চিংড়ি রফতানিতে আশার আলো

করোনার ভয়াল ছোবলে বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। বৈশ্বিক এ মহামারিতে যখন সবাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে তখন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়িচাষিরা আশার আলো জোগাচ্ছে চিংড়ি রফতানিতে। 

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও  চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের জুলাই  থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ২১ হাজার ৪৯০ টন মাছ। যার মূল্য এক হাজার ৫৭১ কাটি টাকা। গত (২০১৯-২০২০) অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল  থেকে মাছ রফতানির পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৫৪০ টন। যার মূল্য দুই হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। করোনার মধ্যে চলতি অর্থবছরের সাত মাসে রফতানি যথেষ্ট ভালো বলেই দাবী করছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।

করোনা পরিস্থিতিতে উচ্চ মূল্যে  পোনা ক্রয় ও মাছের খাবারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়ে চিংড়ি চাষিরা।  কিন্তু চিংড়ির দাম অর্ধেকে নেমে আসায় লোকসান গুনতে হয় এ অঞ্চলের হাজার হাজার চাষির। ইতিমধ্যে চাষিদের লোকসান পুষিয়ে নিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হয়েছে প্রণোদনা। করোনার প্রথম কয়েক মাস চিংড়ি রফতানিতে ভাটা পড়লেও সেটি এখন কেটে গেছে। এমনটাই জানিয়েছেন চিংড়ি চাষি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের চিংড়ি চাষি খান আসাদুজ্জামান মিন্টু জানান, গলদা-বাগদা চাষ লাভজনক ব্যবসা। ১৯৯৭ সাল থেকে চিংড়ি চাষ করে আসছি। খুবই ভালো যাচ্ছিল। সম্প্রতি করোনার প্রভাবে মাছের দাম কমে যায়। ২০ গ্রেডের যে মাছ ৮৩০-৮৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, সেই মাছ বিক্রি করতে হয় ৫২০-৫৩০ টাকায়। মাছের মূল্য অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আমরা। মাছ চাষে মাসে দেড় লাখ টাকা আয় ছিল। কিন্তু করোনাকালীন সেই আয় ৫০ হাজার টাকায়  নেমেছে। চলতি বছর (২০২১) ভালো লাভের আশায় প্রস্তুতি নিয়েছি। সেই অনুযায়ী ঘের প্রস্তুত করছি। 

মৎস্য কর্মকর্তা, হিমায়িত চিংড়ি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ও চাষিরা জানিয়েছেন, হিমায়িত চিংড়ি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরায় দেশের সবচেয়ে বেশি চিংড়ি চাষ হয়। ঘের মালিকরা চাষকৃত চিংড়ি আড়তগুলোতে সরবরাহ করেন। হিমায়িত চিংড়ি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় মৎস্য আড়তদারদের কাছ থেকে বাগদা অথবা গলদা চিংড়ি সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে রফতানি করে। কিন্তু করোনার কারণে চিংড়ি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আড়তগুলো থেকে চিংড়ি সংগ্রহ বন্ধ করে  দেয়। ফলে পাইকারি বাজারে মাছের দরপতন হয়। সেই প্রভাব পড়ে ঘের ব্যবসায়ীদের ওপর। 

ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চাষিদের রেণু বেশি দামে কিনতে হয়। আগে এক হাজার রেণু কিনতে হতো এক হাজার টাকায়। এখন সেটি তিন হাজার টাকায় কিনতে হয়। মাছ চাষের যে খাদ্য  সেটিরও দাম বেড়েছে। অন্যদিকে মাছ বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। 

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু ছাইদ বলেন, করোনার কারণে চিংড়ি চাষিরা সঠিক সময়ে মৎস্য আহরণ করতে পারছেন না। সেই সঙ্গে চিংড়ি উৎপাদনের উপকরণ সামগ্রীর সমস্যা, করোনাকালীন নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে চাষিরা খাদ্য ঠিকমতো কিনতে পারেননি। সেই সময় শ্রমিকেরও সংকট ছিল। যে কারণে অধিক মূল্য দিয়ে শ্রমিক নিতে হয়েছে। এসব কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে যতটুকু ক্ষতি হয়েছে, সরকার সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ পরিদর্শক জাহিদুল হাসান রুহিন বলেন,  ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে মাছ রফতানি হয়েছে ২৯ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন। যার মূল্য দুই হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ২১ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন মাছ। যার মূল্য এক হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। করোনার মধ্যেই চলতি অর্থবছরের সাত মাসে রফতানি খুবই ভালো। 

খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মজিনুর রহমান বলেন, করোনার কারণে প্রথম দুই তিন মাস রফতানিতে ভাটা পড়ে। তবে পরবর্তীতে ফের রফতানি স্বাভাবিক হয়ে যায়। সামগ্রিকভাবে এখন রফতানি ভালো।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh