মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় না দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার মণিপুরে

ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

বিতর্কের মুখে মিয়ানমারের শরণার্থীদের নিয়ে সুর নরম করল ভারতের মণিপুর রাজ্য সরকার। সরকারি নির্দেশিকার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে আজ মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) সরকারের তরফে দাবি করা হয়। 

পাশাপাশি এটাও জানানো হয়েছে, মিয়ানমার থেকে আগত শরণার্থীদের যথেষ্ট খেয়াল রাখা হচ্ছে। সরকার তাদের সব ধরণের সহযোগিতা করছে।

মিয়ানমারের শরণার্থীদর নিয়ে গত ২৬ মার্চ একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল মণিপুর সরকার। সেখানে বলা হয়েছিল, মিয়ানমার থেকে আগত শরণার্থীদের আশ্রয়, খাবার দেয়া যাবে না। তবে মানবিকতার খাতিরে শরণার্থীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেয়া যেতে পারে।

তারপরই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বীরেন সিংহের সরকারকে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে শরণার্থীদের প্রতি সরকারের অনমনীয় মনোভাব নিয়ে। কার্যত চাপের মুখে পড়েই সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠল মণিপুর সরকার।

মিয়ানমার সীমান্ত লাগোয়া মণিপুরের জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- চান্দেল, তেংনোপল, কামজোঙ, উখরুল ও চুড়াচাঁদপুর। মিয়ানমার থেকে যাতে শরণার্থীরা মণিপুরে অবৈধ উপায়ে ঢুকতে না পারেন তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সোমবার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসনগুলোকে। 

তবে জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেছেন তাদের দেশ থেকে আগত শরণার্থীদের মানবিকতার খাতিরে আশ্রয় ও খাবার দেয়া হোক। তার মতে, দু’দেশের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের এক সম্পর্ক ও ইতিহাস জড়িয়ে আছে, সেটা ভুলে না যাওয়াই ভাল। কিন্তু মণিপুর সরকার জেলা প্রশাসনগুলোকে শরণার্থী শিবির না খোলার নির্দেশ দেয়। যারা এ দেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করবেন তাদের আর্জি যেন বিনম্রতার সাথেই খারিজ করে দেয়া হয়। শরণার্থীদর প্রতি এ হেন দৃষ্টিভঙ্গি ও পদক্ষেপের কারণে মণিপুর সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠতেই কাতারে কাতারে মানুষ সে দেশ থেকে আতঙ্কে মণিপুর, মিজোরামে আশ্রয় নেয়ার জন্য ছুটে আসছেন। মণিপুর মুখ ফেরালেও মিজোরাম সরকার শরণার্থীদের প্রতি নরম মনোভাবই পোষণ করেছে। গত এক মাসের মধ্যে মিয়ানমার থেকে মিজোরামে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। সরকারি হিসেব বলছে- সোমবার পর্যন্ত এই সংখ্যাটা ছিল ১ হাজার ৪২। 

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা জানিয়েছেন মিয়ামারের চিন সম্প্রদায়ের সাথে যেহেতু তার রাজ্যের মানুষদের এক নিবিড় যোগ রয়েছে, তাই সে দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের শোচনীয় অবস্থা দেখে মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারবেন না। -আনন্দবাজার পত্রিকা

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh