আবারও করোনা বাড়ছে, সতর্কতা প্রয়োজন

কয়েক মাস থেকে মানুষ করোনাকে ভুলে গিয়ে নিজেদের কাজকর্ম এমনভাবে শুরু করেছেন যে ভুলেই গেছেন মাত্র কিছুদিন আগে তারা গৃহবন্দি ছিলেন মাসের পর মাস। মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার করাসহ নানারকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতন ছিলেন।

ইদানীং মানুষ মাঝেমধ্যে খোঁজ নিতেন আক্রান্তের সংখ্যা কেমন। তবে মৃতের সংখ্যা একেবারে শূন্য হওয়ায় মানুষ অনেক স্বস্তিতে ছিলেন এবং নিয়মকানুন মানা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। 

তবে সেপ্টেম্বর থেকে তা বাড়তে থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ দিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫২৭ জন। যা আগের দিনের তুলনায় চার গুণ বেশি ছিল এবং কেউ মারা যায়নি। ১৯ সেপ্টেম্বর শনাক্ত হয়েছিল ৬০১ জন এবং মারা গেছে এক জন। ওই দিন ৫ হাজার ১৯৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং পরীক্ষা করা হয় ৫ হাজার ১৭৯টি। হঠাৎ করেই ২০ সেপ্টেম্বর করোনায় মারা গেছেন ৫ জন। চার হাজার ৮৩১টি নমুনার মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ৪ হাজার ৮২৫টি। দেড় মাস আগে গত ২৭ জুলাই ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। 

১৮ সেপ্টেম্বর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো : সভায় সবক্ষেত্রে শতভাগ মাস্ক পরা, হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা, এখনো যারা করোনার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ নেননি তাদের টিকা গ্রহণ, বদ্ধস্থানে সভা থেকে বিরত থাকাসহ দাপ্তরিক কাজগুলো যথাসম্ভব ভার্চুয়ালি সম্পাদন করা, অপরিহার্য সামাজিক অনুষ্ঠান বা সভাসমূহে মাস্ক পরা এবং বেসরকারি পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ব্যয় কমানো। 

সংবাদ মাধ্যমগুলোতে করোনা শনাক্তের হার বেশি হচ্ছে জানানো হলেও মানুষকে সতর্ক হওয়ার বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দেয়নি। বিষয়টি এখন আর হালকাভাবে নেওয়া যায় না। যেহেতু ১৮ সেপ্টেম্বর আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় চারগুণ বেড়েছিল এ থেকে বোঝা যায় করোনা আবারও জেঁকে বসেছে। এছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর একজন মারা গেলেও ২০ সেপ্টেম্বর ৫ জন মারা যায়। কজেই বোঝা যাচ্ছে আবারও করোনা বাড়তে পারে। এজন্য সরকার যে পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে তা আমাদের প্রত্যেকের মেনে চলা উচিত। বিষয়টিকে সরকারের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া এবং ব্যাপক প্রচারণা চালানো দরকার। এতে মানুষ সচেতন হবে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। 

শুধু কর্মসূচি ঘোষণা করলে হবে না, আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে তাতে দেশব্যাপী করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। করোনা কমে গিয়ে কেনো তা আবারও বেড়ে গেল এর কারণ অনুসন্ধান প্রয়োজন। হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। যাদের ঠিকভাবে টিকা নেওয়া হয়নি তাদেরকে টিকা দেওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালানো দরকার।

গণমাধ্যমগুলোতে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন এবং নির্দেশনা প্রচার করা উচিত। মানুষ এখন আগের মতো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। কেননা তারা ধরে নিয়েছে যে এখন করোনা হলেও মানুষ মারা যাচ্ছে না। কিন্তু বিষয়টি যে ঠিক নয় গত কয়েক দিনে তা প্রমাণ হয়েছে। তাই সরকার এবং জনগণের এ বিষয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত ও সচেতন থাকা দরকার। 

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //