খুব কম সময়ে ওজন কমালে দেখা দিতে পারে যে সমস্যা

শুধুমাত্র বেশি খাওয়ার কারণেই নয়, ওজন বেড়ে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনিয়মিত লাইফস্টাইল থেকে অত্যধিক চিন্তা- এমন অনেক কারণ রয়েছে, যার জন্য ওজন বৃদ্ধি পায়। 

আর সেই বেড়ে যাওয়া অত্যধিক ওজন কমাতে গিয়ে নাজেহাল হতে যাচ্ছেন। শরীরচর্চা করছেন, জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন আবার ডায়েট মেনে খাবারও খাচ্ছেন। কিন্তু তারপরও কিছুতেই অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারছেন না। বরং ওজন দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

আবার অনেকে নিজেদের খাওয়া-দাওয়া বা শরীরচর্চার মাত্রা হঠাৎ পাল্টে ফেলেন। ভাবি তাতে অনেকটা কমে যাবে ওজন। কিন্তু তার ছাপ গিয়ে পড়ে শরীরের উপর। দ্রুত ওজন ঝরালে সেটা অনেক ক্ষেত্রেই শরীরের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে। 

হঠাৎ এই ওজনের ঘাটতি নানা ধরনের অসুস্থতার কারণ হয়ে ওঠে। সেগুলো হলো-

পুষ্টির অভাব

হঠাৎ খাওয়া-দাওয়ায় বেশি পরিবর্তন আনলে, শরীরের ক্যালরি প্রাপ্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। যার কারণে অপুষ্টিতে ভুগতে পারেন। ওজন কমানোর নাম করে সবার আগে কোপে পড়ে আমাদের খাদ্যতালিকা। ডায়েটে হঠাৎ কোনো পার্থক্য আনলে তা শরীরে ছাপ ফেলতে বাধ্য।

চামড়া আলগা হয়ে আসে

ওজনের হঠাৎ ঘাটতি হলে শরীর শুকিয়ে যেতে পারে। যার ফলে চামড়া অনেক সময়ে আলগা হয়ে আসে। এছাড়া চেহারায় ক্লান্তির ছাপ, ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হওয়া অথবা ত্বকের সজীবতা হারানো ইত্যাদি সমস্যা হয়।

লিভারের সমস্যা

দ্রুত ওজন কমে গেলে লিভারে অনেক সময়ে চাপ পড়ে। ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ হঠাৎ অতিরিক্ত কমে বা বেড়ে গেলে লিভারের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

গলস্টোনের সমস্যা

যাদের ওজন দ্রুত কমে যায়, তাদের জন্য গলস্টোনের আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি মাত্রায় দেখা দেয়। ওজন কমানোর নাম করে খাওয়া-দাওয়ায় ঘাটতি হলে শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত থেকে যায়। যার চাপ পড়ে প্যানক্রিয়াসের উপর। ফলে গলস্টোনের আশঙ্কা বেড়ে যেতেই পারে।

পেশির ক্ষয়

শরীরের ফ্যাট ঝরাতে গিয়ে অনেক সময়েই তার ছাপ পড়ে পেশির উপর। ক্যালরির পরিমাণ খুব কমে গেলে শরীরের চাহিদার মতো শক্তির জন্য পেশির উপর বাড়তি চাপ পড়ে। যার ফলে পেশির ক্ষয় হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, সুস্থ থাকতে ও ওজন কমাতে হলে ব্যালেন্স ডায়েট ও শারীরিক কৌশল অত্যন্ত জরুরি। ঘরে তৈরি খাবার ও প্রচুর শাকসবজি, হোল গ্রেইন জাতীয় খাদ্য,প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন ডিম, দুধ, মাছ,মাংস ইত্যাদি প্রতিদিন খাওয়া উচিত। সারাদিনে একটা/দুটো গোটা ফল খাওয়া। বেশি তেলেভাজা জিনিস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা। বাইরের খাবার না খাওয়া। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা। আর ভালো স্বাস্থ্যকর খাবার আপনাকে অনেক রোগের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে।

ওজন কমাতে কাজকর্ম, শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করতেই হবে। যে ধরনের ব্যায়াম একজন মানুষের জন্য সহজ ও সহ্য ক্ষমতার মধ্যে, ততটুকু করলেও চলবে। নিয়মিত হাঁটাচলা, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, অল্প দূরত্বে গাড়ি বা রিকশা পরিহার করে হেঁটে চলার অভ্যাস করতে হবে। এগুলো শরীরের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //