জিয়ার কবর নিয়ে সংসদে উত্তাপ

জিয়ার কবর নিয়ে সংসদে উত্তাপ

জিয়ার কবর নিয়ে সংসদে উত্তাপ

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর বির্তকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে জাতীয় সংসদেও। জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে মিথ্যাচার করে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ আনেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। এই মন্তব্যের পাল্টা বক্তব্যে তা প্রমাণ করার দাবি জানান সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা।

এসময় বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা নয়, বলে সরকার একটা প্রচারণা চালাতে চায়। কিন্তু তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা এটা জাতীয় আর্কাইভেও লেখা আছে। এ ধরনের বক্তব্য একপাঞ্জ করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় আর্কাইভ অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩ রহিতকরণ বিলের জনমত যাচাই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বগুড়ার সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যোনে জিয়াউর রহমানের কবরে মরদেহ নেই, সেটা আপনারা কীভাবে জানলেন? আপনারা তো প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় নয়, এখন কেন এই সব কথা বলছেন? আমরা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করি, শহীদ জিয়াউর রহমানকেও শ্রদ্ধা করি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকেও আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এখন কেন এত কথা?

জবাবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এস এ খালিদ বলেন, আমরাও চাই বিকৃত ইতিহাস চর্চা বন্ধ হোক। কারণ তাহলে জিয়াউর রহমানের ভাঙা স্যুটকেসটার গল্প বন্ধ হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিজেরই উচিত প্রশ্ন করা, স্বামী ভেবে কাকে ফুল দিচ্ছেন, কাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ইতিহাস বিকৃতির সূচনা হয়েছে বিএনপির হাত ধরেই। কারণ বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর পর থেকে জাতীয় আর্কাইভে বাংলার বাণীর কোনো কপি নেই।

হারুনুর রশিদ বলেন, জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মাঠে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। তাকে নিয়ে যে অসত্য বক্তব্য দেওয়া ঠিক না।

বাংলাদেশের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা বক্তব্য উপস্থাপন করছেন যে উনি মুক্তিযোদ্ধাই না। উনি পাকিস্তানের দোসর। এখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, যারা উনার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন।

বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, তিনি জেড ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন। উনি প্রথম, তৃতীয় ও অষ্টম ব্যাটালিয়নে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সরাসরি মাঠে যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার সময় যে সেক্টর কমান্ডাররা বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধে করেছেন তার মধ্যে জেড ফোর্সে ২৮৭ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। এ সেক্টরের দুই জন বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পেয়েছেন। তারা সিপাহি হামিদুর রহমান ও ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ।

এ সময় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পটোয়ারি বলেন, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। ইতিহাস শিক্ষা দেয়। ইতিহাস বিকৃতি বিএনপিও করে। বিএনপি দাবি করে, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, তিনি বেঁচে থাকতে কোনদিন এ দাবি করেননি। বিএনপিকে আগে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করতে হবে। এরপর আওয়ামী লীগেক ইতহাস বিকৃতি বন্ধ করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //