সহানুভূতি ও দান সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন

মাগফিরাত দশকের আজ দ্বিতীয় দিন। দেখতে দেখতে আমরা মধ্য রমজানের কাছাকাছি চলে আসছি। 

পবিত্র এ মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি, জান্নাত প্রাপ্তি ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে হলে অর্থাৎ মুমিন থেকে মুত্তাকি হতে হলে মুহাম্মদ (সা.) যেভাবে সিয়াম পালন করতেন ঠিক  সেভাবেই আমাদের সিয়াম পালন করতে হবে। 

সারাদিন উপোস করা ও বড়জোর তারাবির সালাত আদায় করতে পারলেই নিজেকে বড় রোজা ভেবে নিই। অথচ বাস্তবতা এমন নয়। রমজানের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম হলো সারাদিন না খেয়ে সারা বছর যেসব গরিব-দুঃখী মানুষ না খেয়ে থাকে, তাদের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করে নিজেকে সংযমী হিসাবে গড়ে তোলা। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, নানা রকমের ইফতারির আয়োজন আর রকমারি সেহেরি রোজার মৌলিক উদ্দেশ্যকেই বিনষ্ট করে না; বরং রীতিমতো আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গায় একেকজন সবচেয়ে বেশি অপচয়কারী  হয়ে উঠি এ মাসে।

রাসুল (সা.)-এর সেহেরি ও ইফতারি এবং আমাদের সেহেরি ও ইফতারির মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। জাঁকজমকহীন অনাড়ম্বর রোজা পালন করতেন রাসুল (সা.)। তাঁর সেহেরি ও ইফতার ছিল সাধারণের চেয়েও সাধারণ। 

আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) কয়েকটি ভেজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভেজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভেজা বা শুকনো খেজুর কোনোটাই না পেলে কয়েক ঢোক পানি দিয়েই হতো তার ইফতার’ (তিরমিজি)। রাসুল (সা.) সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করতে পছন্দ করতেন। ইফতারে দেরি করা তিনি পছন্দ করতেন না।  

তেমনিভাবে রাসুল (সা.)-এর সেহেরিও ছিল খুব সাধারণ। তিনি (সা.) দেরি করে একেবারে শেষ সময়ে সেহেরি করতেন। সেহেরিতে তিনি দুধ ও খেজুর পছন্দ করতেন। সেহেরিতে সময় নিয়ে কঠোরতা করা তিনি (সা.) পছন্দ করতেন না।

করোনায় আক্রান্ত এবারের রমজানে কত মানুষ কোনোরকম খেয়ে না খেয়ে জীবন পার করছেন। এ সময়ে পথে বসে গেছেন কত সামর্থ্যবান মানুষও। রাসুল (সা.)-এর আদর্শের অনুসরণে প্রতিদিনের সেহেরি ও ইফতারির আয়োজনে আমরা যথাসাধ্য মিতব্যয়ী হয়ে দানের হাতকে সম্প্রসারিত করতে পারলে বহু দুঃখী মানুষের মুখে যেমন হাসি ফুটবে তেমনি রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য দানশীলতার গুণ অর্জন হবে।

হাদিসে রমজান মাসকে হামদর্দি বা ‘সহানুভূতির মাস’ আখ্যায়িত করা হয়েছে। বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী রাসুল (সা.) সারা বছর দান করতেন আর রমজানে প্রবাহিত বাতাসের মতো দান করতেন। 

আল্লাহ বলেন, তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা কতই না উত্তম, আর যদি গোপনে কর এবং অভাবীকে দাও, তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম’ (সুরা বাকারা : ২৭১)। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh