উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে, আমাদের ভুগতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেখানে উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের তো ভুগতেই হবে। গতকাল রবিবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সামনে কী হতে যাচ্ছে- সেটা একটা আশঙ্কার ব্যাপার। প্রতিনিয়ত বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিলাসদ্রব্যের আমদানি কমাতে হবে। আঙুর-আপেলের মতো বিদেশি ফলের বদলে তিনি আমড়া-তরমুজের মতো দেশি ফল খাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

সংসদ নেতা বলেন, উন্নত দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের তো ভুগতেই হবে। আমি তো বলেছি- আমাদের তৈরি থাকতে হবে যে কোনো অবস্থায়। আমরা তো দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে।

তিনি বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডলার–সংকটের চাপ যাতে কেটে যায়, সেদিকে সরকার বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার একটা চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণপত্র খোলার বাড়তি চাপ শেষ হবে।

মন্দা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, পরিবহন খরচ বাড়ায় ভর্তুকির চাহিদা বেড়েছে। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার কোটি টাকা। এখন সেখানে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে ৩২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ দিতে হলে এই ভর্তুকি দিতে হবে। জ্বালানি তেলে অতিরিক্ত ভর্তুকি লাগছে ১৯ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। খাদ্য আমদানিতে লাগছে ৪ হাজার কোটি টাকা। টিসিবিসহ জনবান্ধব কর্মসূচিতে অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে ৯ হাজার কোটি টাকা। ১ কোটি মানুষকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। স্বল্পমূল্যে তাদের খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। কৃষি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি লাগছে ৪০ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ১০৫ কোটি টাকা শুধু ভর্তুকি চাহিদা বেড়েছে।

তিনি বলেন, গত এক বছরে বিশ্ব বাজারে চিনি, মশুরডাল সহ অন্যান্য খাদ্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। যার অধিকাংশই আমাদের আমদানী করে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে একই সময়ে চাল, গম, আটার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি ঋণ জিডিপির মাত্র ৩৬ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকার কখনো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না।

বিভিন্ন সরকারের আমলে রিজার্ভের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময় রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়নের কাছাকাছি গিয়েছিল। করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর সবকিছু উন্মুক্ত হওয়ায় আমদানি বাড়তে থাকে। রিজার্ভ কমতে থাকে। ৩ নভেম্বর রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এটি দিয়ে অন্তত পাঁচ মাসের আমদানি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তিন মাসের আমদানি করার মতো রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //