বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই: গয়েশ্বর

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এখন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। আদালত চলে ওপরের নির্দেশে। আর ওপর তলায় বসা আছেন শেখ হাসিনা। সুতরাং তাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন শব্দটা মুখে আনবেন না। শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করার পরে আসবে নির্বাচনের কথা, তার আগে না।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ নিত্যপণ্যেরর দাম কমানো এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ ১০ দফা দাবিতে মহানগর এবং বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান মুকুল ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচির পর কর্মসূচি আসবে। সেই কর্মসূচি হবে এক দফার সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের। সেই নির্বাচনের পূর্বশর্ত শেখ হাসিনার পদত্যাগ। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে কখনো নির্বাচন হবে না।

নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রস্তুতি বিএনপির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে দলের কেন্দ্রীয় এই নেতা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণসংযোগ করেন, জনগণের কাছে যান, কথা বলেন, কীভাবে শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করবেন। নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রস্তুতি বিএনপির প্রয়োজন নেই।

গয়েশ্বর আরো বলেন, শেখ হাসিনার পতনই হলো বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির ৯৯ ভাগ। এই একটা কাজ করতে পারলে দেশের জনগণ ভোট কেন্দ্রে গেলে আর যাই হোক নৌকায় ভোট দেবে না।

পদ্মা সেতু নির্মাণের নামে বস্তা ভর্তি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অপর নাম দুর্নীতি। বাংলাদেশের অর্থনীতি বলতে কোন নীতি নেই, আছে শুধু দুর্নীতি।

তিনি বলেন, এখন ব্যাংকগুলোর কি অবস্থা তা ব্যবসায়ীরা জানেন। ব্যাংকে টাকা নেই। এই সরকার হঠাৎ ধপাস করে পড়ে যাবে। হাসিনা সরকারকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। অতি দুর্বল, হাতে টাকা নেই। আছে ভারতকে তুষ্ট করে ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র।

গয়েশ্বর রায় বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের যুদ্ধ শুরু। এই যুদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। দেশের মালিক জনগণ, জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে যাকে খুশি তাকে তারা ক্ষমতায় আনবে। তাই এই হাসিনা সরকারকে তাড়াতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহাবুবুল হক নান্নু, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান ও উত্তর জেলার আহবায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লা।

এদিকে বিএনপির ১০ দফা দাবি আদায় ও গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে সমাবেশকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড, বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে সমবেত হয়। এসময় নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল কালো পতাকা।

বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয় ও সদর রোডের বিভিন্ন মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //