রোজাদারদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার

অফুরন্ত বরকত ও কল্যাণের মাস রমজানের প্রথম দশকের আজ সপ্তম দিন। দেখতে দেখতে রহমতের প্রথম দশক প্রায় শেষের দিকে। এই সাতদিনে আমরা মহান প্রভুর কতটুকু রহমতপ্রাপ্ত হয়েছি? ভাবনার বিষয়। 

আমাদের প্রতিদিন আমলের নানান রকমের ভুলত্রুটি থাকে। আর এজন্য সবসময় আমলের ওপর ইসতেগফার করা উচিত। আর শুদ্ধভাবে আমল করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। 

মাগফেরাতের দশক কড়া নাড়ছে। আমরা যারা রহমতের এই সাতদিন হেলায় ফেলায় পার করে দিয়েছি। এখন রহমতের দশকের যতটুকু সময় রয়েছে মহান আল্লাহর অফুরন্ত  রহমত প্রাপ্তির আশায় অবশিষ্ট দিনগুলোতে ক্ষমা ও মুক্তিলাভের প্রস্তুতি নিতে হবে।

রোজার বাহ্যিক ও আত্মিক সব ধরনের বিধিনিষেধ মেনে যে ব্যক্তি মাসব্যাপী রোজা রাখবে, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার। নবী করিম (সা.) বলেছেন, রোজা ও কুরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে প্রতিপালক, আমি দিনের বেলায় তাকে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কুরআন বলবে, হে প্রতিপালক, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। তিনি বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমদ)।’

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, রমজান মাসে আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি পুরস্কার দেয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেয়া হয়নি।

১. রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও অধিক প্রিয়। 

২. সমুদ্রের মাছও রোজাদারের জন্য ইফতার পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে। এর মানে ফেরেশতাসহ সব সৃষ্টিই রোজাদারের জন্য দোয়া করতে থাকে। 

৩. রোজাদারের জন্য প্রতিদিন বেহেশত সাজানো হয়। তারপর আল্লাহ বেহেশতকে বলেন, আমার নেককার বান্দারা অতিসত্তর দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট দূরে নিক্ষেপ করে তোমার মধ্যে চলে আসবে। 

৪. রমজান মাসে উচ্ছৃঙ্খল শয়তানদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ফলে তারা ওইসব গুনাহ করাতে পারে না, যেসব গুনাহ অন্য মাসে করাতে পারত। 

৫. রমজানের শেষ রাতে রাজাদারের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। তখন সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, এই গুনাহ মাফ কি শবে কদরের রাতে হয়ে থাকে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন- না, বরং শ্রমিক কাজ শেষ করার পরই মজুরি পেয়ে থাকে। এর মানে রমজান মাসে শবে কদরের পুরস্কার ছাড়াও রোজা রাখার কারণে আলাদা একটি পুরস্কার রমজানের শেষ তারিখে দেয়া হয়। সেটা হলো রোজাদারের গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়া (মুসনাদে আহমাদ)।

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে সিয়াম পালন করবে তার অতীতের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে’ (বুখারি ও মুসলিম)। 

ইহতিসাব অর্থ আল্লাহর কাছে রোজার পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা এবং সন্তুষ্টচিত্তে একনিষ্ঠভাবে সিয়াম পালন করা।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh