মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

সঠিক নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা জরুরি

মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: সঠিক নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা জরুরি।

মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: সঠিক নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা জরুরি।

২৭ জুন সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকার একটি ভবনে বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত সাতজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন আছেন। বিস্ফোরণে মূল সড়কের পাশের তিনটি ভবন প্রায় বিধ্বস্ত হয় এবং আশপাশের অন্তত সাতটি ভবনের কাচ উড়ে গেছে। দুমড়ে-মুচড়ে গেছে রাস্তায় থাকা তিনটি বাস। 

আমাদের দেশে দুর্ঘটনা প্রায় নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হলেও এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন এক আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। বিস্ফোরক অধিদফতরের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছে, এটি কোনো সাধারণ বিস্ফোরণ নয়। সরকারের একাধিক সংস্থার ধারণা, এই ভবন বা আশপাশের স্যুয়ারেজ লাইন অথবা অন্য কোনো উৎস থেকে সৃষ্ট গ্যাস ভবনের আবদ্ধ কোনো স্থানে জমে গিয়েছিল। তা কোনোভাবে আগুন বা আগুনের স্ফুলিঙ্গের (স্পার্ক) সংস্পর্শে আসায় বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা একাধিক বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা বলেছেন, বিস্ফোরণস্থলে মিথেন গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেছে। স্যুয়ারেজের আবর্জনা ও স্তূপ করে রাখা ময়লা থেকে সাধারণত মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজধানীসহ সারাদেশে এ রকম বহু ভবনই রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। রাজধানীর মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হয়েছে অসংখ্য গ্যাসলাইন। এসব লাইনের কোথাও লিক হচ্ছে কিনা, কোনো ভবনের কোনো কক্ষে গ্যাস জমা হচ্ছে কিনা- এসবের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না। সঠিক নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা না থাকলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

আমরা প্রত্যাশা করব, এ বিষয়ে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেবে। এই দুর্ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে এই বিস্ফোরণের যথার্থ কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। নইলে ভবিষ্যতের জন্য সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। বড় ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে এখনো বেশিরভাগ মানুষ উদাসীন; এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও চুপচাপ। মগবাজার বিস্ফোরণের ঘটনার প্রকৃত কারণ যেহেতু এখনো জানা যায়নি, তাই আপাতত যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ, এর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবার সতর্ক হওয়া উচিত। 

তবে সবকিছুর আগে আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেইসঙ্গে এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা যদি বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি করেন, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থার পাশাপাশি ভবনের বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

-সম্পাদকীয়, সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল, ০১ জুলাই, ২০২১

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //