তপ্ত বাতাসে বোরো ধান চিটা

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে

করোনাভাইরাসের মতো নতুনতর বৈশ্বিক দুর্যোগে কৃষিই ভরসা আমাদের। গত বছর করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন লকডাউনে ঘরবন্দি, ঠিক সেই সময়ও মাঠে ছিলেন বাংলার কৃষক। তাদের উৎপাদিত ফসল বাঁচিয়ে রেখেছে ঘরবন্দি ১৬ কোটি মানুষের জীবন ও অর্থনীতি। 

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি যেসব ব্যক্তি বা সংগঠন করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরবন্দি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে তার অধিকাংশই ছিল কৃষিপণ্য; কিন্তু এবারের মৌসুমে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখীর সঙ্গে বয়ে যাওয়া তপ্ত বাতাসে (হিট শক) বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে উঠতি বোরো ধান চিটা হয়ে গেছে। ধানগাছের সবুজ পাতা ও শীষ বিবর্ণ হতে হতে একেবারে সাদা হয়ে গেছে। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের কৃষক। এসব অঞ্চলে কমবেশি ৫০ হাজার হেক্টর ধানক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব ধানক্ষেতে ফুল আসছে ও যেখান দিয়ে বাতাস বয়ে গেছে, সে জায়গায় ধানের ফুলের রেণু পুড়ে যাওয়ায় আর পরাগায়ণ হবে না।

এর আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন চিত্র দেখা গেলেও এতটা ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি কৃষক। কৃষি বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, ‘হিট ইনজুরি’ থেকেই ধানের পরাগায়ন ব্যাহত হয়েছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ একে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত হিসেবে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তবে শুধু বৈজ্ঞানিক কারণ বিশ্নেষণ করলেই চলবে না। যেসব জমি এখনো অক্ষত রয়েছে, সেগুলোতে সব সময় পানি ধরে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে, সেটি কৃষককে ঠিকমত মেনে চলতে হবে। চিটা হয়ে যাওয়া ধানক্ষেতে কৃষক যাতে দ্রুততর সময়ে অন্য ফসল ফলাতে পারেন, সে ব্যাপারে কৃষি বিভাগের এখনই এগিয়ে আসা দরকার। 

যদিও কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ক্ষতি সামগ্রিকভাবে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তায় তেমন প্রভাব ফেলবে না; কিন্তু এ বিষয়ে গঠনমূলক তদন্ত ও গবেষণা দরকার। আবার একই ধরনের গরম বাতাস বয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কি-না, সে বিষয়ে আবহাওয়াবিদরা খতিয়ে দেখতে পারেন।

তবে সবকিছুর আগে দিশেহারা কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, এর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের বিষয়টি জড়িত। আমরা চাই, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দেয়া হোক। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষও এগিয়ে আসতে পারে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যাতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান সেই দিকটি সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh