বংশবৃদ্ধি ঘটাতে সক্ষম কি রোবট?

প্রথমবারের মতো প্রতিরূপ তৈরির ক্ষমতাসম্পন্ন রোবট বানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই রোবট সিলিকন বা ধাতুর তৈরি নয়। এটি মূলত প্রোগ্রাম করা একধরনের স্টেম সেল, যেগুলোকে উষ্ণ জায়গায় রেখে প্রাণের সঞ্চারণ করতে সক্ষম হয়েছেন (ইনকিউবেট) বিজ্ঞানীরা। 

আফ্রিকার এক ধরনের ব্যাঙের (জেনোপাস লেভিস) স্টেম কোষ ব্যবহার করে ওই রোবট তৈরির পর নাম দেওয়া হয় ‘জেনোবট’। এই রোবট বংশবৃদ্ধি ঘটাতে পারে। সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেছেন আমেরিকার ভারমন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। এর প্রতিরূপ তৈরি এমনভাবে ঘটে, যা আগে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। 

বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ভারমন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও রোবোটিক্সের অধ্যাপক জশ বোনগার্ড। তিনি বলেন, ‘রোবট শুনলেই বেশির ভাগ লোক মনে করেন, ধাতু বা সিরামিক দিয়ে তৈরি কিছু; কিন্তু রোবটের অর্থ সেটা নয়। রোবট হলো এমন কিছু, যা মানুষের হয়ে নিজের মতো কাজ করতে পারে।’ বোনগার্ডের কথায়, ‘এটা রোবটই। তবে হ্যাঁ, এটি একটি জীবও। ব্যাঙের কোষ থেকে কোনো রকম জিনগত পরিবর্তন না ঘটিয়ে এটিকে তৈরি করা হয়েছে। এটি চিরাচরিতভাবে চেনা রোবট নয়, আবার কোনো নতুন প্রাণীর প্রজাতিও নয়। নতুন ধরনের আর্টিফ্যাক্টস। বলা যায়, জীবন্ত, নিয়ন্ত্রণযোগ্য জীব।’

এই রোবট নিয়ে গবেষণায় কাজ করেছেন ভারমন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েসিস ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যালি ইন্সপায়ারড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষকেরা। এই গবেষণাকে তারা বলছে, ‘বায়োলজিক্যালি ইনস্পায়ারড ইঞ্জিনিয়ারিং’। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেনোবটের প্রজনন ক্ষমতা একেবারে ভিন্ন। প্রাণী বা উদ্ভিদ জগতে যেভাবে প্রজনন হয়, এর সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।

এই গবেষণার অন্যতম মুখ্য ভূমিকায় থাকা বিজ্ঞানী, টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালেন ডিসকভারি সেন্টারের ডিরেক্টর, তথা জীব বিশেষজ্ঞ মাইকেল লেভিন বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। ব্যাঙের একটি নিজস্ব প্রজননব্যবস্থা রয়েছে; কিন্তু তার কোষগুলোকে যখন ভ্রুণ থেকে আলাদা করা হয়েছে, একটি নতুন পরিবেশে নিজেদের মতো বাঁচার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তারা শুধু নিজেদের মতো চলার রাস্তা খুঁজে নেয়নি, প্রজননের পথও বের করে নিয়েছে।’

এক মিলিমিটারেরও কম, ০.০৪ ইঞ্চি মাপের জেনোবটের একটি নির্দিষ্ট দৈহিক গঠন আছে। সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে সেই গঠন তৈরি করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। এমন একটি আকার এদের দেওয়া হয়েছে, যা জীবজগতে আগে ছিল না। এদের কাজ কি?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জেনোবটের কর্মপরিধি হবে বিস্তৃত। সেনাবাহিনীতে ব্যবহার করা যাবে এদের। কীভাবে, তা অবশ্য ভাঙেননি কেউ। উল্লেখ্য, এই গবেষণায় অর্থায়ন করেছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও।

এ ছাড়া চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে একে। মানুষের শরীরের ভেতরে এর সাহায্যে ওষুধ পাঠানো হবে। ধমনিতে রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি হলে, তা সারাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সেল বায়োলজির গবেষণাতেও সাহায্য করবে। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পরিষ্কার বা সমুদ্র থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক সংগ্রহের মতো কাজও নিমিষে করে ফেলবে ‘জীবন্ত রোবট’।


লেখক : আসিফ, বিজ্ঞান বক্তা ও সম্পাদক- মহাবৃত্ত

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //