পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুর গুজব

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুর খবর সত্য নয়, এটি গুজব। তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা বেশি ভালো নয়। 

পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করলেও মোশাররফের পরিবারের তরফে টুইটারে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, এই খবর ভুয়া। 

তবে মোশাররফ যে গুরুতর অসুস্থ এবং বেশ কিছু দিন ধরে দুবাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি, তা বিভিন্ন সূত্র থেকেই জানা যাচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার (১০ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে পারভেজ মোশাররফের টুইটার থেকে পরিবারের সদস্যরা এক টুইট বার্তায় জানান,  ‘তিন সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পারভেজ মোশাররফ। তিনি অ্যামিলয়ডোসিস রোগে আক্রান্ত। তার বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাচ্ছে। এটা পারভেজ ও আমাদের পরিবারের সবার পক্ষে অত্যন্ত দুঃসময়। যাতে তিনি একটু স্বস্তি পান, আপনারা সবাই সেই প্রার্থনাই করুন।’ 

পরিবারের তরফে এই কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই মোশাররফের ঘনিষ্ঠ তথা দেশের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফওয়াদ চৌধুরি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একটু আগেই মোশাররফের ছেলে বিলালের সাথে কথা হল। তারা সবাই এখন দুবাইয়ে। সাবেক প্রেসিডেন্টের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।’ 

বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতিতে মোশাররফের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা আরো বেড়েছে। রাত পর্যন্ত পরিবার বা পাক সরকারের সূত্রে আর কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন পারভেজ মোশাররফ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিয়ে ২০০২ সালে সাধারণ নির্বাচনে মত দেন তিনি। দেশে ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার’ জন্য পশ্চিমি দুনিয়ার নেকনজরেও পড়ে যান।  ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। গদি বাঁচাতে দেশে ফের জরুরি অবস্থা জারি করেন। পরে ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট প্রেসিডেন্ট পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি।

২০০৮ সালেই যুক্তরাজ্যে চলে যান মোশাররফ। ২০১৩ সালে নির্বাচন লড়তে দেশে ফিরলেও বিশ্বাসঘাতকতার মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। নিজের ফার্মহাউসেই গৃহবন্দি করে রাখা হয় তাকে। চিকিৎসার জন্য ২০১৬ সালে তাকে দুবাই যাওয়ার অনুমতি দেন সুপ্রিম কোর্ট। সে বছর মার্চ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই রয়েছেন তিনি। 

যদিও সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ। দেশদ্রোহের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে যদি মোশাররফের মৃত্যু হয়, তাহলে তার মৃতদেহ ইসলামাবাদের ডি-চকে ঝুলিয়ে রাখা হবে, এই রায় দিয়েছিল পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন আদালত। 

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //