গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা কাজী নজরুল: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৮

মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অনুপ্রেরণা ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
জাতীয় কবির ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কবির সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মানবতা, দ্রোহ ও প্রেমের কবি। স্বাধীনতা সংগ্রাম, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং সম্প্রতি এক বছর আগে দুনিয়া কাঁপানো যে গণঅভ্যুত্থান দেশে হয়েছে, প্রত্যেকটি জাতীয় অর্জন, আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে যার গান ও কবিতা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছে, তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
“আমরা তার গান গাইতে গাইতে, তার কবিতা আবৃত্তি করতে করতে রাজপথে নেমে আসতাম। আমরা নিঃসংকোচিত্তে স্বৈরাশাসনের ছোড়া তপ্ত বুলেটের মাঝে দাঁড়াতে দ্বিধা করিনি। আমাদের কণ্ঠে ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান।”
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “যখন এদেশের মানুষ অধিকারহারা হয়, তখন তাদের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করে অত্যাচারীর শৃঙ্খল ভাঙার প্রত্যয় জেগে ওঠে যার কবিতা ও গানে তিনি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি প্রবন্ধ লিখেছেন, উপন্যাস লিখেছেন, নাটক লিখেছেন তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। সাহিত্যের নানা দিগন্ত ছাপিয়ে তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি। কাজী নজরুল ইসলাম হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত বাঙালির কাছে।
“যে কবি তৎকালীন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে তার শানিত কলম চালাতে দ্বিধা করেননি, তার লেখা কবিতা, গান এবং সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে যে চেতনা তিনি গোটা জাতিকে দিয়েছেন সেই চেতনাকে ধারন করেই আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।”
এখনও নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন দাবি করে রিজভী বলেন, “আমরা নানাভাবে এবং নানা দিক থেকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীদের দিক থেকে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ভেতরে বাস করছি। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যের জন্য যে আন্দেোলন, সেই গণতন্ত্র এখনও প্রতিষ্ঠা পায়নি। তবে আমাদের বিশ্বাস অতি তাড়াতাড়ি রমজানের আগেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে দেশের ভোটাররা গত ১৫-১৬ বছর যে ভোট দিতে পারেনি তা দিতে পারবে।”