পঞ্চম ধাপেও সহিংসতা

প্রাপ্ত ক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করুক নির্বাচন কমিশন

সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন মহল থেকে সব অংশীজনের প্রতি আহ্বান জানালেও পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হতে পারেনি। ৫ জানুয়ারি দেশের ৭০৮টি ইউপিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের ভোটে প্রাণ গেছে ১০ জনের। ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ নানা ধরনের অনিয়মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ নির্বাচন।

তবে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এইসব সহিংসতার দায় নিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, যেহেতু সংঘর্ষে গোলাগুলি হয়েছে ভোটকেন্দ্রের বাইরে, তাই প্রার্থী ও সমর্থকদের মারামারির দায় তাদেরই। 

অথচ সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের সময় প্রশাসন ও পুলিশকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করায় সেই ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সর্বাধিক নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের সমাধান করার দায়িত্বও কমিশনেরই; কিন্তু দুঃখজনক হলো, গত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেননি যাতে নির্বাচনের উপযোগী নিরপেক্ষ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ ধাপে সহিংসতায় মারা গেছেন ৮৫ জন। ওদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪৪২টি। এ প্রেক্ষাপটে সংশয় জোরালো হয়ে ওঠে আগামী দিনগুলোয় অনুষ্ঠেয় স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনসহ জাতীয় নির্বাচনেও কি সহিংসতার এসব ঘটনা অব্যাহত থাকবে? কারণ ইউপি নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে সহিংসতার যে রূপ দেখা গেছে, তা রীতিমতো ভীতিকর।

রাজনীতি এখন ক্ষমতা অপব্যবহার করে অবৈধ অর্থ ও ধন-সম্পদ লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে উঠেছে। এ অরাজকতার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের নিতে হবে। কারণ নির্বাচনে যে কোনো প্রকারে নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। অথচ গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো, নির্বাচকমণ্ডলী তাদের বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দেবে এবং এর ফলাফল অংশগ্রহণকারী সবাইকে মেনে নিতে হবে। পরিতাপের বিষয়, অর্থ, ক্ষমতা এবং পেশিশক্তির জোরে নির্বাচনের ফলাফলকে পাল্টে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যার ফলে প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। 

আমরা আশা করব, আগামী নির্বাচনগুলো নির্বিঘ্ন ও সহিংসতামুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের হাতে যে ক্ষমতা আছে, তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তত ষষ্ঠ ও শেষ পর্বে সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে আসুক দেশ।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //