ভারতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে করোনা

মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভারতে নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনের সংক্রমণ হারে শীর্ষ দেশটিতে গত একদিনে প্রায় ৯৮ হাজার মানুষের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ হাজার ৮৯৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে করে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, গত একদিনে প্রাণহানি ঘটেছে ১ হাজার ১৩২ জনের। এ নিয়ে করোনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ হাজার ১৯৮ জনের মৃত্যু হলো। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬ কোটি ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে সর্বাধিক সংক্রমণ ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে। তারপরেই, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, দিল্লি, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক এবং তেলেঙ্গানা। বিশ্ব তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত দেশ হলো ভারত।

এদিকে মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩০ হাজার ৮৮৩ জন মানুষের। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অন্ধ্রপ্রদেশে করোনার শিকার ৫ লাখ ৯২ হাজারের অধিক মানুষ। তবে, প্রাণহানি কিছুটা কম এখানে। যার সংখ্যা ৬ হাজারের কাছাকাছি।

তিনে থাকা তামিলনাড়ুতে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ১৯ হাজারের বেশি। চারে থাকা কর্ণাটকে করোনার ভুক্তভোগী ৫ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ। যেখানে প্রাণহানি ৭ হাজার ৫৩৬ জন।

উত্তর প্রদেশে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে ভুগে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ৬৯০ জন মানুষ।

আর রাজধানী দিল্লিতে করোনা হানা দিয়েছে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের দেহে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ৮৩৯ জন। বর্তমানে সেখানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে করোনার দাপট।

সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতে প্রথমদিকে শারীরিক দূরত্বের উপর জোর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন লকডাউনের কড়াকড়ি নেই। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ায় বাজার-হাট, গণপরিবহনে বেড়েছে লোকের ভিড়। বেড়েছে একে অপরের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাও। তাই, প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা।

আর গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতা লাভ করেছেন ৮২ হাজার ৭১৯ জন রোগী। এতে করে বেঁচে ফেরার সংখ্যা বেড়ে ৪০ লাখ ২৫ হাজার ৭৯ জনে পৌঁছেছে। দেশটিতে বর্তমানে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৯ হাজার ৯৭৬ জন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh