করোনা মোকাবেলা

প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চের দাবিনামা

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার এবং এর মোকাবলোয় প্রমাণিত হচ্ছে, মানবসভ্যতা জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রভূত অগ্রগতি সাধন করলেও প্রকৃতির বৈরিতার প্রভাব সামাল দেয়ার জন্য এখনো তা যথষ্টে নয়। প্রাণ-প্রকৃতি থেকে মানবজাতির বিচ্ছিন্নতা এর একটি বড় কারণ। বিশ্বব্যাপী এমন এক রাজনতৈকি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছেে যা অমানবিক ও প্রকৃতি বিরোধী,  যা বিভেদমূলক বা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং প্রাণ ও প্রকৃতির নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হয়েছে।     

২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের উহান প্রদেশে করোনাভাইরাসের নতুন স্টেইন “কভিড-১৯” রোগের প্রার্দুভাব দেখা দেয়। এটি মারাত্মক ছোঁয়াচে একটি ভাইরাস, যা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস তন্ত্র অচল করে দিয়ে মৃত্যু ঘটাতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি কভিড-১৯ কে ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়’ হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এর সম্ভাব্য ভয়াবহ পরণতির কথা ভেবে ১১ মার্চ ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এই ভাইরাসটির কোনো প্রতিষেধক টিকা বা কােনো পরীক্ষিত ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলার উপায় হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত পদ্ধতিগুলো হচ্ছে- পরীক্ষা করে আক্রান্ত শনাক্ত করে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, এভাবে সামাজকি দূরত্ব তৈরির মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তার আটকে দেয়া, ইতোমধ্যেই যা চীনের উহানে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ, হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলার জন্য কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা না নেয়া যাতে বিপুল মানুষ আক্রান্ত হবে ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে। এটা এমন এক অমানবিক ব্যবস্থা, যা অগ্রহণযোগ্য।

নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক প্রভাব

নভেল করোনাভাইরাস দ্রুত সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইউরোপের ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানে মারাত্মকভাবে সংক্রমতি হয়। করোনা সংকটকালে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুক চিত্র ফুটে উঠে। আক্রান্তদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা দিতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। বস্তুত দেখা যাচ্ছে, যে দেশের  স্বাস্থ্য কাঠামো যত দুর্বল সে দেশ করোনার আঘাতে তত বেশি সংকটে পড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত। এশিয়া ও আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম চিহ্নিত হলেও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ভাইরাস মোকাবলো করার জন্য সামাজকি দূরত্ব রক্ষা করতে গিয়ে একের পর এক শহর অবরোধ করতে হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, যা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ, শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে, এভিয়েশন, টুরিজ্যম, ফুড ও হোটেল ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। অনেক ব্যবসা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, ব্যাপকভাবে কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা ১৯৩০ এর দশকের ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার চাইতেও মারাত্মক মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। 

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাব

বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয় মার্চ মাসের ৮ তারিখে। কিন্তু তার বেশ কিছুদিন আগে থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবাইকে সতর্ক করে আসছিলো। সে প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে যে ধরনের জোরালো সুরক্ষা ব্যবস্থা ও উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন ছিল, তা নিতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হয় সরকার। প্রথমত, দেশের প্রবেশপথগুলো- বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের যথাযথ পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টিন করতে না পারা। দ্বিতীয়ত, কোনো কার্যকর দিক-নির্দেশনা ছাড়াই গার্মেন্টসসহ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা। তৃতীয়ত, সরকারি বন্ধের মাঝেই পোশাক শ্রমিকদের আবার কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসা এবং ঢাকায় আসার পর আবার তাদের বাড়ি যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া। চতুর্থত, জানাজাসহ বেশ কিছু সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। এই ঘটনাগুলো ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখে। প্রথমদিকে করোনা আক্রান্ত চিহ্নিত হওয়া অধিকাংশরা বিদেশ ফেরত বা তাদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে হলেও দ্রুতই তা সামাজকিভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে প্রথম থেকেই ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জামের স্বল্পতা দেখা যায়। এর ফলে টেস্টিং কিট, নমুনা সংগ্রহ, আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সম্ভাব্য আক্রান্তের তুলনায় প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসাকর্মী না থাকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম বিশেষত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় তারা চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষ সাধারণ রোগের চিকিৎসা থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় দুঃখজনকভাবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এমন অমানবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, রাস্তায় মানুষের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। 

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কাঠামোর দুর্বল দিকগুলো প্রকটভাবে সামনে চলে আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, হাসপাতালের শয্যা এবং চিকিৎসক ও নার্সের অনুপাত হতে হবে ১:৩। উন্নত রাষ্ট্রেও নার্সের অভাব চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ খাতগুলো সবচয়েে অবহেলিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এক লাখের বেশি নার্সের ঘাটতি রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে একজন চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশের কোনো কোনো হাসপাতালে ২০ জন রোগীর বিপরীতে নার্স মাত্র একজন (সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে বর্তমানে রেজিস্টার্ড নার্স ৭১ হাজার ৩৬২ জন)। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং প্রকৃত মেধাবী নার্সদের অবমূল্যায়ন, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে নার্সিং পেশা দুর্বল হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট সবচেয়ে কম। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৭ কোটি ও উন্নয়ন ব্যয় ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগরে ব্যয় বাবদ ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ও উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। সুতরাং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট জাতীয় বাজটেরে ৪.৯২ শতাংশ, যা জিডিপির ০.৮৯ শতাংশ; অথচ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরে এই হার ১.০৪ শতাংশে উন্নীত করার কথা ছিল। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জনপ্রতি বরাদ্দের পরিমাণ বছরে মাত্র ১৪২৭.৭৭ টাকা। ফলে বাজেট কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ মানবিক উন্নয়ন খাতগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করার কোনো বিকল্প নেই। 

সাধারণ ছুটি বা লকডাউন

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার মাধ্যমে সারাদেশে এক ধরনের লকডাউন পরস্থিতি তৈরি করা হয়। বিভিন্ন দেশের সাথে বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, সব ধরনের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করার পাশাপাশি ভিড় এড়িয়ে নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। এবং তা মেনে চলার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মাঠে নামানো হয়। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যায়। 

মানবাধাকির লঙ্ঘন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের কর্মচারীগণ জনগণকে লকডাউন মানতে বাধ্য করার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আইন বিবর্জিতভাবে প্রকাশ্যে মানুষকে শারীরিক শাস্তি, অপমান ও অপদস্থ করেন। এ ব্যাপারে গণ ও সামাজিক মাধ্যমে নাগরিকগণ সোচ্চার হলে কতিপয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। এছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে চিকিৎসার ক্ষেত্রেও মানবতা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।   

সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল

লকডাউনরে কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বিশেষত খাদ্যশস্য, সবজি, ডিম, দুধ ইত্যাদি ন্যায্য দামে বাজারজাত করতে ব্যর্থ হয়। যার কারণে উৎপাদনকারী কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। সাধারণ ছুটি বা লকডাউন ঘোষণার আগে বিষয়টি তেমনভাবে বিবেচনায় রাখা হয়নি। পাশাপাশি আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হয়।

জীবন ও জীবিকার উপর আঘাত

আকস্মিক লকডাউনের ফলে গ্রাম-শহরের দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের কর্ম ও জীবিকা হারিয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটে পড়েন। এ অবস্থায় সরকারের ত্রাণ কার্যক্রমের অপ্রতুলতায় মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়। লকডাউন মেনে চলা ও বেতন-ভাতার দাবিতে বেশকিছু কারখানার পশাক শ্রমিক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমজীবী মানুষ খাদ্যের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসার খবর পাওয়া যায়।     

উন্নয়ন প্রকল্পের শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্তদের ঝুঁকি

ছোঁয়াচে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে যখন সারাদশে স্থবির হয়ে পড়ে তখনও কিছু কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে স্বাভাবিকভাবে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার খবর আসে। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের খবর থেকে জানা যায়, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকরা ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এসব দাবির মধ্যে ছিল, এই মহাদুর্যোগের সময়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা, বন্ধকালীন সময়ে তাদের বেতন প্রদান ও লকডাউনের কারণে শ্রমিক ছাঁটাই না করা। রাজশাহীতে হাইটেক পার্কের কারণে উচ্ছেদ হওয়া কয়েকশ পরিবার ঠিকানাহীন হয়ে পড়ার কারণে সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উচ্ছেদ হওয়ার কারণে নাগরিক কার্ডের ঠিকানার সাথে নতুন ঠিকানা না মিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ত্রাণের জন্য তালিকাভুক্ত করছেন না। এছাড়া চলমান অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী ও শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।        

প্রধানমন্ত্রী (সরকার) কর্তৃক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

কভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস মালিকদের উত্থাপিত দাবির প্রেক্ষিতে, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা পরিশোধ করার জন্য ৫০০০ কোটি টাকার একটি আপৎকালীন ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন খাতের জন্য আরো ৬৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে,

প্যাকেজ-১: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংক–ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয়ার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা। 

প্যাকজে-২: ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা। 

প্যাকজে-৩: বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। 

প্যাকজে-৪: প্রিশিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭ শতাংশ সুদের হারে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণসুবিধা চালু করবে।

ইতোমধ্যে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সামাজিক ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে কৃষকদের জন্য আরো ৫০০০ কোটি টাকার ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কৃষকের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়নি, যা ঋণ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। অথচ প্রতিবছর এই মৌসুমে হাওর এলাকাসহ অন্য অনেক এলাকায় আগাম বন্যা, কালবৈশাখী ঝড়, শীলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে ফসলহানির ঘটনা ঘটে থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যথাযথ সহযোগিতা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যেমন খাদ্যসহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে, তেমনি তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া দ্রুতগতিতে বর্তমান কৃষি কাঠামোর ক্ষেত্রে কিছু জরুরি পরিবর্তন আনা না গেলে ফসল উৎপাদনেও বিপর্যয় ঘটতে পারে। যা খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। কারণ বৈশ্বিক পরিস্থিতি এমন একটি দিকে ধাবিত হচ্ছে যে, বহির্বিশ্ব থেকে খাদ্য আমদানি বা খাদ্য সাহায্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠবে।  

এছাড়া এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি স্বাস্থ্যখাতের জন্য কোনো প্রণোদনা দেয়া হয়নি। এ সময়ে অতি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো না গেলে ভবিষ্যতে করোনার মতো ভয়ংকর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ সময়ে যেমন প্রচুর ডাক্তার ও নার্স দরকার পাশাপাশি করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল, আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসা সামগ্রী জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন হবে। 

তাছাড়া ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো জনবান্ধব কি না এবং তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রভাব সামলাতে কতটা সক্ষম হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এ প্রেক্ষিতে, আমরা সরকারের কাছে নিম্নোক্ত উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব পেশ করছি: 

১. অবিলম্বে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন–২০১২’ মোতাবেক জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে; উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের সর্বশক্তি নিয়োগ করার পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের সমন্বয়ে ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করাসহ প্রতিটি বিপর্যস্ত খাতের জন্য আলাদা আলাদা সাব-কমিটি গঠন করতে হবে এবং এসব কমিটিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও কর্মীদের যুক্ত করতে হব। 

২. নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ- 

ক, করোনা শনাক্তের পরীক্ষার সুযোগ সারাদেশে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা। সরকারের সামর্থ বৃদ্ধির পাশাপাশি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা টেস্ট পদ্ধতি কাজে লাগানো। 

খ, করোনা চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে বড় আকারে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করা। করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসার প্রক্রিয়াগুলো শক্তভাবে মনেে চলা, যাতে তা আর ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

গ, ব্যাপকভাবে নার্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসক ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে লাগানো। নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলোজিস্টদের কাজে লাগানো। পাশাপাশি সুরক্ষাসহ উপজেলা ও কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো সক্রিয় রাখতে হবে যাতে মানুষ সাধারণ রোগের চিকিৎসা পায়।  

ঘ, সরকারি হাসপাতালসহ সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সাধারণ রোগের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এই মহাদুর্যোগের সময়ে যে সব প্রতিষ্ঠান জরুরি চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। সাধারণ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো যেন সংক্রমণের কেন্দ্রে পরিণত না হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঙ, করোনা আক্রান্ত ও মৃতদের ব্যাপারে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আমরা মনে করি, তথ্যের স্বচ্ছতা মানুষের মধ্যে এ বিষয়ক ভীতি ও আতঙ্ক দূর করতে সহায়ক হবে। পাশপাশি তা সামাজিক দূরত্ব কমিয়ে পারস্পারিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাতকে শক্তিশালী করবে।   

চ, করোনাসহ সব রকম চিকিৎসা বিনামূল্যে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।  

৩. নিম্ন আয়, শ্রমজীবী, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বস্তিতে থাকা মানুষ, জেনেভা ক্যাম্পে থাকা জনগোষ্ঠী, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, আদিবাসীসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা ইতোমধ্যেই কর্ম হারিয়ে অনাহারে আছেন বা ঝুঁকিতে পড়েছেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যথাযথ তালিকা প্রণয়ন করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী এবং নগদ অর্থ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে ভোটার কার্ডে উল্লিখিত ঠিকানা বিবেচনা না করে, এলাকাভিত্তিক জনসম্পৃক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।    

সরকারি-বেসরকারি উৎপাদনকারী ও বিপণনকারীদের মাধ্যমে বাজারে খাদ্য সরবরাহে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে হবে যাতে সবাই তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানীয় ন্যায্য মূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন। এক্ষত্রেে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। 

৪. সামনের দিনগুলোতে কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শস্য ও ফসল উৎপাদনকারী কৃষকসহ সব ধরনের কৃষকের জন্য ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক আর্থিক ও অন্যান্য প্রণোদনার (উপকরণ, পরিবহন) ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শস্য ও ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের জন্য জমির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে, যাতে কৃষক অব্যাহতভাবে চাষ করতে পারে এবং তার জমিখণ্ডে দীর্ঘমেয়াদে ফসল উৎপাদনের পরকিল্পনা করতে পারে।

উৎপাদন খরচ বিবেচনায় রেখে জীবনযাপন ব্যয়ের ভিত্তিতে উৎপাদিত ফসলের দাম নির্ধারণ করতে হবে। উক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারিত দামে সরকারি দফতরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থকেে ফসল ক্রয় করতে হবে। 

সরকাররে ধান ও শস্য ক্রয় ক্ষমতা বর্তমানের চাইতে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষত বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের অর্ধেকের বেশি সরকারকে ক্রয় করতে হবে। কারণ আমরা মনে করি, সামনের দিনগুলোতে কর্মহীন ও অনাহারী মানুষের জন্য ব্যাপকভাবে খাদ্য বিতরণ করার প্রয়োজন হবে।

ধান ও শস্য ক্রয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকারের মজুদ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি গুদামের পাশাপাশি বেসরকারি গুদাম সাময়কিভাবে হুকুমদখল করতে হবে। 

সবজি, ফল, মাছ ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্য সহজে ও কম খরচে বাজারজাত করার ব্যবস্থা করতে হবে। পণ্য পরিবহনে রেলওয়ে ও নদীপথকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।  

৫. সব ধরনের শ্রমিকের বেতন ও বোনাস নিয়মিত ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। চা বাগানে কর্মরত কয়েক লাখ শ্রমিকের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।

৬. দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন যাদের নিয়মিত বেতন নেই কিংবা অন্য কোনো প্রকার পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নেই। মোট শ্রমের সত্তর শতাংশই যেখানে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে আসে সেখানে তাদের জন্য সরকারি কোনো প্রণোদনা নেই। আমাদের দাবি, এই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে জড়িত শ্রমিকদের জন্য আলাদা সাহায্য ও প্রণোদনা বরাদ্দ করতে হবে। 

৭. অনলাইন, কমিউনিটি রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হলেও প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা এই সুবিধা গ্রহণ থকেে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে তাদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিতে হবে।

৮. লকডাউন চলাকালীন সময়ে নাগরকি নিরাপত্তার সংকট তৈরি হচ্ছে। পিপিইি পরিহিত অবস্থায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ডাক্তারের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব পালনরতদের জন্য বিশেষ চিহ্নযুক্ত পিপিই’র ব্যবস্থা করতে হবে।     

৯. আন্তঃদেশীয় জরুরি পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে বন্দরগুলো সচল রাখতে হবে।

১০. জরুরি কাজে বের হওয়া নারীরা রাস্তায় নানা রকম কটূক্তির শিকার হচ্ছেন। নারীর প্রতি সহিংসতা অন্য সময়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসেই প্রায় ৪২ জন নারী নিহত হয়েছেন। নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতার যে চিত্র বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ফুটে উঠেছে, তাতে এসব সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভবতী নারীরা জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। 

১১. সরকারের চলমান অগ্রাধিকারভিত্তিক মেগা উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে কর্মরত শ্রমিকের করোনাভাইরাস ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা প্রকল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। কম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণ-প্রকৃতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পসমূহ বন্ধ করে উক্ত বাজেট ত্রাণ ও চিকিৎসা বাবদ বরাদ্দ করতে হবে।

১২. প্রকল্প এলাকায় এবং বস্তিতে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই বাড়ির মালিক কর্তৃক উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। একই ঘটনা ডাক্তার, নার্স এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও ঘটছে। এসব উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।  

১৩. করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য, কৃষি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক মাঠে রাখতে হবে।

১৪. করোনার অর্থনৈতিক আঘাত কাটিয়ে উঠার জন্য প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতসহ মানব উন্নয়নমূলক খাতসমূহকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১৫. সর্বোপরি করোনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ কিংবা সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সমালোচনা করার কারণে যেসব ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়াও, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

সর্বোপরি, বৈশ্বিক এই মহার্দুযোগরে সময়ে দল-মত ও বিভেদ ভুলে দেশ, দেশের মানুষ, দেশের অর্থনীতি ও প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষিত রাখার জন্য সবাই মিলে যাতে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা যায় এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। 


স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি ও সংগঠন:

১. শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট

২. অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, সভাপতি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন

৩. ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রাস্ট

৪. অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন

৫. শারমনি মোর্শেদ, নির্বাহী পরিচালক, ব্রতী

৬. হাসান মেহেদী, সদস্য সচিব, বৈদেশিক দেনা বিষয়ক বাংলাদেশ কর্মজোট

৭. নুরুল আলম মাসুদ, সদস্য সচিব, খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক

৮. রাশেদ ইবনে ওবায়েদ, নির্বাহী পরিচালক, পরিবর্তন, রাজশাহী

৯. ড. ইফতেখার জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

১০. ড. ফিলিপ গাইন, সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট

১১. প্রফেসর আনু মোহাম্মদ, সদস্য সচিব, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি

১২. শরীফ জামিল, সমন্বয়ক, ওয়াটার-কিপার্স বাংলাদেশ 

১৩. শমশের আলী, প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চ।

১৪. ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সমন্বয়ক, প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চ

১৫. অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, সভাপতি, সমাজ ও পরিবেশ সুরক্ষা গণকমিশন, খুলনা 

১৬.  শাহাবউদ্দিন, সদস্য-সচিব, জন-সুরক্ষা কমিটি, কক্সবাজার।

১৭. ড. কাজী জাহেদ ইকবাল, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

১৮. এম জাকির হোসেন খান, পরিবেশ ও জলবায়ু অর্থায়ন বিশ্লেষক।

১৯.   অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া, চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য, প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চ।

২০. আনোয়ার হোসেন, সদস্য, প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চ।

২১. সারওয়াত শামীন, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য, প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চ।

২২. অপরাজিতা সঙ্গীতা, চলচ্চিত্র নির্দেশক, অ্যাক্টিভিস্ট ও সদস্য, প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চ।

২৩. নূর আলম, পশুর রিভার ওয়াটার কিপার, খুলনা।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh