পিএসসির নিজস্ব তদন্তে প্রমাণ, তবুও বন্ধ হয়নি প্রশ্নপত্র ফাঁস

প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ইতিহাস বাংলাদেশে বেশ পুরনো। মনে করা হয় ২০১২ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কোনো পাবলিক পরীক্ষা এই অভিযোগ ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়নি।

তবে সম্প্রতি পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা বিস্ময়কর। একটি বেসরকারি টেলিভিশন ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম বেরিয়ে আসে। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সিআইডি ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কর্মকর্তা-কর্মচারী ছয়জন। এর মধ্যে পাঁচজন এখনো কর্মরত। এদের মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছিল পিএসসি। আর পিএসসির নিজস্ব তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ হওয়ায় ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হন সৈয়দ আবেদ আলী।

প্রশ্ন হচ্ছে প্রায় ১০ বছর আগেই পিএসসির নিজস্ব অনুসন্ধান ও তদন্তে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলার পরও এই অপরাধ বন্ধ না হয়ে এর শাখা প্রশাখা আরও বিস্তৃত হলো কেন?

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা শেষে বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরিতে যোগদান করার। কিন্তু যেসব মেধাবী ১৭-১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য চাকরিটি পায়নি তাদের দায়ভার কে নেবে? প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী যেমন বঞ্চিত হয়েছেন, তেমনি নিয়োগ পেয়েছেন অযোগ্যরা। এই চরম দায়িত্বহীনতার দায় কে নেবে? 

প্রায়ই এভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে এবং ঘটনার তদন্ত না করেই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষগুলো বলে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এই অস্বীকারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সেই পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান সেই প্রশ্নপত্র করেছিল তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও ফৌজদারি অপরাধে বিচার হতে হবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //