চরম উষ্ণতায় শীর্ষে ঢাকা

পরিবেশবান্ধব নগরের প্রতি জোর দিন

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সারাবিশ্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই চরম উষ্ণতার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের এক গবেষণায় আশঙ্কাজনক এ তথ্য উঠে এসেছে। এর ফল আসলে সুদূরপ্রসারী। কারণ তাপমাত্রা বাড়লে রোগ-জীবাণু বাড়ে। 

ডেঙ্গু, ডায়েরিয়া, ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়ায়, যার ফলে বাংলাদেশের মানুষের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। আর তাপমাত্রা চরম হয়ে ওঠার পেছনে আছে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি। ১৯৮৩ সালে যেখানে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৪০ লাখ; এখন সেখানে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস। যা এই শহরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু ঢাকা নয়, এখন যেভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে, ১০ বছর পর সেটি আরও বেড়ে গিয়ে পুরো পৃথিবীর জন্য হুমকি হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর প্রকাশিত বেশিরভাগ গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মানুষকেই দায়ী করা হয়। সারাবিশ্বে উষ্ণায়নবিরোধী প্রবল জনমত রয়েছে; কিন্তু তারপরও আর্থিকভাবে প্রভাবশালী দেশগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে প্রকৃতির সঙ্গে যথেচ্ছাচার করেছে। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশের মতো সমুদ্র উপকূলবর্তী উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুনিয়ায় নতুন এক জলবায়ু উদ্বাস্তু সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশে সিডর ও আইলার কারণে বহু মানুষ এই জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা শহরের সাত মিলিয়ন বস্তিবাসীর মধ্যে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন এই পরিবেশ-শরণার্থী। স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি জনসংখ্যা ঢাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাটি যেমন পরিবেশগত, তেমনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকও বটে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে উন্নত দেশগুলোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

তবে এর জন্য আমাদের নিজস্ব দায়ও কম নয়। নগর এলাকায় উঁচু দালান বাড়ছে, নতুন করে বিভিন্ন কারণে ঢাকামুখী হচ্ছে মানুষ। অস্বাভাবিক জন ঘনত্ব, কংক্রিটের আচ্ছাদন, অফিস-আদালত, কলকারখানা ও পরিবহনের বর্জ্য এবং প্রায় প্রতিটি বাসায়, অফিসে এসি, যানবাহনে লাগানো এয়ারকন্ডিশনারের গরম হাওয়া তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে ঢাকার উন্নয়নের দায় এড়ানো যাবে না। 

এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব নগরের প্রতি জোর দিতে হবে। নগর পরিকল্পনা ও ভবনের নকশায় আনতে হবে পরিবর্তন।  কার্বন নির্গমন কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সর্বোপরি নগর পরিকল্পনাবিদ, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের ঢাকায় বাসযোগ্যতার উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন জরুরি।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //