বরিশালে আ.লীগ নেতাকে আটক, থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ

বরিশাল নগরীর কাউনিয়া বিসিক শিল্প নগরীতে নারী শ্রমিক উত্তক্ত করার অভিযোগে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে সড়ক অবরোধ ও নৌযান চলাচল বন্ধ করে প্রতিবাদ করেছে ক্ষমতাশীন দলের নেতাকর্মীরা। 

এর ফলে বরিশাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সকল নৌ ও সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তারা থানা ঘেরাও করে কয়েক ঘণ্টা পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ রেখে ছড়িয়ে নিয়ে যায় সোহাগ হাওলাদার নামে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে। পাশাপাশি তাকে ধরিয়ে দেয়া বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতিসহ ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

বিসিক শিল্প মালিকরা অভিযোগ করেছেন, বিসিক এলাকার বেঙ্গল বেস্টুক সংলগ্নের বাসিন্দা সোহাগ গতকাল বুধবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ফরচুন সুজের দুই নারী শ্রমিককে উত্তক্ত করে। এসময় অন্যান্য শ্রমিক ও স্থানীয়রা তাকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

সোহাগ বিসিকের বেঙ্গল বিস্কুট সংলগ্ন আব্দুল খালেকের ছেলে ও বিসিসির ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। পেশায় তিনি একজন বাস শ্রমিক।

সোহাগকে আটকের খবরে স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ তার অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা ওই নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে প্রথমে থানা ঘেরাও করেন। এতে কাজ না হওয়ায় পরবর্তীতে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাজার ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এমনকি ওই নেতাকে আটকের প্রতিবাদে বন্ধ করে দেয়া হয় বরিশাল-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল ও বেশ কিছু এলাকার দোকান-পাট।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, সোহাগ ইতিপূর্বে ফরচুন সুজ কোম্পানিতে চাকরি করতো। সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে দিলেও তার বকেয় পরিষোধ করেনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। ওই টাকা চাইতে গিয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হন তিনি। নারী উত্ত্যক্ত বলে আখ্যা দিয়ে শর্টগান ঠেকিয়ে তাকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয় ফরচুন সুজের মালিকসহ তার লোকেরা।

খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা কাউনিয়া থানা ঘেরাও ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় তারা সোহাগের ওপর হামলাকারী ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানের বিচার দাবি করেন।

স্থানীয়দের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সোহাগকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পাশাপাশি সোহাগ নিজেই বাদী হয়ে তাকে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে সোহাগকে আটকের ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে মহানগরীর কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিমুল করীম বলেন, সোহাগকে বিসিক এলাকায় ধরে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় সোহাগ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলাও করেছেন।

মামলায় বিসিক শিল্প সমিতির সভাপতি ও ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এবং মো. শফিকুর রহমান ও রবিউলের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ‘আসামিরা সোহাগকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধরসহ নির্যাতন করেছে’ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তবে থানায় ঘেরাও বা সড়ক অবরোধের কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে থানা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, একটি মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভিকটিম মামলা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং আমরা মামলা নিয়েছি। বাইরে সড়ক অবরোধ, যানবাহন চলাচল বন্ধের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh