ICT Division

বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি পালন নির্বিঘ্ন করতে হবে

বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছেন, যে কোনো মুহূর্তে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এমনিতে জ্বালানি তেলের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য কারণে জনগণ আর্থিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ রকম পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের কার্যক্রম এভাবে চলতে থাকলে দেশে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। এমনকি এ মুহূর্তে আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।   

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল- বিরোধীদের সভা-সমাবেশসহ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে না। সরকারের এমন বক্তব্যে সংশ্লিষ্টরা আশা করেছিল রাজনীতিতে সহিষ্ণু পরিস্থিতি বিরাজ করবে। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনায় দেখা যাচ্ছে পুরো পরিস্থিতি উল্টো। অভিযোগ উঠেছে, মাঠ পর্যায়ে বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে বিরোধী দলগুলোর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা এ ধরনের কার্যক্রম চালাতে পারছেন না বা তাদেরকে তা করতে দেওয়া হচ্ছে না; যা মোটেও ঠিক নয়। বিএনপি বেশ কিছুদিন ধরে কোনো আন্দোলন কর্মসূচি থেকে বিরত ছিল। তবে সরকারের সাম্প্রতিক ইতিবাচক বক্তব্যে তারা উৎসাহিত হন এবং চলমান ঘটনাগুলোতে তাদের অবস্থান ও বক্তব্য পরিষ্কার করার জন্য তারা বেশ কিছু কর্মসূচি নেন। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি গত ২২ আগস্ট থেকে সারা দেশে তথা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে। 

গণমাধ্যমগুলো বলছে, গত ২২-২৮ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির কর্মসূচিগুলোকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মারমুখী অবস্থানে ছিল। এ সময়ে বিএনপির ১৯টি কর্মসূচির মধ্যে আটটি স্থানে বিএনপির নেতাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। চারটি স্থানের দলীয় কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণার কারণে আটটি উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ছয়টি স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। এছাড়া মাগুরা ও নোয়াখালীতে উল্লেখিত দুই দলের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মনে হয় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে মানা হচ্ছে না বা তাদের কথা ও কাজে সমন্বয় নেই। পরিস্থিতি যাতে খারাপ না হয় এবং বিরোধী দলগুলো যাতে তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারে সে জন্য সরকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং পুলিশকে নির্দেশ দিতে পারে। কোনো দল এবং পুলিশ ও প্রশাসন যাতে বাড়াবাড়ি না করে কিংবা সংঘর্ষে লিপ্ত না হয় সরকারের সেদিকেও নজর রাখা উচিত।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার- এটা ভুলে গেলে চলবে না এবং অবশ্যই এটা রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্র টেকসই করতে হলে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন। এটা করতে হলে প্রত্যেক বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে তাদেরকে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের মারমুখী আচরণ বন্ধ করতে হবে। জনগণের স্বার্থে দলগুলোর নেতা-কর্মীদের নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। 

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //