তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে কাদের-ফখরুলের বাকযুদ্ধ

ওবায়দুল কাদের ও  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন-নির্বাচন খেলা আর হবে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ছাড়া বিএনপি কোন নির্বাচন মেনে নেবে না।

শনিবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষের ভাষা পড়েন, দেয়ালের ভাষা পড়েন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান করে সরে যান। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আমরা কোন নির্বাচনে অংশ নেবো না।’

বিএনপির আলোচনা সভা সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশস্থলে জড়ো হয়ে শুরু করে করে। মিলনায়তনে  জায়গা না পেয়ে  সহস্রাধিক নেতাকর্মী হলরুমের বাইরে অবস্থান নেয়।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, কেবল স্লোগান দিয়ে আন্দোলন হয় না। ব্যাপকগণ আন্দোলনের ডাকে সাড়া দেয়ার মত করে সংগঠনের ইউনিটগুলোকে তৈরি করতে হবে।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‌‌‘পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সময়মতো সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অযথা মাঠ গরম করবেন না।’

শনিবার (২ অক্টোবর) নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির জনসমর্থনের জোয়ার তো গত ১৩ বছরে কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি। ‘তাঁরা ভরাডুবির ভয়ে এখন নির্বাচনবিমুখ। তাই রাজপথ আর ভোটের ময়দান ছেড়ে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন।’

বিএনপির সবকিছুতেই শর্ত এবং মামার বাড়ির আবদার উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলে নাকি তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। আসলে বিএনপি ভালো করেই জানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি একটি মীমাংসিত বিষয়। 

তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছে, এ পদ্ধতি ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চলতে পারে না।

অনুরূপ ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ চাঁদপুরে এক দলীয় সমাবেশে বলেছেন, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কখনো হবে না। যদি কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সেটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।

শনিবার দুপুরে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে আয়োজিত চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে যে এটি আর কখনো কার্যকর হবে না। যারা এখনো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে অবজ্ঞা করে তাদের মনমতো কোনো সরকার দেখতে চায় তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না।’

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //