেদের মতো করে কাটাতে এসেছে করোনায় তাদের প্রিয় স্কুলে বারবিকিউ পার্টিতে। স্কুলের পুরনো জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে নতুন ভবন হবে। তাই পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যেতে তাদের এই হুট করে আসা। কত স্মৃতি ভেসে ওঠে তাদের। মান-অভিমানের স্মৃতি। পাওয়া না পাওয়ার আক্ষেপ। প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছাও। এরই মাঝে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হতে থাকে তাদের। এভাবেই গল্পটি এগোতে থাকে। 

রাফায়েল আহসানের গল্পে ওয়েব ফিল্মটির চিত্রনাট্য লেখা ও পরিচালনার কাজটি করেছেন পার্থ সরকার। ক্ল্যাপবোর্ড এন্টারটেইনমেন্টের ওয়েব ফিল্মটি দেখা যাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘বিঞ্জ’-এ। এই সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবদুন নূর সজল, নওশাবা, শিপন মিত্র, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময় ও তাসনুভা তিশা। 

সজল অভিনয় করেছেন সুমন চরিত্রে। সুমন বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে সহজ-সরল। শৈশবে বন্ধুদের নিপীড়নের শিকার হতেন। মুখে কিছু বলতে পারতেন না। তাকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশায় মশগুল থাকত তারা। সুমনের মতো স্কুলজীবনে অনেক টিনএজারের জীবনে ঘটে এটি। বিশেষ করে যারা অন্তর্মুখী। ফলে সাধারণ জীবনে মানসিক সংকটে পড়ে যায় কেউ কেউ। এমনই চরিত্রে সজলকে দেখা গেছে এই ছবিতে। তার মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। তা ভয়ংকর হয়ে ওঠে। 

সিনেমার একটি দৃশ্যে সজল 

সুমন চরিত্রে সজলের অভিনয়ের অভিব্যক্তি, সংলাপ যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল। চিত্রনাট্য এবং সংলাপ যিনি লিখেছেন তিনিও প্রশংসার দাবিদার।  মারিয়া চরিত্রে অভিনয় করেন নওশাবা। ‘মারিয়া’ চরিত্রেও তিনি ছিলেন সাবলীল। অন্য বন্ধুরা যেখানে সুমনের ব্যাপারে আক্রমণাত্মক সেখানে মারিয়া তার প্রতি সহনশীল। একটি পর্যায়ে তিনি সুমনকে বলেও বসেন তিনি সবসময় তার পাশে ছিলেন। 

এ ওয়েব ফিল্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘এষা’ চরিত্রে দেখা গেছে তাসনুভা তিশা। বন্ধুদের মাঝেও নিজের সামাজিক অবস্থান তুলে ধরতে পিছু হটেন না। তাকে গ্ল্যামারাস লেগেছে পুরোটা সময়। অভিনয়েও তাসনুভা ছিলেন সপ্রতিভ। ‘মারজান’ চরিত্রে দেখা গেছে বড় পর্দার নায়ক শিপন মিত্রকে। ‘জোসেফ’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়। 

‘ব্যাচ ২০০৩’ ওয়েব ফিল্মে শ্রুতিমধুর গানও আছে। সজল গেয়েছেন ‘ধ্বংস আগুন’ শীর্ষক গান। এছাড়াও শোনা যাবে দিনাত জাহান মুন্নি ও নুসরাত জাহান কৃতির কণ্ঠে দুটি গান। ওয়েব ফিল্মটির সিনেমাটোগ্রাফি ভালো ছিল। রঙের ব্যবহার হয়েছে গল্পের সঙ্গে মানানসই। আবহ সংগীতও মানিয়ে গেছে ঘটনা প্রবাহে। তবে দারুণ এই সাইকো থ্রিলার দর্শককে পুরোটা সময় চুম্বকের মতো আকর্ষণ করবে সন্দেহ নেই।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //