কতক্ষণ আর কীভাবে হাঁটবেন

ছবি: গুগল

ছবি: গুগল

স্বাস্থ্য ও শরীর ভালো রাখার ছোট্ট একটা টনিক হলো হাঁটা। নিয়মিত হেঁটেই নিজেকে সুস্থ রাখা যায়। আধুনিক জীবনযাত্রা, পেশাগত চাপ ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে যে সব অসুখ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে, তাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাঁটাকেই অন্যতম সমাধান হিসেবে দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। 

ডায়াবেটিস থেকে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল থেকে ওবেসিটির ওষুধ শুধু মাইলের পর মাইল হাঁটা। কাজের ফাঁকে হাঁটার সময় পাওয়া যাচ্ছে না বলে টেনশনও কম নেই। অনেকে তো হাঁটাহাঁটির প্রভাব আরো বাড়াতে জিমেও ভর্তি হন।

কিন্তু আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই, কতক্ষণ আর কী ভাবে হাঁটা প্রয়োজন। আর এই অজানা কারণেই অনেক সময় নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করলেও সহজে ঝরতে চায় না মেদ। অথবা অসুখের ভোগান্তি পিছু ছাড়ে না।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ল্যাবরেটরিজ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. শুভাগত চৌধুরী বলেছেন, যেকোনো সময়েই হাঁটতে পারেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনি হাঁটার জন্য যখন সময় বের করতে পারবেন, তখনই হাঁটবেন। তবে হাঁটার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় বিকেল।

ভারতের কলকাতার ফিটনেস এক্সপার্ট ও ডায়েট বিশেষজ্ঞ রেশমি মিত্রের মতে, কতটা হাঁটছি তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কী ভাবে হাঁটছি। মোটামুটি ৩০ মিনিট হাঁটা খুবই জরুরি। কিন্তু এই ৩০ মিনিট মানে, তা কখনোই ভেঙে ভেঙে কয়েক ধাপে নয়। বরং একটানা হেঁটে বা দু’ধাপেই তা ৩০ মিনিট পূর্ণ করা উচিত।


এ ছাড়াও হাঁটার জন্য বেশ কিছু নিয়ম মানা দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলো হলো:

১. একটানা অনেকক্ষণ নয়। চেষ্টা করুন অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট হাঁটার। এতে হৃৎপিণ্ড যে গতিশীল অবস্থায় পৌঁছায় তার স্থায়ীত্ব বেশ কিছুক্ষণ থাকে। ফলে শরীরের মেদ ঝরাতে বা অসুখ মোকাবেলা করতে সাহায্য করে।

২. ধীরে ধীরে বা খুব দ্রুত নয়, বরং ঘণ্টায় ২.৫ থেকে ৩ কিলোমিটার গতিতে হাঁটুন।

৩. অনেকই বাড়ির ছাদে বা ছোট মাঠের এ মাথা-ও মাথা হাঁটেন। এতে কিন্তু খুব একটা কাজ হয় না। বারবার বাঁক বদলে হাঁটার গতি কমে ও একটানা সোজা পথ ধরে হাঁটার যে উপকার তা পাওয়া যায় না। বরং চেষ্টা করুন রাস্তা ধরে বা বড় পার্কে একটানা অনেকটা হাঁটতে।

৪. দিনের যে কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় হাঁটার চেষ্টা করুন। খুব ঘড়ি ধরে না পারলেও অন্তত ওই সময়টা মেনে চলুন। এতে শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক খুব বেশি হেরফের হবে না। যেকোনো রুটিনেই এটা বজায় রাখা জরুরি।

৫. সকালে হেঁটে এসেই অনেকে চা-কফি খেয়ে ফেলেন, কেউ বা ঘুমিয়েও নেন একটু। এ সব করবেন না। এতে যেটুকু মেদ ঝরিয়ে এলেন, তার অনেকটাই আবার শরীরকে ফেরত দেয়া হয়।

৬. পোষ্য নিয়ে হাঁটতে বের হন অনেকে। এতে হাঁটার গতি বাড়ে না, হাঁটায় বাধাও আসে। তাই ওই ভুল নয়। বরং পোষ্য নিয়ে পরে বেড়াতে বেরোন, কিন্তু হাঁটার সময় একা হাঁটুন। এই সময় মোবাইল বা বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে হাঁটবেন না। মোবাইল ঘাঁটলে বা গল্পের প্রভাবে হাঁটার গতি ও প্রকৃতি স্বাভাবিক থাকে না।

৭. হাঁটার সময় চেষ্টা করুন স্বাভাবিক পোশাক পরতে। খুব খোলামেলা বা খুব আঁটসাঁট পোশাক শরীরের রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখে না।

৮. খাওয়ার ঠিক আগে বা খাওয়া শেষ করেই হাঁটা উচিত না। যারা সকাল, বিকেল বা সন্ধ্যার পর হাঁটতে সময় পান না, তারা তিন বেলা খাওয়ার পর ১০ মিনিট করে হাঁটতে পারেন। এ সময় হাঁটতে পারলে শরীরের জন্য বেশ উপকার হয়। সুগার ও ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে খাওয়ার পর ১০ মিনিট হাঁটা।


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh