কোরবানির টাকা বন্যার্তদের দান করা যাবে কি

ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সব নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।

তবুও আরেকটি বড় উৎসবের অপেক্ষায় দেশের মুসলিম উম্মাহ। দিন বিশেক পরেই আসছে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। 

বন্যা পরিস্থিতিতে দেশে বহু মানুষের জীবন ও জীবিকায় তৈরি হয়েছে নানা সঙ্কট। তাই কেউ কেউ বলছেন, এবারের ঈদে কোরবানির বদলে তারা নির্ধারিত অর্থ বন্যার্তদের মধ্যে দানের কথা। 

কিন্তু এমনটা করা ইসলামে জায়েজ নেই। কোরবানি ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবানের জন্য কোরবানি করা আবশ্যক। সামর্থ্যের পরও কেউ কোরবানি না করলে হাদিসে তার বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি এসেছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থের পরও কোরবানি দেয় না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব, পৃষ্ঠা : ২৫৬)

রাসুল (সা.) আরো বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে কোরবানির দিনগুলোতে (জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ) কোরবানির চেয়ে অধিক পছন্দনের কোনো আমল নেই।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪৯৩)

তাই কোরবানির দিনগুলোতে বুদ্ধিমান, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকিম এবং নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর শর্তানুসারে পশু জবাই করা ওয়াজিব। নির্ধারিত দিনে সামর্থবান হওয়ার পরও কোরবানি না দিয়ে বিকল্প হিসেবে এর মূল্য দান করলে কোরবানি আদায় হবে না।

অতএব কোরবানির বদলে দান-সদকা যথেষ্ট নয়; বরং নির্ধারিত ব্যক্তির ওপর কোরবানিই করতে হবে। পক্ষান্তরে নিজ শহর ও রাজ্যে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলে, অন্য কোনো স্থানে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পশু কোরবানির ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।

আর কোরবানির দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও নিজে বা কারো মাধ্যমে কোরবানি আদায় করা সম্ভব হয়নি, এমন পরিস্থিতিতে দুই ধরনের পন্থা হতে পারে। এক. আগে থেকে পশু ক্রয় করা থাকলে তা জীবিত সদকা করতে হবে। তা একজন বা একাধিক ব্যক্তি ক্রয় করুক। দুই. পশু ক্রয় করা না থাকলে মধ্যম পর্যায়ের একটি ছাগলের মূল্য বা বড় পশুর এক সপ্তমাংশের মূল্য সদকা করতে হবে।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //